জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
লাহনে জলি (অর্থ পরিবর্তন) হয়, এমন ভুল পড়ার দ্বারা নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। অতএব কমপক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যে সুরাগুলোর প্রয়োজন, সেগুলো (সুরা ফাতেহা ব্যাতিত কমপক্ষে চারটি সুরা) শুদ্ধ করে নেওয়া আবশ্যক, অন্যথায় সে গুনাহগার হবে।
মহান আল্লাহ তাআলার কালাম তিলাওয়াতের বিশেষ নিয়ম ও আদব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরস্থির ভাবে, স্পষ্টরূপে। -সূরা মুযযাম্মিল (৭৩) : ৪
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
زينوا القرآن بأصواتكم
সুন্দর সূরের মাধ্যমে কুরআনকে (এর তিলাওয়াতকে) সৌন্দর্যমণ্ডিত কর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬৮
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম ইরশাদ করেছেন, (কিয়ামতের দিন) কুরআনের তিলাওয়াতকারী বা হাফেজকে বলা হবে-
اقْرَأْ، وَارْتَقِ، وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا.
তিলাওয়াত করতে থাক এবং উপরে উঠতে থাক। ধীরে ধীরে তিলাওয়াত কর, যেভাবে ধীরে ধীরে দুনিয়াতে তিলাওয়াত করতে। তোমার অবস্থান হবে সর্বশেষ আয়াতের স্থলে যা তুমি তিলাওয়াত করতে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬৪; জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯১৪
নামাজের কেরাতে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়, এমন ভুল পড়লে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। চাই তা তিন আয়াত পরিমাণের ভেতর হোক বা পরে হোক- সর্বাবস্থায় একই হুকুম। পক্ষান্তরে সাধারণ ভুল- যার দ্বারা অর্থ একেবারে বিগড়ে যায় না, তাতে নামাজ নষ্ট হবে না। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৮, ফাতাওয়া কাজিখান ১/৬৭)
,
নামাযের কেরাতে যদি তাজবীদে ভূল হয়,যাকে লাহলে খাফী বলা হয়,তাহলে উক্ত নামাযকে দোহড়ানের প্রয়োজন নেই।
তবে যদি নামাযে এমন কোনো ভূল হয়,যার কারণে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়,(এক্ষেত্রে তাজবীদ বিভাগের লাহনে জালী গ্রহণযোগ্য নয়,কেননা তাজবীদের পরিভাষায় এক হরফের স্থলে অন্য হরফ পড়ে নিলেই লাহনে জলী হয়ে যায়,চায় নিকটবর্তী মাখরাজ হোক বা দূরবর্তী মাখরাজ হোক,চায় অর্থ সঠিক থাকুক বা নাই থাকুক)
কিন্তু ফুকাহায়ে কেরাম দূরবর্তী মাখরাজের উচ্ছারণের সময়ে এবং অর্থ বিগড়ে যাওয়ার সময়ে নামাযকে ফাসিদ হওয়ার ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন।
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে অনিচ্ছাকৃতভাবে এভাবে তিলাওয়াতের দরুন এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যাবেনা। তবে এভাবে আর তেলাওয়াত করা যাবে না দ্রুত শুদ্ধ তেলাওয়াত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
(০২)
এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।
(০৩)
এতে হক নষ্ট হবে না।
(০৪)
এক্ষেত্রে আপনার ফজরের নামাজ আদায় হবে না। পরবর্তীতে সেই সে নামাজ-এর কাজা আদায় করে নিতে হবে।
(০৫)
এতে তার নামাজ আদায় হয়েছে।
(০৬)
মাথা,কপাল,নাক সহ চেহারা বরাবর জায়গা উদ্দেশ্য।
(০৭)
হ্যাঁ, পারবেন।
(০৮)
বৈধ ভাবে বৈধ কোনো কিছু লিখে ইনকাম করা জায়েজ আছে।
(০৯)
আপনার নামাজ আদায় হয়েছে।
(১০)
এক্ষেত্রে আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। কোন গুনাহ হবে না।
(১১)
আপনার প্রবল ধারণার উপর আমল করবেন।
(১২)
হ্যাঁ, বসতে পারবেন।
(১৩)
জায়েজ আছে।
(১৪)
এক্ষেত্রে আপনি মসজিদে গিয়ে জামাতের নামাজে শরিক হবেন। তদুপরি আপনার এলাকার অবস্থা যদি এরকম মারাত্মক হয়, আপনার মসজিদে যাতায়াতের পথে যেই রাস্তা সেই রাস্তাতেই যদি এরকম গন্ডগোল হয় সেক্ষেত্র গন্ডগোল এর সময় আপনি বাসায় নামাজ আদায় করতে পারেন।
তবে পরবর্তীতে পরিবেশ শান্ত হওয়ার পর অন্যান্য নামাজ গুলি মসজিদে আদায় করবেন।