আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
65 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (64 points)
আমার একজন খুব কাছের আত্মীয় আছেন।

কোনো এক অদ্ভুত কারণে,  তাঁর কিছু কাজকর্ম কথাবার্তায় খুবই প্রচন্ড রাগ আসে আমার।  আমি প্রায় সারাক্ষণ মনে মনে তাকে দোষারোপ করতে থাকি। তার শত ভুল আমার মনে আসতে থাকে অনেক বেশি কুধারণা আসতে থাকে যে আমি নিজের উপর খুব বিরক্ত হয়ে যাই। আর গীবতের ভয়ে কারো কাছে কিছু বলতেও পারি না। মনের ভেতর আজেবাজে কথা ঘুরপাক খেতেই থাকে।

 বিশেষ করে দ্বীনের ব্যাপারে তার গাফলতিতে আমার বেশি রাগ উঠে।  তাঁর ব্যাপারেই আমার এই রোগ কেন সৃষ্টি হয়েছে আমি জানিনা, অন্য কারো ক্ষেত্রে এমন কখনও হয় নি।

আমি জানতে চাচ্ছিলাম,  আমার মনের এই অবস্থা থেকে বাঁচার জন্য আমি যদি তাঁর সাথে শুধুমাত্র হাই হ্যালোর সম্পর্ক রাখি এবং দ্বীনের দাওয়াত ও আর না দেই। তাঁকে তার অবস্থার উপর ছেড়ে দেই এবং তার হেদায়েতের জন্য কোনো চিন্তাও না করি তাহলে কি আমার গুনাহ হবে?  অর্থাৎ আমি শুধু তার সাথে নূন্যতম যতটুকু না রাখলেই না ততটুকু সম্পর্ক রাখতে চাচ্ছি।


আর তাকে চিনে না এমন কারো কাছে যদি আমার মনের সব কথা বলে দেই তাহলে গুনাহ হবে?

1 Answer

0 votes
by (766,770 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/18346/ ফতোয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ 
আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা নাজায়েজ,এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাঃ অনেক কঠোরভাষা ব্যবহার করেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে  

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " . - صحيح

জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

.(বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ১৯-(২৫৫৫), আবূ দাঊদ ১৬৯৬, তিরমিযী ১৯০৯, সহীহুল জামি‘ ৭৬৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৪০ সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০২৩৪, মুসনাদুল বাযযার ৩৪০৫, আহমাদ ১৬৭৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৩৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৫২, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯১, আর মু‘জামুল আওসাত্ব ৯২৮৭।)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যদি তার সাথে পুরোপুরি আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করেন,সেক্ষেত্রে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর শাস্তি পাবেন।

আপাতত তার সাথে সালাম ও কুশল বিনিময় চালিয়ে যাবেন। প্রয়োজনীয় কথা থাকলে তাহা বলবেন। সুখে দুঃখে যথাসাধ্য পাশে দাঁড়াবেন।

এবং মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাদের হেদায়াতের জন্য দোয়া চালিয়ে যাবেন।

আপনি যদি তার হেদায়েতের জন্য কোন চিন্তা না করেন সেক্ষেত্রে এরজন্য আপনার গুনাহ হবে না।

আপনি যদি তার ব্যাপারে এমন কারো নিকট গীবত করেন যে তাকে চেনে না, সেক্ষেত্রে তার নাম পরিচয় ব্যতীত যদি অজানা ব্যক্তি হিসেবে যদি গীবত করেন, সেক্ষেত্রে আপনার গীবতের গুনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...