আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (62 points)
edited by
১।আমার বাবা অসুস্থ চিকিৎসার জন্য আপার বাসায় আছি যা সফর দুরত্বে। কতদিন থাকতে হবে ঠিক নাই। যদি কোনো কারনে বা কাজে ১৫ হওয়ার আগেই বাড়িতে যাই আবার আসি আবার ১৫ দিন হওয়ার আগে আবার বাড়িতে যাই আমিকি মুসাফির হবো। আর যদি না হই মুসাফির মনে করে কসর আদায় করছি সেগুলোর কি হবে?

২।আমার বাবা ব্রেন স্টোক করছে সে ঠিক মত কথা বলতে পারে না হাঠতে বসতে পারে না  তার খেদমত আমার আপা আর মা করে। আমার আপা দুলাভাই বলছে আমাকে বিদেশ পাঠাবে মাও নিষেধ করে নাই টাকা দিলে মা দিবে। আপা বলছে মা বাবা উনার কাছেই থাকবে। বাবার উপার্যনেই আমি আমার বউ বাচ্চার ভরনপোষণ হতো এখন তো আর বাবা ইনকাম করতে পারবেনা সুস্থ হলেও আর কাজ করতে দিবেনা। বাবার সেবাতো আপা করবে আরেক ভাই দেশে আছে এখন আমি যদি বিদেশ যাই তাহলে কি বাবা মার অবাধ্য হব কোনো ধরনের গুনাহ হবে কি না?

৩।পাশের রুমে বা দুরে মাইকে কোরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ ভালো করে শোনা যায় না কিছু বুঝা যায় কিছু যায়না এরকম অবস্থায় মনোযোগ দিয়ে না শুনলে গুনাহ হবে কি?

৪।উপর হয়ে ঘুমানো নিষেধ নাকি সোয়াও নিষেধ?


৫।মাহফিলে বা পোস্টারে বাংলাতে বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম লিখা এবং নারায়ে তাকবির আল্লাহু আকবার নারায়ে রিসালাত ইয়া রাসুলুল্লাহ সাঃ লেখা আরও ইসলামিক লেখা থাকে । আমি বলছিলাম যে বিসমিল্লাহ লেখা ঠিকনা পোলাপান ছিড়ে ফেলে রাস্তায় পরে থাকে মানুষ পারায় ঢিলা কুলুপ হিসেবে ব্যাবহার করে।  আমাদের হুজুর বলছে বাংলাতে লিখা সমস্যা নাই  আরবি হলে সমস্যা তবে কাগজ দিয়ে ঢিলা করা যাবে না। উনার বক্তব্য ঠিক কিনা?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/41598/ ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ-
হাদীস শরীফে এসেছেঃ  

عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: فُرِضَتِ الصَّلَاةُ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ إِلَّا الْمَغْرِبَ فُرِضَتْ ثَلَاثًا لِأَنَّهَا وِتْرٌ، قَالَتْ: ” وَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا سَافَرَ صَلَّى الصَّلَاةَ الْأُولَى إِلَّا الْمَغْرِبَ، فَإِذَا أَقَامَ زَادَ مَعَ كُلِّ رَكْعَتَيْنِ رَكْعَتَيْنِ إِلَّا الْمَغْرِبَ، لِأَنَّهَا وَتْرٌ، وَالصُّبْحَ، لِأَنَّهُ يُطَوِّلُ فِيهَا الْقِرَاءَةَ “

হযরত আয়শা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, প্রথম প্রথম নামায দুই রাকাত করে ফরজ হয় মাগরিব ছাড়া। কারণ এটি শুরুতেই ছিল তিন রাকাত। কেননা, এটি দিনের বিতির নামায। তিনি আরো বলেন, রাসূল সাঃ যখন সফর করতেন, তখন তিনি দুই রাকাত করেই পড়তেন, মাগরিব ছাড়া। তথা মাগরিব তিন রাকাতই পড়তেন। তার পরবর্তীতে দুই রাকাতের সাথে দুই রাকাত বৃদ্ধি করা হল মাগরিব ছাড়া। কেননা এটি [দিনের] বিতির। আর ফজরের দুই রাকাতের সাথে বৃদ্ধি করা হয়নি, কেননা এতে লম্বা কিরাত পড়া হয়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৬২৮২, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৩০৫, সুনানে সগীর লিলবায়হাকী, হাদীস নং-২৫৫}
 
فى تنوير الابصار- (من خرج من عمارة موضع إقامته) قاصدا مسيرة ثلاثة أيام ولياليها بالسير الوسط مع الاستراحات المعتادة صلى الفرض الرباعي ركعتين حتى يدخل موضع مقامه أَوْ يَنْوِيَ إقَامَةَ نِصْفِ شَهْرٍ (الدر المختار، كتاب الصلاة، باب صلاة المسافر-2/599-605، قاضى خان-1/164)

সারমর্মঃ কোনো ব্যাক্তি যদি তিন দিন তিন রাত সমপরিমাণ  দুরত্ব সফর করে,নিজ শহরের মৌজা থেকে বের হওয়া মাত্র ব্যাক্তি চার রাকাত ওয়ালা ফরজকে চার রাকাত করে আদায় করবে।
 
আরো জানুনঃ 

কেহ যদি পনেরো দিন বা তার চেয়ে বেশি  থাকার নিয়ত না করেন,বরং আজ কাল বা ১৫ দিনের আগেই যেকোনো মুহুর্তে চলে যেতে হবে,,এমন নিয়তই যদি হয়,তাহলে সে ব্যাক্তি এই অবস্থায় যতদিন সেখানে থাকবে,মুসাফির হিসেবে কসরের নামাজ আদায় করবে।
,
ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ

أو دخل بلدة ولم ينوها) أي مدة الإقامة (بل ترقب السفر) غدا أو بعده (ولو بقي) على ذلك (سنين) إلا أن يعلم تأخر القافلة نصف شهر كما مر.
(قوله: أو دخل بلدة) أي لقضاء حاجة أو انتظار رفقة.
(قوله: ولم ينوها) وكذا إذا نواها وهو مترقب للسفر كما في البحر لأن حالته تنافي عزيمته."
(باب صلوة المسافر، ج:2، ص:126، ط:ایچ ایم سعید)

সারমর্মঃ
যদি এমন হয় যে কাল চলে যাবো বা পরশু চলে যাবো,নিয়ত যদি নির্দিষ্ট না থাকে, এইভাবে যদি দুই বছরও,তাহলেই ব্যাক্তি কসর করবে।
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনি মুসাফির হিসেবে থাকবেন। এক্ষেত্রে নামাজ কসর করবেন।

তবে যদি শুরুতেই ১৫ দিন তার বেশি থাকার নিয়ত করেন,তাহলে স্বাভাবিক ভাবে সম্পূর্ণ সালাত আদায় করবেন।

আর যদি সে শুরুতেই ১৪ দিন বা তার চেয়ে কম দিন থাকার নিয়ত করেন,পরবর্তীতে ১৪ দিনের পর কাজ শেষ না হওয়ায় আরো কিছু দিন থাকার নিয়ত করেন,সেক্ষেত্রে আপনি কসরের সালাত আদায় করবেন।
পূর্ণ নামাজ আদায় করবেননা।

(০২)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার বাবা-মা যেহেতু আপনাকে বিদেশে যেতে বলছেন বা নিষেধ করছেননা, সুতরাং এক্ষেত্রে বিদেশে গেলে আপনি আপনার বাবা মার অবাধ্য হবেন না।

এমতাবস্থায় স্ত্রীকে ছাড়া বিদেশে গেলে সেক্ষেত্রে এর বিধান জানুনঃ-

(০৩)
না,গুনাহ হবেনা।

(০৪)
কোনোটিই জায়েজ নেই।

বিস্তারিত জানুনঃ- 

(০৫)
এক্ষেত্রে আপনি যেটা বলেছেন সেটাই সঠিক। আপনাদের হুজুর যেটা বলেছে, সেটি সঠিক নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...