আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

গ্রামের দিকে প্রচলন আছে বিয়েতে কবুল বলার আগে স্বামী পরপুরুষ থাকে তাই তার দেওয়া শাড়ী গয়না দিয়ে সাজা যাবেনা। তাই বাড়ির সাধারণ পোশাক পরিয়ে কবুল বলার পর  বরপক্ষের আনা জিনিসপত্র দিয়ে সাজানো হয়। অনেক সময় মায়ের বাড়ির দেওয়া শুধু ব্লাউজ পেটিকোট পরিয়েও বেপর্দা করে কবুল পড়ানো হয়।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে বিয়ের আগে বরপক্ষের দেওয়া এ ধরণের উপহার সামগ্রী গ্রহন করা কি আসলেই নাজায়েজ?  ( যেমন বিয়ের শাড়ী, গয়না, সাজগোজের জিনিসপত্র ইত্যাদি)

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান হলো কাহারো সম্পদ তার সন্তুষ্টি ব্যাতিত ব্যবহার করা জায়েজ হবেনা। 

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡکُلُوۡۤا اَمۡوَالَکُمۡ بَیۡنَکُمۡ بِالۡبَاطِلِ اِلَّاۤ اَنۡ تَکُوۡنَ تِجَارَۃً عَنۡ تَرَاضٍ مِّنۡکُمۡ ۟ وَ لَا تَقۡتُلُوۡۤا اَنۡفُسَکُمۡ ؕ اِنَّ اللّٰہَ کَانَ بِکُمۡ رَحِیۡمًا ﴿۲۹﴾ 
হে মুমিনগণ! তোমরা একে অপরের সম্পত্তি অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না; কিন্তু তোমরা পরস্পর রাযী হয়ে ব্যবসা করা বৈধ এবং নিজেদেরকে হত্যা করো না; নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
(সুরা নিসা ২৯)

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 
عَنْ أَبِىْ حُرَّةَ الرَّقَّاشِىِّ عَنْ عَمِّه قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللّٰهِ ﷺ : «أَلَا لَا تَظْلِمُوا أَلَا لَا يَحِلُّ مَالُ امْرِئٍ إِلَّا بِطِيبِ نَفْسٍ مِنْهُ». رَوَاهُ الْبَيْهَقِىُّ فِىْ شُعَبِ الْإِيْمَانِ وَالدَّارَقُطْنِىِّ فِى الْمُجْتَبٰى

আবূ হুররাহ্ আর্ রক্কাশী (রহঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ সাবধান! কারো ওপর জুলুম করবে না। সাবধান! কারো মাল তার মনোতুষ্টি ছাড়া কারো জন্য হালাল নয়।
আহমাদ ২০৬৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৫১০৫, ইরওয়া ১৪৫৯, সহীহ আল জামি‘ ৭৬৬২।

https://www.ifatwa.info/38085/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ خَالِهِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الرَّاشِي وَالْمُرْتَشِي " .

আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতার উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
(তিরমিযী ১৩৩৭, আবূ দাউদ ৩৫৮০, ৬৫৯৬, ৬৭৩৯, ৬৭৯১, ৬৯৪৫, ইরওয়া ২৬২০, মিশকাত ৩৭৫৩, রাওদুন নাদীর ৫৮৩, আত-তালীকুর রাগীব ৩/১৪৩।)

★বিবাহের সময় বড়কে সন্তুষ্টি চিত্তে কিছু পোশাক দিতে চাইলে তাহা দেওয়া যাবে । 
তবে বাধ্যবাধকতা থাকলে এসব লেনদেন বৈধ হবে না। তবে যদি এমনিতে খুশি মনে হাদিয়া দিতে চাইলে তা গ্রহণ ও প্রদানে কোন সমস্যা নেই।

لعن رسول الله صلى الله عليه وسلم الراشى والمرتشى، ومن الرشوة ما أخذه ولى المرأة قبل النكاح إذا كان بالسوال، او كان إعطاء الزوج بناءا على عدم رضائه على تقدير عدمه، أما إذا كان بلا سوال ولا عن عدم رضائه فيكون هدية فيجوز (مجموعة الفتاوى-2/230)
সারমর্মঃ
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহীতার উপর অভিসম্পাত করেছেন,এর মধ্যে বিবাহে পাত্রীর বাবা বিবাহের পূর্বে যাহা গ্রহন করে থাকে,তাহাও অন্তর্ভুক্ত, যদি চাওয়া ব্যাতিত সন্তুষ্টি চিত্তেই দেয়,তাহলে সেটি হাদিয়া হবে। 
তাহা গ্রহন জায়েজ হবে।

★বিয়ের সময় চাওয়া ও আগ্রহ ছাড়া সন্তুষ্টি চিত্তে প্রশ্নে উল্লেখিত পদ্ধতিতে বড়কে  হাদিয়া প্রদানের মাঝে কোন সমস্যা নেই।
কিন্তু বর পক্ষ অভিযোগ উত্থাপন করতে পারে, এ ভয়ে বড়কে দামি পোশাক প্রদান করলে তা গ্রহণ করা মাকরূহ হবে। কারণ, তখন আর এটি হাদিয়া-তোহফার পর্যায়ে থাকবে না, বরং তা ঘুষের পর্যায়ে চলে যাবে। যা নাজায়েজ।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন  
বিয়ে পুরোপুরি ঠিক হওয়ার পর বিয়ের আগে বরপক্ষ যদি কাহারো চাপে নয় বরং সন্তুষ্টি চিত্তে হবু বউকে এসব উপহার দেয়,তাহলে তাদের দেওয়া এ ধরণের উপহার সামগ্রী গ্রহন করা জায়েজ আছে।

এতে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ হতে সমস্যা নেই।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...