আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
70 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (41 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ,

‌১. সুরা লাহাব এর ৫ নং আয়াতে جِیۡدِہَا অংশে ‌دِہَا এর "দাল" হরফটি যদি এক আলিফ টান দিয়ে পড়ি তবে কি নামাজ ভেঙ্গে যাবে এবং  নামাজের ভিতরে বা বাইরে এভাবে পড়লে কি গুণাহ হবে?

 ২. যদি সুরা কাউসার এর ২ নং আয়াতে فَصَلِّ لِرَبِّکَ وَانۡحَرۡ ؕ  এর وَانۡحَرۡ অংশে যদি ভুল করে গোল হা পড়ি তবে কি নামাজ ভেঙ্গে যাবে?

৩. যদি কারো বাসা থেকে বা পাশের রুম থেকে নাটক,গান,গজলের আওয়াজ আসলে তা শুনলে কি হক নষ্ট হবে?

৪. যদি ফজরের নামাজ শেষ করে দেখি যে, ওয়াক্ত সীমা পের হয়ে এক মিনিট বেশি হয়ে গেছে তবে নামাজ কি আদায় হবে? যেমন নামাজের ওয়াক্ত ছিল ৬:৩৮ পর্যন্ত ও সূর্যোদয় ‌৬:৩৯ কিন্তু নামাজ শেষ করে দেখি ৬:৩৯ বাজে এক্ষেত্রে নামাজ কি আদায় হবে?
(ফরজ ২৮ শে ডিসেম্বর ২০২৫)

        
৫. যদি কারো নামাজে সিজদা সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয় কিন্তু তার প্রবল ধারণা সে দুইটি সিজদা  দিয়েছে আর সে স্বাভাবিক ভাবে নামাজ শেষ করে তার নামাজ কি হয়েছে?

৬. নামাজে দাড়ানো অবস্থায় চোখ সিজদার স্থানে রাখার অর্থ কি তার চোখ এমন জায়গায় রাখবে যেখানে সে সিজদার সময় তার নাক রাখবে?

৭. আমার বাড়ির সামনে উঠান আছে। আশেপাশের বিল্ডিং থেকে যদি গান বাজনার আওয়াজ আসে আর আমি যদি তাতে মনযোগ না দেই তবে কি আমি উঠানে অবস্থান করতে পারবো?(প্রয়োজন ছাড়া বা প্রয়োজনে)

৮. ই-বুক লিখে ইনকাম করা জায়েয?

৯.সিজদাতে সুবহানা রব্বিয়াল আ'লা তে "আইন" উচ্চারণ করেছি কিনা তা নিয়ে সন্দেহ হলে নামাজ কি আদায় হবে?(তবে প্রবল ধারনা যে, "আইন" উচ্চারণ করেছি।)

১০. নামাজে ১ম সালাম ফেরানোর পর মাথা পূর্বের অবস্থায় আনার আগে যদি ইচ্ছা করে বা ভুল করে যদি ২য় সালাম বলি তবে কি নামাজ হবে আর এতে কি গুণাহ হবে?আর যদি এই বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় অর্থাৎ কাজটি করেছি কিনা তা নিশ্চিত নয় তবে নামাজ কি আদায় হবে এবং এতে কি গুনাহ হবে?

১১. নামাজে রুকু করেছি কিনা ও রুকুর পর সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছি কিনা তা নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয় কি?তবে আমার প্রবল ধারণা যে রুকু করেছি ও রুকুর পর সোজা হয়ে দাড়িয়েছি।এখন আমার নামাজ কি হয়েছে?(ফজরের ফরজ নামাজ কাযা আদায় এর সময় এমনটা হয়েছে ২২ জানুয়ারি ২০২৫)

১২. বাসের ইঞ্জিনের সিটে যদি মহিলা বসল আর ঐ মহিলার পাশে আমার কোনো মাহরাম নারী বা কোন পুরুষ বসল তবে আমি কি ঐ সিটে মাহরাম বা পুরুষের সাথে বসতে পারবো?(যদি নন মাহরাম নারীদের থেকে দৃষ্টি সংযত রাখতে পারি)

১৩.নিজেকে রাসুলের সৈনিক বলা বা অমুক অলী মুজাহিদ এর সৈনিক বা উত্তরসূরী,রূহানী সন্তান বলা কি জায়েয?

১৪. নির্বাচনের এই গোলযোগ পরিস্থিতিতে হত্যা বা আক্রমণের স্বীকার বা দুর্ঘটনার স্বীকার(যেমন ২ পক্ষের সন্ত্রাসবাদী বন্দুকযুদ্ধে বা ভুল বোঝাবুঝিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়া) হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এমতাবস্থায় আমি তো জামাতে নামাজে যেতে চাই কিন্তু আম্মু যদি যেতে মানা করে তবে কি করব?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
লাহনে জলি (অর্থ পরিবর্তন) হয়, এমন ভুল পড়ার দ্বারা নামাজ নষ্ট হয়ে যায়। অতএব কমপক্ষে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জন্য যে সুরাগুলোর প্রয়োজন, সেগুলো (সুরা ফাতেহা ব্যাতিত কমপক্ষে চারটি সুরা) শুদ্ধ করে নেওয়া আবশ্যক, অন্যথায় সে গুনাহগার হবে। 
মহান আল্লাহ তাআলার কালাম তিলাওয়াতের বিশেষ নিয়ম ও আদব রয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন-
وَرَتِّلِ الْقُرْآنَ تَرْتِيلًا
কুরআন তিলাওয়াত কর ধীরস্থির ভাবে, স্পষ্টরূপে। -সূরা মুযযাম্মিল (৭৩) : ৪

হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
زينوا القرآن بأصواتكم
সুন্দর সূরের মাধ্যমে কুরআনকে  (এর তিলাওয়াতকে) সৌন্দর্যমণ্ডিত কর। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬৮

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লম ইরশাদ করেছেন, (কিয়ামতের দিন) কুরআনের তিলাওয়াতকারী বা হাফেজকে বলা হবে-
اقْرَأْ، وَارْتَقِ، وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَؤُهَا.
তিলাওয়াত করতে থাক এবং উপরে উঠতে থাক। ধীরে ধীরে তিলাওয়াত কর, যেভাবে ধীরে ধীরে দুনিয়াতে তিলাওয়াত করতে। তোমার অবস্থান হবে সর্বশেষ আয়াতের স্থলে যা তুমি তিলাওয়াত করতে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৪৬৪; জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯১৪

নামাজের কেরাতে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়, এমন ভুল পড়লে নামাজ নষ্ট হয়ে যাবে। চাই তা তিন আয়াত পরিমাণের ভেতর হোক বা পরে হোক- সর্বাবস্থায় একই হুকুম। পক্ষান্তরে সাধারণ ভুল- যার দ্বারা অর্থ একেবারে বিগড়ে যায় না, তাতে নামাজ নষ্ট হবে না। (খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১১৮, ফাতাওয়া কাজিখান ১/৬৭)

,
https://www.ifatwa.info/4350 নং ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে,
নামাযের কেরাতে যদি তাজবীদে ভূল হয়,যাকে লাহলে খাফী বলা হয়,তাহলে উক্ত নামাযকে দোহড়ানের প্রয়োজন নেই।

তাজবীদ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/1126

তবে যদি নামাযে এমন কোনো ভূল হয়,যার কারণে অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়,(এক্ষেত্রে তাজবীদ বিভাগের লাহনে জালী গ্রহণযোগ্য নয়,কেননা তাজবীদের পরিভাষায় এক হরফের স্থলে অন্য হরফ পড়ে নিলেই লাহনে জলী হয়ে যায়,চায় নিকটবর্তী মাখরাজ হোক বা দূরবর্তী মাখরাজ হোক,চায় অর্থ সঠিক থাকুক বা নাই থাকুক)

কিন্তু ফুকাহায়ে কেরাম দূরবর্তী মাখরাজের উচ্ছারণের সময়ে এবং অর্থ বিগড়ে যাওয়ার সময়ে নামাযকে ফাসিদ হওয়ার ফাতাওয়া দিয়ে থাকেন।
   
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে অনিচ্ছাকৃতভাবে এভাবে তিলাওয়াতের দরুন এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যাবেনা। তবে এভাবে আর তেলাওয়াত করা যাবে না দ্রুত শুদ্ধ তেলাওয়াত চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

(০২)
এক্ষেত্রে নামাজ ভেঙ্গে যাবে।

(০৩)
এতে হক নষ্ট হবে না।

(০৪)
এক্ষেত্রে আপনার ফজরের নামাজ আদায় হবে না। পরবর্তীতে সেই সে নামাজ-এর কাজা আদায় করে নিতে হবে।

(০৫)
এতে তার নামাজ আদায় হয়েছে।

(০৬)
মাথা,কপাল,নাক সহ চেহারা বরাবর জায়গা উদ্দেশ্য। 

(০৭)
হ্যাঁ, পারবেন।

(০৮)
বৈধ ভাবে বৈধ কোনো কিছু লিখে ইনকাম করা জায়েজ আছে।

(০৯)
আপনার নামাজ আদায় হয়েছে।

(১০)
এক্ষেত্রে আপনার নামাজ আদায় হয়ে যাবে। কোন গুনাহ হবে না।

(১১)
আপনার প্রবল ধারণার উপর আমল করবেন।

(১২)
হ্যাঁ, বসতে পারবেন।

(১৩)
জায়েজ আছে।

(১৪)
এক্ষেত্রে আপনি মসজিদে গিয়ে জামাতের নামাজে শরিক হবেন। তদুপরি আপনার এলাকার অবস্থা যদি এরকম মারাত্মক হয়, আপনার মসজিদে যাতায়াতের পথে যেই রাস্তা সেই রাস্তাতেই যদি এরকম গন্ডগোল হয় সেক্ষেত্র গন্ডগোল এর সময় আপনি বাসায় নামাজ আদায় করতে পারেন।

তবে পরবর্তীতে পরিবেশ শান্ত হওয়ার পর অন্যান্য নামাজ গুলি মসজিদে আদায় করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 426 views
...