আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
23 views
in সালাত(Prayer) by (15 points)
আসসলামু আলাইকুম।

আমার শনি ,সোম,বুধ কেমিস্ট্রি প্রাইভেট বিকাল ৫টা থেকে ৬ টা। এর আগে আমার ম্যাথ প্রাইভেট থাকে।আর ম্যাথ প্রাইভেট যেখানে থাকে ওখানে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা আছে। আমি প্রত্যেকদিন ওখানে ৫ টা ১৫ তে মাগরিবের নামাজ পড়ে কেমিস্ট্রি প্রাইভেটে যাই। প্রত্যেকদিন মাগরিবের আযানের আগেই আমাকে নামাজ পড়তে হয়। আমাদের এখানে নামাজে নিষিদ্ধ সময় শেষ হয় ৫:২৮ এ। আবার ম্যাথ প্রাইভেটে নামাজ পড়ে না গেলে কেমিস্ট্রি প্রাইভেটে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবো না। কারণ ওখানে মেয়েদের নামাজ পড়ার কোন ব্যবস্থা নেই। আবার কেমিস্ট্রি প্রাইভেট শেষ করে যে কোথাও গিয়ে নামাজ পড়বো তার কোন উপায় নেই। কারণ মসজিদগুলোতে তো আর মেয়েদের নামাজের ব্যবস্থা থাকে না। আবার বাসায় এসে পড়তে পড়তে মাগরিবের সময় শেষ হয়ে যাবে। আবার আমি কেমিস্ট্রি প্রাইভেট বাদও দিতে পারবো না। কারণ এই প্রাইভেটে ঠিক করতে গিয়ে আমাকে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছিল। এর আগে আমি অনেকগুলো প্রাইভেটে দেখেছি। হয় আমার আসরের নামাজ মিস যায় আর তা না হলে মাগরিবের নামাজ। একমাত্র এই একটা সময় ই আছে যেখানে মোটামুটি নামাজ পড়ে যাইতে পারি। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমি প্রতি শনি ,সোম, বুধ ওই একই টাইমে মাগরিবের নামাজ পড়ি। আর এই সময়টা নিষিদ্ধ সময়। আমি যদি আযান দেওয়ার পরে নামাজ পড়ি তাহলে প্রাইভেটের ৪৫ মিনিট পার হয়ে যায়। এভাবে নামাজে হেরফের যাতে না হয় আমি কেমিস্ট্রি প্রাইভেট গত দুই মাস ধরে কোথাও পড়িনি। ভেবেছিলাম ইউটিউবে করে নেব। কিন্তু ওখানেও কোনভাবেই হচ্ছে না আমাকে অফলাইনে পড়তেই হচ্ছে। তাই আমি তো প্রাইভেটে বাদ দিতে পারছি না।

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে -আমি যে প্রত্যেকদিন এইভাবে নিষিদ্ধ সময় নামাজ আদায় করছি আমার নামাজটা কি সঠিক ভাবে  হচ্ছে?

আর এভাবে যদি নামাজ আদায় না হয় তাহলে আমি কি করবো?

আমি মেয়ে হওয়ার কারণে কোন মসজিদে গিয়েও তো নামাজ পড়তে পারবো না। এখন আমার কি করনীয়??

1 Answer

0 votes
by (754,830 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কোরআন ও সহীহ সুন্নাহর আলোকে মাস'আলা উদ্ভাবনকারী চার মাযহাবের উপরুক্ত আলোচনা দ্বারা আমরা বুঝতে পারলাম যে,হজ্বের মৌসুমে আরাফা এবং মুযদালিফা ব্যতীত অন্য কোথাও দুই নামাযকে একত্রকরণ কখনো ঠিক হবে না। হানাফি মাযহাব ব্যতিত অন্যান্য মাযহাবে অনুমোদিত থাকলেও অনুত্তম বলা হয়েছে।

এজন্য নামাযকে উত্তমভাবে পড়াই আমাদের জন্য উচিৎ।যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-
ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻗَﻀَﻴْﺘُﻢُ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻓَﺎﺫْﻛُﺮُﻭﺍْ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻗِﻴَﺎﻣًﺎ ﻭَﻗُﻌُﻮﺩًﺍ ﻭَﻋَﻠَﻰ ﺟُﻨُﻮﺑِﻜُﻢْ ﻓَﺈِﺫَﺍ ﺍﻃْﻤَﺄْﻧَﻨﺘُﻢْ ﻓَﺄَﻗِﻴﻤُﻮﺍْ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓَ ﻛَﺎﻧَﺖْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻤُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ ﻛِﺘَﺎﺑًﺎ ﻣَّﻮْﻗُﻮﺗًﺎ
অতঃপর যখন তোমরা নামায সম্পন্ন কর, তখন দন্ডায়মান, উপবিষ্ট ও শায়িত অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ কর। অতঃপর যখন বিপদমুক্ত হয়ে যাও, তখন নামায ঠিক করে পড়। নিশ্চয় নামায মুসলমানদের উপর ফরয নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে।(সূরা নিসা-১০৩)

হানাফি মাযহাবের পরবর্তী উলামাদের অনেকেই অপর তিন মাযহাবের মতই দুই নামাযকে সফরের সময় একত্রিকরণের বৈধতা প্রদান করে থাকেন।কেননা অনেক হাদীসে বিশেষ উযর ব্যতিতও দুই নামাযকে একত্রিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে মতবিরোধ থেকে বাঁচার জন্য প্রত্যেক নামাযকে তার সময়ে আদায় করে নেয়াই উত্তম হবে।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/827

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আরাফা ও মুযদালিফা ব্যতিত ওয়াক্তের পূর্বে নামায পড়ার কোনো সুযোগ হানাফি ফিকহে নেই। তাই আপনি এমন কোন প্রাইভেট বাচাই করুন, যেখানে নামাযের কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না। নামাযকে পরিত্যাগ করে পড়ার কোনো সুযোগ নেই। নামায ইবাদত সর্বোপরি ঈমানকে ঠিক রেখে তারপর শিক্ষা গ্রহণের দিকে আগাতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 283 views
+1 vote
1 answer 405 views
...