আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
100 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (73 points)
السلام عليكم ورحمة الله ইমদাদুল উস্তাযের কাছে প্রশ্ন
উস্তাজ, ১ ও ২ ৩ নম্বর দিয়ে যে প্রশ্নগুলো করা হয়েছে, সেগুলোর উত্তর কষ্ট করে  ১ ২ ৩  দিয়ে তারপর  দিলে ভালো হবে   ইন শা আল্লাহ  ।

উস্তাজ, আমার প্রশ্ন হলো—আমি আগে ৩০ পারা হিফজ করেছিলাম । কিন্তু এখন  ইয়াদ নেই সম্পূর্ণ । মোটামুটি ৫ পারা আর কিছু পৃষ্ঠা  ইয়াদ আছে বলা যায়। এখন আমি কয়েক মাস ধরে ইয়াদের জন্য সময় দিচ্ছি। প্রতিদিন , ইয়াদ আছে—এমন ৫ পৃষ্ঠা এবং ইয়াদ নেই—এমন আধা পৃষ্ঠা শোনানোর চেষ্টা করি। তবে “ইয়াদ আছে” বললেও সেখানেও দুর্বলতা আছে; সময় নিয়ে পড়তে হয় তারপর পড়া দিতে হয় ।

আমি মাদরাসায় ক্লাস করি, এরপর আরবি পড়ি। সব মিলিয়ে এটিও  নিয়মিত মেইনটেইন করা মাঝেমধ্যে কঠিন হয়ে যায়। আর  পড়া দেওয়া ছাড়াও কুরআন পিছনের অনেকটা ইয়াদ আছে এমন পৃষ্ঠা তিলাওয়াতও করি যেন মনে থাকে । তার জন্যও সময় দিতে হয়।

১) আমি এখন যেভাবে পড়ছি—ইয়াদ নেই এমন আধা পৃষ্ঠা এবং ইয়াদ অনেকটা আছে এমন ৫ পৃষ্ঠা। যদি আমি ইয়াদ নেই এমন ২ পৃষ্ঠা এবং ইয়াদ আছে এমন ১০ পৃষ্ঠা পড়া দিই (অর্থাৎ এখনকার চেয়ে প্রায় ১ গুণ বেশি), তাহলেও কি ৩০ পারা ইয়াদ না করা পর্যন্ত আমার গুনাহ হতে থাকবে?

২) যদি আমি ইয়াদ নেই এমন ২ পৃষ্ঠা এবং ইয়াদ আছে এমন ১০ পৃষ্ঠা পড়া দিই, তাহলে কি আমি আল-আজহারের প্রস্তুতির জন্য প্রতিদিন ২–৩ ঘণ্টা এবং দাওয়াতি কাজের জন্য প্রতিদিন ১ ঘণ্টা সময় দিতে পারবো?

৩) নাকি আমার জন্য দিন-রাত এক করে শুধু  পড়া ইয়াদ  করাই উচিত, যাতে আমি আরও বেশি পড়া শোনাতে পারি?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/28640/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
কুরআন হিফজ করার পর ভুলে যাওয়া মারাত্মক অপরাধ।   

হাদিস শরিফে এসেছে,
 রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন,

بِئْسَمَا لأَحَدِهِمْ يَقُولُ نَسِيتُ آيَةَ كَيْتَ وَكَيْتَ بَلْ هُوَ نُسِّيَ اسْتَذْكِرُوا الْقُرْآنَ فَلَهُوَ أَشَدُّ تَفَصِّيًا مِنْ صُدُورِ الرِّجَالِ مِنَ النَّعَمِ بِعُقُلِهَا

যদি কেউ এভাবে বলে যে, আমি অমুক অমুক আয়াত ভুলে গিয়েছি তাহলে তা তার জন্য খুবই খারাপ। বরং তাকে তো ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। তোমরা কোরআনকে স্মরণ রাখ। কারণ কোরআন মানুষের হৃদয় থেকে পা বাঁধা পলায়নপর চতুস্পদ জন্তুর চেয়েও অধিক পলায়নপর। ছাড়া পেলেই পালিয়ে যায় অর্থাৎ স্মরণ রাখার চেষ্টা না করলেই ভুলে যায়। (মুসলিম ১৭২৬)

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেন,
عُرِضَتْ عَلَىَّ ذُنُوبُ أُمَّتِي فَلَمْ أَرَ ذَنْبًا أَعْظَمَ مِنْ سُورَةٍ مِنَ الْقُرْآنِ أَوْ آيَةٍ أُوتِيَهَا رَجُلٌ ثُمَّ نَسِيَهَا

আমার উম্মাতের গুনাহসমূহ আমাকে দেখানো হয়েছে। আমি তাতে কোরআনের কোন সূরাহ বা আয়াত শেখার পর তা ভুলে যাওয়ার চাইতে বড় গুনাহ আর দেখি নি। (আবু দাউদ ৪৬১ তিরমিযী ১৯৭৬ ইবনু খুযাইমাহ ১৯১৬)

مَا من امْرِئٍ يَقْرَأُ الْقُرْاٰنَ ثُمَّ يَنْسَاهُ إِلَّا لَقِىَ اللّٰهَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ أَجْذَمَ

যে ব্যক্তি কোরআন শিখে ভুলে গিয়েছে, সে কিয়ামাতের দিন অঙ্গহানি অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে। (আবু দাউদ ১৪৭৪ মুসান্নাফ ইবন আবী শাইবাহ ১০/৪৭৮)

★তবে হাফেজি ভুলে যাওয়ার দ্বারা আসলে উদ্দেশ্য কি?
এ মর্মে ইসলামী স্কলারদের অনেক মতামত রয়েছে। 
‘ভুলে যাওয়া’ শব্দের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. বলেছেন, المراد بالنسيان : أن لا يمكنه القراءة في المصحف দেখে দেখে তেলাওয়াত করার যোগ্যতাও হারিয়ে ফেলা। (মাতালিব উলিন্নুহা ১/৬০৪)


কেউ কেউ বলেন, النسيان بمعنى ترك العمل لا نسيانه بعد حفظه এখানে ভুলে যাওয়া মানে কোরআনের তিলাওয়াত ও তার প্রতি ‘আমাল থেকে বিরত থাকা। (আল ইস্তিযকার ২/৪৮৭)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
না,গুনাহ হবেনা।

(০২)
হ্যাঁ, সময় দিতে পারবেন।

(০৩)
এমনটি আবশ্যক নয়।
মূল কথা হলো প্রত্যেকদিন কিছু পৃষ্ঠা করে হলেও সেই মুখস্থ পড়া আবার আয়ত্ত্বে আনার চেষ্টা করতে হবে।
এ চেষ্টা অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যেতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...