আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
83 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (14 points)
আসসালামুয়ালাইকুম,

হুজুর আমি ভীষণ বিপদ এর মধ্যে আছি ,মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে আছি । আমাকে সাহায্য করেন।
আজ থেকে 2 বছর আগে স্ত্রী কে এক তালাক দিয়েছিলাম , দিয়ে পুনরায় ফিরিয়ে নিয়ে সংসার করছিলাম। গত কাল স্ত্রীর সাতে তুমুল ঝামেলা শুরু হয়, একপর্যায় এ আমি তিন তালাক দিয়ে ফেলি। আমার স্ত্রী চার মাসের গর্ভবতী। সত্যি বলতে আমি আমার স্ত্রী কে ছাড়া থাকতে পারবনা। আমার স্ত্রী ও থাকতে পারবে না ।
১. আমরা পুনরায় সংসার করতে চাইলে কি করবো?? যেহেতু স্ত্রী গর্ভবতী।

২. বাচ্চা হওয়ার পর যদি স্ত্রীর অন্য জায়গাতে বিয়ে দিতে চাই তাহলে, সেই ছেলে কে সমস্ত ঘটনা বলার পর একটা দিন ধার্য করে বিয়ে দিয়ে একবার শারীরিক মিলনের পর যদি আমার স্ত্রী তালাক চাই । সেই ছেলে যদি তালাক দেই তাহলে কী আমি আবার বিয়ে করতে পারবো আমার স্ত্রী কে ?? এবং আমার এর পর কত তালাকের অধিকার থাকবে??

৩. এখন যেহেতু নিরুপায় স্ত্রীর দেখা সোনা করতে পারবো??
আমার বর্ণনা শুনে কি করা উচিত বলুন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো এক বৈঠকে ৩ তালাক দেওয়া হোক,বা একাধিক বৈঠকে,
এক শব্দে ৩ তালাক দেওয়া হোক বা একাধিক শব্দে ৩ তালাক দেওয়া হোক,সব ছুরতেই ৩ তালাকই পতিত হয়ে যাবে।       

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত স্ত্রীর উপর তিন তালাক পতিত হয়ে গিয়েছে।      

তিন তালাক দেবার পর উক্ত মহিলা আর নিজের স্ত্রী থাকে না। পর মানুষ হয়ে যায়। 

এক্ষেত্রে তাকে নিয়ে পুনরায় ঘর সংসার করতে চাইলে শরয়ী হালালাহ করতে হবে। 

তা হল, আপনার সাবেক স্ত্রীর ইদ্দতকাল (সন্তান প্রসব) অতিবাহিত হওয়ার পর অন্যত্র শর্তহীন বিবাহ হতে হবে।তারপর সেই স্বামীর সাথে স্বাভাবিক ঘর সংসার করতে হবে।

এমনকি শারিরীক সম্পর্ক হতে হবে। তারপর উক্ত স্বামী যদি আপনার সাবেক স্ত্রীকে তালাক দেয়, তারপর ইদ্দত (৩ হায়েজ) শেষ হয়, তাহলেই কেবল আপনি আবার উক্ত মহিলাকে বিবাহ করতে পারবেন। এবং আবার ঘর সংসার করতে পারবেন। এছাড়া দ্বিতীয় কোন রাস্তা খোলা নেই।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٢:٢٣٠] 

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়া হয়, তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে,তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়,তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা;যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। [সূরা বাকারা-২৩০]

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাঃ এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। কারণ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। {সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩}

عن مجاهد قال كنت عند ابن عباس فجاء رجل فقال إنه طلق امرأته ثلاثا. قال فسكت حتى ظننت أنه رادها إليه ثم قال ينطلق أحدكم فيركب الحموقة ثم يقول يا ابن عباس يا ابن عباس وإن الله قال (وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مَخْرَجًا) وإنك لم تتق الله فلم أجد لك مخرجا عصيت ربك وبانت منك امرأتك

অর্থ: হযরত মুজাহিদ রহঃ. বলেন,আমি ইবনে আব্বাস রাঃ-এর পাশে ছিলাম। সে সময় এক ব্যক্তি এসে বলেন-‘সে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ চুপ করে রইলেন। আমি মনে মনে ভাবছিলাম-হয়ত তিনি তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার কথা বলবেন (রুজু করার হুকুম দিবেন)। কিছুক্ষণ পর ইবনে আব্বাস রা. বলেন,তোমাদের অনেকে নির্বোধের মত কাজ কর;[তিন তালাক দিয়ে দাও!] তারপর ‘ইবনে আব্বাস! ইবনে আব্বাস! বলে চিৎকার করতে থাক। শুনে রাখ আল্লাহ তা‘য়ালা বাণী-“যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘য়ালাকে ভয় করে আল্লাহ তা‘য়ালা তার জন্য পথকে খুলে দেন। তুমিতো স্বীয় রবের নাফরমানী করেছো [তিন তালাক দিয়ে]। এ কারণে তোমার স্ত্রী তোমার থেকে পৃথক হয়ে গেছে। {সুনানে আবু দাউদ-১/২৯৯, হাদীস নং-২১৯৯, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১৪৭২০, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৪৩}

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০২)
এভাবে কথা বলে বিবাহ করা, শর্ত করে বিবাহ করাকে ওলামায়ে কেরাম কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

তদুপরি এরপর সে স্বামী যদি আপনার স্ত্রীকে তালাক দেয়,এরপর তার ইদ্দতকাল অতিবাহিত হওয়ার পর তাকে যদি আপনি আবারো বিবাহ করেন, সেক্ষেত্রে আপনার বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

বিবাহের পর আপনি পরিপূর্ণ তিন তালাকের মালিক হবেন।

(০৩)
ইদ্দতকাল অতিবাহিত হওয়ার আগ পর্যন্ত অর্থাৎ সন্তান প্রসবের আগ পর্যন্ত আপনি তার দেখাশোনা করতে পারবেন।

আপনার বাসাতেই সে থেকে ইদ্দত কাল অতিবাহিত করবে।

এমতাবস্থায় তার জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করতে হবে।

সে যেহেতু আপনার আর স্ত্রী নয়, তাই তার সাথে গায়রে মাহরামের মতই পরিপূর্ণ পর্দা মেইনটেইন করে চলতে হবে।

তার চেহারা দেখা আপনার জন্য জায়েজ হবে না।

বিশেষ প্রয়োজনে বৈধ কথা পর্দার আড়াল হতে বলতে পারবেন।

বিনা প্রয়োজনে কোন কথা বলা পর্দার আড়াল হতেও জায়েজ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...