আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
82 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (29 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম উস্তায

আমার ননদ এর সাথে তার স্বামীর ৩তালাক হয়ে গেছে এক বৈঠকে।এরপর তারা মোহরানার টাকা ও নিয়ে নিছে।তারপর ২বছর যোগাযোগ ছিলোনা।এখন আবার তারা নতুন করে বিয়ে করে নিছে।ননদ আমার শ্বশুরবাড়িতেই থাকে।তারা আহলে হাদীস আলেমদের ফতোয়া মতে বিয়েটা করছে।
কিন্তু আমি ব্যক্তিগত ভাবে ৩তালাকে তালাক হয়ে যায় এটাই শক্তিশালী মনে করি।যদিও অন্যটা সঠিক না ভুল নিশ্চিত জানিনা।

প্রশ্ন হচ্ছে-

১...আমি তাদের সম্পর্ক টাকে কিভাবে নিবো?তার স্বামীকে কি মেনে নিবো নাকি তাদের এই বিয়েকে যিনা ভেবে এড়িয়ে চলবো?এড়িয়ে চলাও তো সম্ভব মনে হচ্ছেনা,তারা এই বাড়িতে আসবে,যাবে,রাত কাটাবে।তাদের বাড়িতে আমাদেরকেও যাওয়া আসা করতে হবে,খাবার খেতে হবে।এমন একটা ফ্যামিলি যে আমি বা আমার হাজব্যান্ড বিপরীত কিছু বলার যোগ্যতা নেই।
আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই এই বিয়েকে মেনে নিছে।যেহেতু এক দল আলেম এটাকে যায়েজ বলছে।তারা মাযহাব কি,বা আহলে হাদীস কি এসব সম্পর্কে জানেনা কিছু।

দয়া করে উস্তায,আচার-আচরণ এর এই বিষয়টি পরিষ্কার করে বলুন।তাদেরকে আদর,আপ্যায়ন করলে,টাকা পয়সা দিয়ে ঘরবাড়ি করতে সাহায্য করলে কি আমরা গুনাহগার হবো?

আর,এই মাসয়ালার ব্যাপারে আমার আকীদা কি হবে?যেহেতু সকল ইখতেলাফি মাসয়ালা আমার টা সঠিক মবে হলেও অন্যের টা ভুল মনে করা যাবেনা।এই ক্ষেত্রেও কি সেইম?নাকি অকাট্য ভাবে একটিই সঠিক,অন্যটি ভুল?

1 Answer

0 votes
by (769,830 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেবার পর সেই স্ত্রী হতে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে তাকে নিয়ে কোনোক্রমেই আর সংসার করা যাবে না।

এটা কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ। আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ।

তাই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেবার পর উক্ত স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করার কোন সুযোগ নেই।

প্রতিটি মুমিন মুসলমান আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদের্শ মানতে বাধ্য।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٢:٢٣٠]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়,তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে,তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়,তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। {সূরা বাকারা-২৩০}

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাঃ এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। কারণ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। {সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩}

হযরত ফাতেমা বিনতে কায়স রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছি, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে এখন আমি আমার সাথে ব্যভিচারের ভয় করছি। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে স্থানান্তর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৯১৬৮)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
৩ তালাকের পর পুনরায় সংসার করা ধর্মীয়ভাবে হারাম, নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিকভাবে ধ্বংসাত্মক এবং সামাজিক-আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ইসলামী বিধান মেনে চলাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সবার জন্য নিরাপদ ও কল্যাণকর পথ।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে তাদের যেনার গুনাহ হবে।

কারণ এভাবে গায়রে মাহরাম কোন নারীর সাথে থাকা এসবই যেনার অন্তর্ভুক্ত।

তাদের সাথে সাময়িকভাবে আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারবেন। তবে যদি তারা কখনো সঠিক পথে ফিরে আসে, বৈবাহিক সম্পর্ককে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, সেক্ষেত্রে আবারো তাদের সাথে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রেখে চলবেন।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

তাদেরকে আদর,আপ্যায়ন,টাকা পয়সা দিয়ে ঘরবাড়ি করতে সাহায্য করা থেকে বিরত থাকার চেষ্টা করবেন।
অনেকক্ষেত্রে তাহা গুনাহের কাজে সহযোগিতার শামিল।

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...