আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
60 views
in পবিত্রতা (Purity) by (4 points)

https://ifatwa.info/135560/  এই প্রশ্নের উত্তরে যা বলা হয়েছে।তারপর আমার প্রশ্ন হলঃ

** ১ নং প্রশ্নের অবস্থায় আমার হলুদ স্রাব দেখা যায় ২৭ তারিখ যোহর ওয়াক্তে।নভেম্বর মাস যেহেতু ৩০ দিনে তাই ৬ তারিখ যোহর পর্যন্ত ৯ম দিন হয়।তাই না? তাহলে আমাকে ২৭ তারিখ হতে ৭  তারিখ যোহরের সেই সময় পর্যন্ত হায়েয ধরতে হবে না?

** ৩ নং প্রশ্নের অবস্থায় আমার রক্ত যদি নামাজ পরা অবস্থায় ই আসত।তখন ও কি আমার নামায আবার আদায় করতে হত অজু করে?এবং ওই ওয়াক্তে যদি নামাজের মধ্যে একবার রক্ত আসার পর আর রক্ত না আসত তবুও তো আমি পরের ওয়াক্তে মাজুর তাই না?

আর একটা প্রশ্নঃ ইস্তিহাযা শেষ হওয়ার পর যখন সাদা স্রাব আসে।মানে ইস্তিহাযা অবস্থায় আমি মাজুর ছিলাম। ফযরের ওয়াক্তেও চেক করে দেখছি আমার রক্ত আসছে। পরে জোহরের ওয়াক্তে যদি নামাযের ভিতর একবার সাদা স্রাব আসে।

আমি কি তাহলে আর মাজুর থাকব না? তাহলে আমার কি জোহরের ওই নামায পরা হয়নি?
নাকি সাদা স্রাব একবার হলেও আমি  আসরের ওয়াক্ত ও মাজুর?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ২৭ শে নভেম্বর হতে হিসাব করলে ৬ ই ডিসেম্বর ১০ তম দিন হয়।

এক্ষেত্রে ব্লিডিং যেহেতু ১০ম দিনের পরেও এসেছে,সুতরাং আপনি পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে ডিসেম্বর মাসে হায়েজ ধরবেন।

(০২)
আপনি যদি সত্যিই মা'যুর হয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে রক্ত যদি নামাজ পরা অবস্থায় ই আসত।তখন ও আপনি নামাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।

এক্ষেত্রে অযু আবশ্যক হতোনা।

ওই ওয়াক্তে যদি নামাজের মধ্যে একবার রক্ত আসার পর আর রক্ত না আসত, তবুও আপনি সেই ওয়াক্তে মা'যুর হিসেবে থাকবেন।

মা'যুর কাকে বলে,এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 

(০৩)
আপনি যদি সত্যিই মা'যুর হয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে জোহরের ওয়াক্তে যেহেতু ন্যূনতম একবার সাদাস্রাব এসেছে, সুতরাং যোহরের ওয়াক্তে আপনি মা'যুর হিসাবে বহাল থাকবেন।

অনুরূপভাবে আছরের ওয়াক্তেও যদি ন্যূনতম একবারের জন্য হলেও সাদাস্রাব আসে, সেক্ষেত্রে আসরের ওয়াক্তেও আপনি মা'যুর হিসাবে বহাল থাকবেন।

মা'যুর কাকে বলে,এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...