আসসালামু আলাইকুম মুফতি সাহেব। আশা করি ভালো আছেন। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের প্রয়োজনে ছেলে-মেয়েদের সাথে মেলামেশা করা হয়। আমি আমার স্ত্রীকে বহুবার বুঝিয়েছি যে এটি শুধুই পড়াশোনা ও কাজের কারণে। তবুও তিনি আমার চরিত্র নিয়ে অনেকে অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং আমাকে অযোগ্য বলে বলেন। এক পর্যায়ে তিনি এমন কথাও বলেন যে, তার জীবনে আমার চেয়ে যোগ্য অন্য কেউ (যেমন আর্মি অফিসার) আসতে পারত। এই মানসিক চাপ ও অপমানের কারণে আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তালাক সংক্রান্ত কথা বলি। পরে বুঝতে পারি এটি একটি বড় ভুল ছিল।একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আমার স্ত্রীর মাসিক( পিরিয়ড) চলছিল। কিছু ইউটিউব ভিডিওতে দেখলাম মাসিক চলা অবস্থাতে তালাক কার্যকর হয় না। কথাটি কতটুকু সত্য? আমি (স্বামী) রাগের অবস্থায় আমার স্ত্রীকে অনলাইন চ্যাট/মেসেজের মাধ্যমে নিম্নোক্ত শব্দগুলো একই সময় ও একই প্রসঙ্গে, আমি আলাদা করে ৩ লাইনে পরপর লিখেছি: Talak Talak Talak এছাড়া একই কথোপকথনে আমি আরও লিখেছি যে আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করি না, আজকের পর থেকে স্ত্রী হিসেবে মানি না, এবং তাকে ছেড়ে দিচ্ছি। উক্ত কথাগুলো লেখার পর থেকে আমরা স্বামী;স্ত্রীর সম্পর্ক বা দাম্পত্য আচরণে লিপ্ত হইনি। বর্তমানে আমি শরিয়ত অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানতে চাই: উক্ত কথাবার্তার মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয়েছে কি না; হয়ে থাকলে তালাকের ধরন কী; আমাদের বর্তমান সম্পর্কের শরিয়তগত অবস্থান কী; ভবিষ্যতে করণীয় কী। আমি তালাক চাই না। আমি আমার স্ত্রীকে হারাতে চাই না। আমি আমার ভুল বুঝেছি এবং আমি সত্যিই আফসোস করছি। আমি চাই আমরা আবার মিলিত হই এবং আমাদের সম্পর্ক ঠিক করি। আমি ভবিষ্যতে এমন কোনো কথা বলব না এবং শান্তভাবে সমস্যা সমাধান করব।