আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
78 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (2 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (DSE) একজন বিনিয়োগকারী। আমি সর্বদা আমার উপার্জন হালাল ও পবিত্র রাখার চেষ্টা করি। দীর্ঘ বিচার-বিশ্লেষণ করে আমি গ্রামীণফোন, লাফার্জ হোলসিম, কোহিনূর কেমিক্যাল, বেক্সিমকো ফার্মা এবং ওয়ালটনের মতো কিছু কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছি।

আমার বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমি মূলত নিচের বিষয়গুলো অনুসরণ করি:

  • ব্যবসার ধরন: আমি কেবল সেই সব কোম্পানিতেই বিনিয়োগ করি যাদের মূল ব্যবসা শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ।

  • আর্থিক অনুপাত: আমি সেই সব কোম্পানি নির্বাচন করি যাদের সুদি ঋণের পরিমাণ শূন্য বা অত্যন্ত নগণ্য।

  • বিনিয়োগের নিয়ত: আমার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যম বা দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্ব (১ থেকে 5 বছর)। আমি ৩-৫ দিনের অতি স্বল্পমেয়াদী লেনদেন বা ফাটকা কারবার (Speculation), যা জুয়ার সদৃশ—তা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করি।

উপরোক্ত বিষয়ের আলোকে আমি নিম্নোক্ত দুটি বিষয়ে আপনার শারঈ দিকনির্দেশনা কামনা করছি:

১. শেয়ারের মালিকানা বা দখলের (কবজা) মেয়াদ প্রসঙ্গে: আমি জানি যে, কোনো পণ্য দখলে আসার আগে তা বিক্রি করা জায়েজ নয়। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার কেনার পর তা বিও (BO) অ্যাকাউন্টে জমা হতে সাধারণত ২ থেকে ৩ কার্যদিবস সময় লাগে।

  • শেয়ারটি যখন আইনগতভাবে আমার অ্যাকাউন্টে জমা হয় এবং আমি এর মালিকানা ও ঝুঁকি (Daman) গ্রহণ করি, তখন থেকে সেটি বিক্রি করার জন্য শরিয়াহ অনুযায়ী ন্যূনতম কোনো সময়সীমা নির্ধারিত আছে কি?

  • আমি যদি শেয়ারটি পূর্ণ দখলে আসার পর কোনো কারণে ৬ মাস বা ১ বছর পর বিক্রি করি, তবে সেটি কি সঠিক ও হালাল মালিকানা হস্তান্তর হিসেবে গণ্য হবে?

২. ডিভিডেন্ডের পরিবর্তে মূলধনী মুনাফা (Capital Gain) অর্জন প্রসঙ্গে: অনেক সময় দেখা যায়, Yearly/Halfyearly লভ্যাংশ বা ডিভিডেন্ড ঘোষণার আগে শেয়ারের বাজারদর অনেক বৃদ্ধি পায়। সেক্ষেত্রে বার্ষিক সামান্য ডিভিডেন্ডের জন্য অপেক্ষা না করে বর্ধিত মূল্যে কিছু শেয়ার বিক্রি করে 'ক্যাপিটাল গেইন' বা মূলধনী মুনাফা করা কি জায়েজ হবে?

  • প্রাথমিকভাবে মূলধনী মুনাফার উদ্দেশ্যে শেয়ার বিক্রি করা কি শরিয়াহসম্মত?

  • দামের ঊর্ধ্বগতির সময় শেয়ার বিক্রি করলে তা কি 'ব্যবসায়িক অংশীদারিত্বের' মূল চেতনার পরিপন্থী হবে, নাকি একজন মালিক হিসেবে এটি আমার ব্যবসার মূলধনী লভ্যাংশ সংগ্রহের বৈধ অধিকার?

  • মূলধনী মুনাফা তুলে নেওয়ার পর দাম কমলে পুনরায় সেই টাকা দিয়ে শেয়ার কেনা—এই পুরো প্রক্রিয়া বা স্ট্রেটেজিটি কি শরিয়াহ অনুযায়ী সঠিক?

কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে আপনার মূল্যবান দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন, যাতে আমার উপার্জনকে সম্পূর্ণ হালাল রাখতে পারি।

জাজাকাল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
শাইখুল ইসলাম মাওলানা মুহাম্মদ তাক্বী উসমানী দা.বা. হাকীমুল উম্মত আশরাফ আলী থানবী রহঃ এর উদ্ধৃতিতে কয়েকটি শর্তে শেয়ারকে কমবেশি করে বিক্রি ব্যবসাকে জায়েজ বলেছেন। 
যথা-
(১)কোম্পানীর মূল ব্যবসাটি হালাল হতে হবে। যেমন ঔষধ কোম্পানী, ইনষ্ট্রাকশন কোম্পানী ইত্যাদি।
(২) মূল মূল্যের চেয়ে কমবেশি করে বিক্রি করার জন্য শর্ত হল, কোম্পানীর মূল সম্পদ শুধু টাকা হতে হবে না, বরং টাকার সাথে সাথে অন্যান্য সম্পদও থাকতে হবে। যেমন বিল্ডিং, জমি, মেশিন ইত্যাদি।
(৩)যদিও মূল ব্যবসা হালাল, কিন্তু যদি উক্ত কোম্পানীতে কিছু সুদী বা হারাম লেনদেনও হয়, তবে খুবই কম। তাহলেও সেই সুদী ও হারাম লেনদেনের বিরুদ্ধে বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রতিবাদ করবে এবং সংশোধনের জন্য বলবে।
(৪) কোম্পানীর যতটুকু আয় সুদ থেকে হয়, তা হিসেবে করে বের করে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবে।

উপরোক্ত চারটি শর্ত সঠিকভাবে মান্য করলে শেয়ার ব্যবসা জায়েজ আছে। তবে বর্তমানে শেয়ার বাজারে নানামুখী ধোঁকা, প্রতারণার বিস্তার রয়েছে। আর
উপরোক্ত শর্তগুলো সঠিকভাবে পাওয়াও কঠিন। তা’ই বর্তমানে আমাদের দেশের এ ব্যবসার বিকল্প কোন ব্যবসায় জড়ানোই অধিক নিরাপদ এবং এবং তা থেকে বিরত থাকা অপরিহার্য৷
(ইসলাম আওর জাদীদ মায়িশাত: ওয়া তিজারাত-১০৩-১১৪; ইসলামী ব্যাংকারী কী বুনিয়াদে-২১৬-২২১৷)
হালাল ও হারামের দৃষ্টিতে এ ব্যবসাটি বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ একটি ব্যবসা। তাই এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক৷আল্লাহ-ই ভালো জানেন। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/841 

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেহেতু আপনি উপরোক্ত মূলনীতি মেনে শেয়ার ব্যবসা করছেন, তাই আপনার ব্যবসা হারাম হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...