আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
83 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (14 points)
আসসালামুয়ালাইকুম হুজুর,
অনুরোধ রইলো আমার বিষয় টা একটু নমনীয় ভাবে দেখে একটা রাস্তা দেখানোর আমি আমার স্ত্রী কে ফিরে পেতে চাই ।
এক বছর আগে স্ত্রীকে ১ তালাক দিয়েছিলাম এবং ফিরিয়ে নিয়ে সংসার করছি । দুদিন হলো ঝামেলার মধ্যে স্ত্রী এক সঙ্গে 6 থেকে 7 বার তালাক বলেছি ।
ভারতীয় নতুন আইন অনুযায়ী তিন তালাক প্রথা টা সুপ্রিম কোর্ট খারিজ করে দিয়েছে। হানাফী মাযহাব অনুযায়ী হালাহা পদ্ধতি ছাড়া রাস্তা নেই । আমার স্ত্রী গর্ভবতী । আমার ও আমার স্ত্রীর পরিবার পাগল হয়ে গিয়েছে । আমি কি করবো কিছুই বুঝতে পারছিনা ।
আমাদের এখানকার একজন মৌলভী বলল তিন বার একসঙ্গে বলে একবার ই হয় তাহলে ফিরিয়ে নেওয়া যাবে কোনো সমস্যা না। কিন্তু এটা তো হানাফী মাযহাব এর নিয়ম না।
১.হুজুর আমার যা সমস্যা যদি আমি ফারাজী মাযহাব মানে আহলে হাদীস বায়াত করি , অনুসরণ করি, তাহলে আমার বিষয় টার একটা সমাধান পাবো , আমার স্ত্রী কে ফিরে পাবো। হুজুর প্লীজ আমাকে একটু নমনীয় ভাবে হেল্প করুন । আমি কি আমার স্ত্রী কে ফিরিয়ে নিয়ে আহেলে হাদীস অনুসরণ করতে পারি। ??

২. নফস পূজা নয় হুজুর আমি কোরান ও সুন্নাহ কে ভালবেসে আহলে হাদীস বায়াত করবো । আমি কি এটা করতে পারি।? তাহলে কি আমার স্ত্রী কে ফিরে পাবো??

মুফতী ওলিউল্লাহ হুজুর আপনাকে আমি অনেক ভরসা করি । আপনাকে প্লীজ সাহায্য করেন

1 Answer

0 votes
by (765,300 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেবার পর সেই স্ত্রী হতে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে তাকে নিয়ে কোনোক্রমেই আর সংসার করা যাবে না।

এটা কুরআন ও হাদীসের নির্দেশ। আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নির্দেশ।

তাই স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়ে দেবার পর উক্ত স্ত্রীর সাথে ঘর সংসার করার কোন সুযোগ নেই।

প্রতিটি মুমিন মুসলমান আল্লাহর ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিদের্শ মানতে বাধ্য।

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِن بَعْدُ حَتَّىٰ تَنكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ ۗ فَإِن طَلَّقَهَا فَلَا جُنَاحَ عَلَيْهِمَا أَن يَتَرَاجَعَا إِن ظَنَّا أَن يُقِيمَا حُدُودَ اللَّهِ ۗ وَتِلْكَ حُدُودُ اللَّهِ يُبَيِّنُهَا لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ [٢:٢٣٠]

তারপর যদি সে স্ত্রীকে (তৃতীয়বার) তালাক দেয়,তবে সে স্ত্রী যে পর্যন্ত তাকে ছাড়া অপর কোন স্বামীর সাথে বিয়ে করে না নেবে,তার জন্য হালাল নয়। অতঃপর যদি দ্বিতীয় স্বামী তালাক দিয়ে দেয়,তাহলে তাদের উভয়ের জন্যই পরস্পরকে পুনরায় বিয়ে করাতে কোন পাপ নেই। যদি আল্লাহর হুকুম বজায় রাখার ইচ্ছা থাকে। আর এই হলো আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা; যারা উপলব্ধি করে তাদের জন্য এসব বর্ণনা করা হয়। {সূরা বাকারা-২৩০}

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك

হযরত নাফে রহ. বলেন,যখন হযরত ইবনে উমর রাঃ এর কাছে ‘এক সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়া না হওয়া’ (রুজু‘করা যাবে কিনা) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলো,তখন তিনি বলেন-“যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ‘রুজু’ [তথা স্ত্রীকে বিবাহ করা ছাড়াই ফিরিয়ে আনা] করতে পার। কারণ,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ‘রুজু’ করার আদেশ দিয়েছিলেন। যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করা পর্যন্ত। {সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩}

হযরত ফাতেমা বিনতে কায়স রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেছি, আমার স্বামী আমাকে তিন তালাক দিয়েছে এখন আমি আমার সাথে ব্যভিচারের ভয় করছি। তখন রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে স্থানান্তর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সহীহ মুসলিম, হাদীস : ১৪৮২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ১৯১৬৮)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
৩ তালাকের পর পুনরায় সংসার করা ধর্মীয়ভাবে হারাম, নৈতিকভাবে ক্ষতিকর, মানসিকভাবে ধ্বংসাত্মক এবং সামাজিক-আইনগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ইসলামী বিধান মেনে চলাই ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ সবার জন্য নিরাপদ ও কল্যাণকর পথ।

প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে মাযহাব পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
এভাবে সংসার চালিয়ে গেলে মহান আল্লাহর দরবারে যেনার গুনাহ হবে।

কারণ এভাবে গায়রে মাহরাম কোন নারীর সাথে থাকা এসবই যেনার অন্তর্ভুক্ত।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

বিস্তারিত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

...