আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
85 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (22 points)
আসসালামু আলাইকুম,
যাকাত সংক্রান্ত কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে চাচ্ছি।

১। ব্যবহৃত গয়নার জাকাত দিতে হবে কি না?
২। আমি নারী। আমার বাবা কিংবা আমার প্রতিবন্ধী খালাকে কি যাকাত দিতে পারবো? আমার বাবার ছেলে নেই। তিনি বর্তমানে যা ইনকাম করছেন তা দিয়ে সংসার চালানো কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। আমার প্রতিবন্ধী খালাও আমার বাবা মায়ের সাথে থাকে। যদি বাবাকে না দিতে পারি তাহলে ঐ খালাকে উদ্দ্যেশ্য করে কি যাকাত দিতে পারব? তাহলে আমার বাবা মা উপকৃত হবে।
৩। আমার হাতে জমানো কিছু টাকা আছে এগুলোর এক বছর হয় নি। আর গয়নাগুলোর বছর ঘুরেছে। যাকাত কি তবে শুধু গয়নার দিবো? শুধু সোনা যদি রূপার পরিমাণে যাকাতের হিসাবে চলে আসে তাহলে কি শুধু সোনা থাকলেও যাকাত দিতে হবে? ২২ আনা সোনায় কয় টাকা আসবে। শাওয়ালের ৩ তারিখে বছর ঘুরবে। কয় টাকা যাকাত দিবো তবে?

৪। যাকাত কি বর্তমানের বিক্রয়মূল্য দিয়ে হিসাব হবে? যদি তাই হয় তাহলে কি ২৫% কমে যাবে হিসাবে?

1 Answer

0 votes
by (770,190 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
শরীয়তের বিধান হলো ব্যবহৃত গহণা যদি নেসাব পরিমাণ হয় অথবা তার অন্যান্য সম্পদের সাথে মিলে নেসাব পরিমাণ সম্পদে পৌঁছে,  এমতাবস্থায় সেই ব্যবহৃত গহনার উপরেও যাকাত ফরজ হবে।

যাকাত প্রদান না করলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ

عن عمرو بن شعيب عن أبيه عن جده أن امرأة أتت رسول الله صلى الله عليه و سلم ومعها ابنة لها وفي يد ابنتها مسكتان غليظتان من ذهب فقال لها ” أتعطين زكاة هذا ؟ ” قالت لا قال ” أيسرك أن يسورك الله بهما يوم القيامة سوارين من نار ؟ ” قال فخلعتهما فألقتهما إلى النبي صلى الله عليه و سلم وقالت هما لله عزوجل ولرسوله

অনুবাদ- আমর বিন শুয়াইব থেকে পর্যায়ক্রমে তাঁর পিতা ও দাদার সূত্রে বর্ণিত। তিন [দাদা] বলেনঃ এক মহিলা তার কন্যাসহ রাসূল সাঃ এর খিদমতে উপস্থিত হন। তার কন্যার হাতে মোটা দুই গাছি স্বর্ণের চুড়ি [কাঁকন] ছিল। তিনি [রাসূল সাঃ] তাকে বললেনঃ তোমরা কি এটার যাকাত আদায় কর? মহিলা বলেনঃ না। রাসূল সাঃ বলেনঃ তুমি পছন্দ কর যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা এর পরিবর্তে তোমাকে এক জোড়া আগুনের কাঁকন পরিধান করান? রাবী বলেনঃ একথা শুনে মেয়েটি তার হাত থেকে তা খুলে নবী করীম সাঃ এর সামনে রেখে দিয়ে বললঃ এ দু’টি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের জন্য। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫৬৩, সুনানুল কুবরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-৭৭৯৯, সুনানুল কুবরা লিননাসায়ী, হাদীস নং-২২৫৮, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-২০০৫}

عن عبد الله بن شداد بن الهاد أنه قال دخلنا على عائشة زوج النبي صلى الله عليه و سلم فقالت ” دخل علي رسول الله صلى الله عليه و سلم فرأى في يدي فتخات ( خواتيم كبار ) من ورق فقال ” ما هذا يا عائشة ” ؟ فقلت صنعتهن أتزين لك يارسول الله قال ” أتؤدين زكاتهن ؟ ” قلت لا أو ماشاء الله قال ” هو حسبك من النار “

হযরত আব্দুল্লাহ বিন শাদ্দাদ ইবনুল হাদ থেকে বর্ণিত। তিন বলেন, আমরা রাসূল সাঃ এর স্ত্রী হযরত আয়শা রাঃ এর খেদমতে উপস্থিত হই। তখন তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ আমার নিকট উপস্থিত হয়ে আমার তাতে রূপার বড় বড় আংটি দেখতে পান। তিনি বলেন, হে আয়শা! এটা কি? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার উদ্দেশ্যে রূপচর্চা করার জন্য তা বানিয়েছি। তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তুমি কি এর যাকাত পরিশোধ করে থাক? আমি বললাম, না অথবা আল্লাহ পাকে যা ইচ্ছে ছিল। রাসূল সাঃ বললেনঃ তোমাকে দোযখে নিয়ে যাওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-১৫৬৫, সুনানে সুগরা লিলবায়হাকী, হাদীস নং-১২৩৩, সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-৭৩৩৮, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-১৯৭৪, মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং-১৪৩৭}

(০২)
আপনি আপনার বাবাকে যাকাত দিতে পারবেন না।

আপনার খালা যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক না হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে তাকে আপনি যাকাত দিতে পারবেন।

নেসাব পরিমান সম্পদ সম্পর্কে জানুনঃ- 

(০৩)
এক্ষেত্রে আপনার স্বর্ণের সাথে যদি কোন রুপা না থাকে, আর আপনার স্বর্ণ যদি সাড়ে সাত ভরি না হয়, তাহলে আপনাকে এখনই যাকাত দিতে হবে না।

বরং আপনি যেদিন ওই টাকার মালিক হয়েছেন পরবর্তী বছর সেদিনে এসে আপনি যাকাত আদায় করবেন।

এমতাবস্থায় আপনার মালিকানায় থাকা যাবতীয় স্বর্ণের বর্তমান মূল্য এবং আপনার জমানো টাকা একত্র করে শতকরা আড়াই পার্সেন্ট তথা চল্লিশ ভাগের এক ভাগ যাকাত আদায় করবেন।

(০৪)
যাকাত বর্তমানের বিক্রয়মূল্য দিয়ে হিসাব হবে।এক্ষেত্রে দাম কিছুটা কমে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...