আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (17 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম। আমি আমার এক বন্ধুর থেকে তার বড় ভাইয়ের একটি প্রজেক্ট (ওয়েবসাইট ও ড্যাশবোর্ড ডিজাইন) করেছিলাম। বন্ধুত্বের খাতিরে এবং প্যাকেজ ডিল হওয়ায় আমি আমার রেগুলার প্রাইসের চেয়ে অনেক কমে অর্থাৎ মোট ৩৫ হাজারে (২৫k ওয়েবসাইট + ১০k ড্যাশবোর্ড) রাজি হই। আমাদের লেনদেনের চুক্তিটি ছিল এমন যে—এই ৩৫ হাজার টাকার বিপরীতে আমি তাকে ডিজাইন ফাইল বুঝিয়ে দিব।

যেহেতু আমার বন্ধু, তাই আমি কাজটি অনেক গুছিয়ে করেছিলাম। ডিজাইনের পূর্বে রিসার্চ করে ব্র্যান্ডিং সেট করেছিলাম, যা চাইলে অন্য ফাইল থেকে কপি-পেস্ট করতে পারতাম। কিন্তু আমি পরিশ্রম করে প্রিমিয়াম ইলাস্ট্রেশন ও আইকন ব্যবহার করেছি। ওয়েবসাইটের ফাইল হ্যান্ডওভার করার পর ড্যাশবোর্ডের কাজের জন্য তাকে বারবার তাগাদা দিলেও সে ব্যস্ততার কারণে রেসপন্স করেনি। তবুও যেহেতু আমি পেমেন্ট পেয়েছি, তাই কাজের নিশ্চয়তা ধরে নিয়ে আমি রিসার্চ, ব্র্যান্ডিং এবং প্রায় ২০% ডিজাইন এগিয়ে রেখেছিলাম। হঠাৎ এখন জানানো হলো যে প্রজেক্টটি ক্যানসেল হয়েছে এবং আমাকে ড্যাশবোর্ডের ১০ হাজার টাকা ফেরত দিতে হবে।

বিবেচ্য পয়েন্টসমূহ:

১. প্যাকেজ ডিল ও চুক্তির শর্ত: আমার চুক্তি ছিল ৩৫ হাজারের বিপরীতে ডিজাইন দেওয়া। এখন ড্যাশবোর্ড বাদ গেলে প্যাকেজটি ভেঙে যায়, যার ফলে শুধু ওয়েবসাইটের কাজের রেট প্রফেশনালি আরও বেড়ে যায়, কারণ শুধু ওয়েবসাইট করলে আমি আরো চার্জ করি। একসাথে দুইটা নেয়ায় আমিও কম চার্জ করি।

২. Kill Fee বা ক্যান্সেলেশন ফি: প্রফেশনাল ফ্রিল্যান্সিং নিয়ম অনুযায়ী, কাজ শুরু হওয়ার পর ক্লায়েন্ট প্রজেক্ট ক্যানসেল করলে পুরো টাকা রিফান্ড হয় না। যেহেতু ক্যান্সেলেশনটি আমার পক্ষ থেকে হয়নি, তাই এখানে একটি 'Kill Fee' প্রযোজ্য হয়

৩. অদৃশ্য শ্রম ও মেধা: ড্যাশবোর্ডের মাত্র ২০% কাজ চোখে দেখা গেলেও এর পেছনে আমার রিসার্চ, আইডিয়িশন এবং ব্র্যান্ডিং চুজ করার পেছনে অনেক শ্রম ও সময় ব্যয় হয়েছে। ডিজাইনে কপি-পেস্ট কমন হলেও আমি তা না করে অরিজিনাল এফোর্ট দিয়েছি। এই মেধার মূল্য কি আমি ফি হিসেবে পাব না?

৪. বর্তমান প্রস্তাব: আমি তাকে অর্ধেক (৫০০০/-) ফেরত দিতে চেয়েছি এবং বাকি ৫০০০/- টাকা আমার শ্রম ও সময়ের জন্য ফি হিসেবে রাখতে চাচ্ছি।

পরামর্শ ও প্রশ্ন:

১. উপরের প্রেক্ষাপটে ৫০০০/- টাকা ফি হিসেবে রাখা এবং ৫০০০/- টাকা ফেরত দেওয়া কি বৈধ হবে?

২. আমি যদি আগে জানতাম যে টাকা ফেরত দিতে হবে, তবে হয়তো প্রজেক্টটি নিতাম না বা এত পরিশ্রম না করে কপি-পেস্ট করে কাজ চালিয়ে দিতাম। (ডিজাইনে কপি-পেস্ট কমন বিষয়, আমার নিজের আগের কাজ থেকে আমি কপি করতাম, অন্যের কিছু না) এই অবস্থায় আমার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সঠিক উপায় কী?

৩. আমার কাছে আরেকটি অপশন আছে;তাকে অফার করা যে, এই ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে সে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ডিজাইন করিয়ে নিতে পারবে। এটি কি অধিকতর গ্রহণযোগ্য সমাধান?

৪. সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের বন্ধুত্ব এবং প্রফেশনালিজম; উভয় দিক বজায় রেখে এই সমস্যা সমাধানের সেরা উপায় কী হতে পারে শারঈ ভাবে ?

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কাসীর ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আওফ (রাঃ) হতে পর্যায়ক্রমে তার বাবা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত আছে,
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْخَلاَّلُ، حَدَّثَنَا أَبُو عَامِرٍ الْعَقَدِيُّ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ الْمُزَنِيُّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الصُّلْحُ جَائِزٌ بَيْنَ الْمُسْلِمِينَ إِلاَّ صُلْحًا حَرَّمَ حَلاَلاً أَوْ أَحَلَّ حَرَامًا وَالْمُسْلِمُونَ عَلَى شُرُوطِهِمْ إِلاَّ شَرْطًا حَرَّمَ حَلاَلاً أَوْ أَحَلَّ حَرَامًا " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুসলিমদের একে অপরের সাথে সন্ধি স্থাপন করা জায়িয। কিন্তু বৈধকে অবৈধ অথবা অবৈধকে বৈধ করার মত সন্ধি চুক্তি জায়িয নেই। মুসলিমগণ তাদের একে অপরের মধ্যে স্থিরকৃত শর্তাবলী মেনে চলতে বাধ্য। কিন্তু হালালকে হারাম অথবা হারামকে হালাল করার মত শর্ত বৈধ নয় (তা বাতিল বলে গণ্য হবে)।
জা'মে তিরমিযি-১৩৫২, পৃষ্টা-৪৮৭, সুনানু ইবনু মা'জাহ-২৩৫৩)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/788

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
পরামর্শ ও প্রশ্ন:
(১) উপরের প্রেক্ষাপটে সম্পূর্ণ টাকা ফিরিয়ে দিতে হবে। তারপর তার কাছ  ক্ষতিপূরণ চাইতে পারবেন।

(২) এই অবস্থায় আমার ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার জন্য ন্যায় পরায়ন দুজন ব্যক্তিকে বিচারক মেনে নিয়ে বিষয়টিকে নিষ্পত্তি করতে হবে। 

(৩) এমন শর্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।
(৪) বন্ধুত্ব এবং প্রফেশনালিজম; উভয় দিক বজায় রাখতে অন্য দুজন নায়পরায়ন ব্যক্তির শরণাপন্ন হওয়া উচিত। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 246 views
...