আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in সালাত(Prayer) by (35 points)
আসসালামু আ'লাইকুম।
১. আমার নামাজে হিজাব টাইট করে পরা বা অন্য কোনো কারণে নুন উচ্চারণের সময় উপরের দুই দাঁতের মাঝের শক্ত মাংসপিণ্ডটা(যেখানে চাপ দিয়ে নুন উচ্চারণ করতে হয়) খু্ঁজে পেতে সমস্যা হয়, প্রায়ই মনে হয় ঠিক জায়গাটায় জিহবা লাগেনি। তখন আমি শব্দগুলো উচ্চারণের আগে জিহবা দিয়ে ওই মাংসপিন্ডের অবস্থান চেক করে নেই।
এক রুকনের মাঝে তিনবার করলে এই জিহবা নাড়ানোটা কি আমলে কাসীরের মধ্যে পড়বে?

২. নামাজে অনুমোদিত কারণ ছাড়া কিছু না বলে চুপচাপ থাকা নামাজ ভেঙে দেয়। এই অনুমোদিত কারণগুলো কী কী? যেমন সিজদায় গিয়ে সুবহানা রাব্বিয়াল আ'লা বলে অনেকক্ষণ চুপচাপ ওই অবস্থায় থাকলে কি সেটা অনুমোদিত, নাকি নামাজ ভেঙে যাবে?

৩. নুনের শক্ত মাংসপিন্ড কঠিন লাগায় নরমালি দুই দাঁতের মাঝে জিহবা লাগিয়ে উচ্চারণ করতে গেলে প্রায়ই মনে হয় লাম-নুন উচ্চারণের সময় জিহবাটা বাঁকা হয়ে গেছে এবং উপরের দুই দাঁতের মাঝে না লেগে বামে/ডানে লাগছে। যদি এক্ষেত্রে নরমালি জিহবা উপরের দিকে লাগিয়ে নুন-লাম উচ্চারণ করি সেটা জিহবা যতই ডান-বামে গেছে মনে হোক তাহলে কি নামাজ শুদ্ধ হবে?
এবং গইন হরফেও প্রায়ই মনে হয় জিহবার গোড়ার সাথে উপরের পাটির পেছনের দাঁতগুলো লাগছেনা। এক্ষেত্রেও অনুমানে কাছাকাছি অবস্থানে জিহবা নিয়ে গইন পড়ে নিলে নামাজ শুদ্ধ হবে?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

নামাজের ভিতর নড়াচড়া করা যাবেনা।
এক রুকন সমপরিমাণ এমনটি করলে নামাজ ভেঙ্গে যাবে। 

হাদীস শরীফে এসেছেঃ    
সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, তোমাদের নবীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন সাতটি (অঙ্গের) ওপর সিজদা করে এবং নামাজে চুল বা কাপড় না গুটায়। -সুনানে আবু দাউদ: ২/১৪

নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় এসেছে, বিখ্যাত তাবেয়ি মুজাহিদ (রহ.) বলেন, হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা.) ও হজরত আবদুল্লাহ ইবনে যুবাইর (রা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন তখন মনে হত একটি কাঠ মাটিতে গেড়ে দেওয়া হয়েছে। -মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা: ৭৩২২

প্রখ্যাত তাবেয়ি আমাশ (রহ.) থেকে নির্ভরযোগ্য সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) যখন নামাজে দাঁড়াতেন তাকে দেখে মনে হত যেন একটি পড়ে থাকা কাপড়। -মুসান্নাফ আবদুর রাজ্জাক: ৩৩০৩।

আমলে কাসির নিয়ে বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০১)
নামাজের ভিতর এক রুকন সমপরিমাণ চুপ থাকলে সেজদায়ে  সাহু ওয়াজিব হয়।
তাই এক রুকন থেকে কম সময় মনে মনে দোয়া করতে পারবে।  
(এক রুকন= ছহীহ শুদ্ধ ভাবে তিন বার سبحان ربي العظيم  পড়া সমপরিমাণ সময়) 

الدر المختار وحاشية ابن عابدين (رد المحتار) 
(2/ 93):
"أداء ركن ولم يشتغل حالة الشك بقراءة ولا تسبيح) ذكره في الذخيرة (وجب عليه سجود السهو في) جميع (صور الشك) سواء عمل بالتحري أو بنى على الأقل، فتح ؛ لتأخير الركن، لكن في السراج أنه يسجد للسهو في أخذ الأقل مطلقاً، وفي غلبة الظن إن تفكر قدر ركن.
(و) اعلم أنه (إذا شغله ذلك) الشك فتفكر (قدر... الخ
(قوله واعلم إلخ) قال في المنية وشرحها الصغير: ثم الأصل في التفكر أنه إن منعه عن أداء ركن كقراءة آية أو ثلاث أو ركوع أو سجود أو عن أداء واجب كالقعود يلزمه السهو لاستلزام ذلك ترك الواجب وهو الإتيان بالركن أو الواجب في محله، وإن لم يمنعه عن شيء من ذلك بأن كان يؤدي الأركان ويتفكر لايلزمه السهو".

যার সারমর্ম হলো নামাজে এক রুকন সমপরিমাণ সময় কেরাত/তাসবিহ না করে চুপ থাকলে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে। 

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে এর দরুন যদি নামাজের ভিতর এক রুকন সমপরিমাণ চুপ থাকেন,সেক্ষেত্রে সেজদায়ে  সাহু ওয়াজিব হবে।

এতে আমলে কাসির হবেনা।

(০২)
সেজদায় গিয়ে যদি এক রুকন সমপরিমাণ চুপ থাকেন,সেক্ষেত্রে সেজদায়ে  সাহু ওয়াজিব হবে। এতে নামাজ ভেঙ্গে যাবেনা।

(০৩)
উভয় ছুরতেই আপনার নামাজ শুদ্ধ হয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 184 views
0 votes
1 answer 145 views
0 votes
1 answer 265 views
...