জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ-
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ...
“হে মুমিনগণ! যখন তোমরা সালাতে দাঁড়াতে চাও, তখন তোমরা তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত করবে …”
(সূরা আল-মায়িদাহ: ৬)
এই আয়াত থেকে আলেমরা বলেন,পবিত্রতা আল্লাহর নিকট উপস্থিত হওয়ার শর্ত
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
إِنَّ اللَّهَ طَيِّبٌ يُحِبُّ الطَّيِّبَ
“নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, আর তিনি পবিত্রতাকেই ভালোবাসেন।”
(সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
ইমাম নববী রহঃ বলেন,
قال الإمام النووي رحمه الله:
وَيُسْتَحَبُّ أَنْ يَكُونَ الدَّاعِي عَلَى طَهَارَةٍ، مُسْتَقْبِلَ الْقِبْلَةِ، رَافِعًا يَدَيْهِ، وَيَبْدَأَ بِالْحَمْدِ لِلَّهِ تَعَالَى، وَالثَّنَاءِ عَلَيْهِ، ثُمَّ يُصَلِّي عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ، ثُمَّ يَدْعُو بِمَا شَاءَ
ইমাম নববী (রহ.) বলেন—
“দোয়া করার সময় মুস্তাহাব হলো—
দোয়াকারী যেন পবিত্র অবস্থায় থাকে,কিবলামুখী হয়,হাত উত্তোলন করে,প্রথমে আল্লাহ তাআলার প্রশংসা ও স্তুতি করে,তারপর রাসুলুল্লাহ ﷺ–এর প্রতি দরুদ পাঠ করে,অতঃপর সে যা ইচ্ছা দোয়া করে।”
(আল-আযকার, ইমাম নববী (রহ.), باب آداب الدعاء)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
উপরোক্ত দলিল গুলোর আলোকে ইসলামিক স্কলার গণ বলেন যে পবিত্রতা অর্জনের পর (অযু গোসলের পর) দোয়া করলে আল্লাহ তায়ালা সেই দোয়া কবুল করবেন,ইনশাআল্লাহ।
(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
مَنْ قَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ مِائَةَ مَرَّةٍ حِينَ يُصْبِحُ وَحِينَ يُمْسِي لَمْ يَأْتِ أَحَدٌ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَفْضَلَ مِمَّا جَاءَ بِهِ إِلَّا أَحَدٌ قَالَ مِثْلَ مَا قَالَ أَوْ زَادَ عَلَيْهِ
“যে ব্যক্তি সকালে ও সন্ধ্যায়
‘সুবহানাল্লাহ ওয়া বিহামদিহি’ ১০০ বার বলবে,
কিয়ামতের দিন তার চেয়ে উত্তম আমল কেউ নিয়ে আসতে পারবে না—
তবে সে ব্যক্তি ছাড়া, যে একই আমল করেছে বা এর চেয়ে বেশি করেছে।”
(সহিহ মুসলিম: ২৬৯২)
مَنْ قَالَ: لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ،
لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ مِائَةَ مَرَّةٍ فِي يَوْمٍ
“যে ব্যক্তি দিনে ১০০ বার বলে—
‘আল্লাহ ছাড়া কোনো উপাস্য নেই, তিনি এক, তাঁর কোনো শরিক নেই…’
সে দশজন দাস মুক্ত করার সওয়াব পাবে…”
(সহিহ বুখারি: ৬৪০৩; সহিহ মুসলিম: ২৬৯১)
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
আপনি প্রশ্নে উল্লেখিত আমলটি যেভাবে করছেন,সেভাবে করতে পারেন।
সমস্যা নেই।
পাশাপাশি হাদিসের আলোকে উপরে উল্লেখিত হাদিস দুটিতে যে বাক্যে আমলের কথা বলা হয়েছে সেভাবেও আমল করতে পারেন।
পাশাপাশি পরামর্শ থাকবে আপনি তাসবীহে ফাতেমি তথা প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তেত্রিশ বার সুবহানাল্লাহ 33 বার আলহামদুলিল্লাহ 34 বার আল্লাহু আকবার পড়ার চেষ্টা করবেন।