আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
64 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (53 points)
আসসালামু আলাইকুম।

এক বোনের প্রশ্ন,
আমার আব্বু যে বিজনেস করে তাতে আব্বুর অনেক ঋণ, মাঝে মাঝে সংসার খরচের টাকা দিতেও প্রব্লেম হয়।কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ না খেয়ে থাকতে হয়না।টুকটাক আমার বা আম্মুর জমানো টাকা থেকে তখন সংসারে দেয়া হয়।আম্মু অল্প স্বল্প সেলাই কাজ করেন।আম্মুর পায়ের সমস্যা+কোমর ব্যথা।সেলাই কাজ করাও আম্মুর জন্য কষ্ট হয়ে যায়।আর তেমন অর্ডার ও বেশি আসেনা।আমার আর আম্মুর দুইজনের ই ডায়াবেটিস।আমাদের ৪/৫ হাজার টাকার মতো ইন্সুলিন লাগে প্রতি মাসে।আব্বুর জন্য অনেক সময় তা বহন করা কষ্টসাধ্য হয়ে যায়।আব্বুর ও অসুস্থতার জন্য অনেক ওষুধ লাগে।আমার একটা মাদরাসায় জবের অফার এসেছে।আলিয়া মাদরাসার সিলেবাসে পড়ানো হয়।প্লে থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত।আমি একদিন গিয়েছিলাম সেখান থেকে যা যা পর্যবেক্ষন করলাম ছেলে মেয়ে একি ক্লাস রুমেই ক্লাস হয়।ছেলেরা একদিকে আলাদা বেঞ্চে বসে মেয়েরা আরেকদিকে আলাদা বেঞ্চে কিন্তু রুম একটাই।এছাড়া টিচার্স রুমে বড় একটা টেবিল এক সাইডে পুরুষ টিচার রা বসেন অপজিট সাইডে মহিলারা।মাঝে বই খাতা এসব রাখা আছে।মহিলা পুরুষ সবসময় একসাথে টিচার্স রুমে থাকেন ও না।যার যখন দরকার তখন আসেন খাতা বাচ্চাদের খাতা কাটেন এমন আরকি।টিচার্স রুমের বিশাল একটা দরজা যা সবসময় খোলাই থাকে।ভিতর থেকে বাইরে দেখা যায়।তাছাড়া সিসি টিভি ক্যামেরাও দেয়া আছে রুমে।আর গার্ডিয়ান বা টিচার দের ও যাওয়া আসা থাকে সেই রুমে।

১.ক্লাস ৩/৪/৫ এর ছেলেরা কি বালেগ হতে পারে?

২.ক্লাস ৪,৫ এর বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এখানে ছেলে বাচ্চাও থাকবে।এখানে কি আমি ক্লাস নিতে পারব?পরিপুর্ণ পর্দার সাথে আমার কি এতে কন্ঠের পর্দা নষ্ট হবে?যেহেতু বাচ্চাদের একটু জোরে সাউন্ডে পড়াতে হয়।

৩.টিচার্স রুমে বসতে পারব?কন্ঠের কোমলতা পরিহার করে শুধু প্রয়োজনীয় কথা পুরুষ টিচার দের সাথে বলা যাবে?

৪.আমার আব্বু আমাদের কাছে টাকা থাকা দেখলেই সেটা নিয়ে নেয়।আমার আম্মু অসুস্থ।আমার নিয়ত এই টাকা থেকে আম্মুর চিকিৎসা করব বা আমার ও আম্মুর প্রয়োজনীয় ইন্সুলিন ওষুধ যা লাগে এ থেকে খরচ করব।আব্বুর একটা স্বভাব কারো থেকে টাকা দেখলেই নিজের প্রব্লেমে সেটা চায়।আমি বা আম্মুও টাকা জমাতে পারিনা।তাই কখনো প্রয়োজনে  টাকা দিলে সেটা থেকে বাচলে জমিয়ে রাখি কিন্তু আব্বুকে জানাই না।বাসার প্রব্লেম হলে আব্বু যখন টাকা দিতে পারে না তখন সেই টাকা থেকে খরচ করি।আমি চাকরি করি এই কথা জানলে হয়ত আমার নিয়ত গুলা আর পুরন হবে না!৯০% ক্ষেত্রে সম্ভাবনা এটাই যে আব্বু টাকা গুলা নিয়ে নিতে পারে।পরে দিবে বলে নেয়।কিন্তু অনেক সময় ই পরে আর দিতে পারে না।যেহেতু অনেক ঋণ।আমি কি আব্বুকে না জানিয়ে জব টা করতে পারি?আমি অবিবাহিত।মাদরাসা টা বাসা থেকে মোটামুটি কাছে।

1 Answer

0 votes
by (805,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
দুনিয়া এবং আখেরাতের কল্যাণ এতেই নিহিত রয়েছে যে, সংসারের পুরুষরাই যথাসাধ্য কষ্ট স্বীকার করে চাকুরী করে আপন পরিবার পরিজনের দেখভাল করবে।পরিবারের দেখভাল করা ইসলামি আইন অনুসারে পুরুষদের উপর-ই ওয়াজিব। তাই অযথা পরিবারের দায়িত্ব মহিলাদের জন্য নিজের উপর না নেয়াই উচিৎ ও কাম্য।
বিশেষ কোনো কারণ বশত চাকুরী করা বা উপার্জন করা যদি সংসারের পুরুষদের জন্য অসাধ্য হয়ে যায়,তখনই নারীরা পরিবারের হাল ধরতে পারবে। তখন মহিলাটি সর্বদা পর-পুরুষ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ইস্তেগফারের সাথে ফ্রি মিক্সিং পরিবেশেও চাকুরী করতে পারবে। এটা বিশেষ ক্ষেত্রে মহিলার জন্য শরীয়ত প্রদত্ত বিশেষ রুখসত।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1377

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনাদের বিবরণ থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যদি চাকুরী না করেন, তাহলে না খেয়ে আপনাকে মরতে হবে না। বরং কোনোরকম দিন চলে যাবে। সুতরাং এমতাবস্থায় আপনার জন্য সহশিক্ষা ব্যবস্থায় চাকুরী করা জায়েয হবে না। তথাপি যদি চাকুরীতে জয়েন হয়ে যান, তাহলে যেহেতু শিক্ষার বিনিময়ে বেতন নিবেন, তাই ইনকাম হারাম হবে না। তবে পর্দা লঙ্গন হলে, পুরুষ টিচার্সের সাথে অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা বললে তখন অবশ্যই পর্দাকে বিসর্জন দেয়ার গোনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...