আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
53 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (47 points)
একটা শুকনো রুগ্ন বিড়াল আছে যে আমাদের পাশের বাসার চালে এসেছিলো। আমাদের বাসা থেকে তাদের চালে আমরা বিভিন্ন তরকারি ও খাবার ফেলতাম। কিন্তু এতে করে প্রতিনিয়ত ও এখানে এসে শব্দ করে এবং যাদের চালের উপর আসে,- চাল তাদের ই পরিষ্কার করতে হয়, প্লাস তাদের বাচ্চা ও ঘুমাতে পারে না বিড়ালের শব্দে। এটা নিয়ে গতকাল তারা অনেক রাগ করে, আমার মা ও খুব রাগারাগি করে তাদের সাথে। আমি তাদের বলি, " আমাদের এখানে খাবার দেওয়া ভুল হয়েছে, এরপর থেকে দিবো না "

উল্লেখ্য, বিড়াল হাঁটতে পারে। এখানে খাবার না ফেললে অন্য জায়গায় খুজবে, যেভাবে আগে খুঁজতো। অথবা আমাদের বাসায় ও আসে প্রায় ই। আমরা চাচ্ছিলাম যাতে বিড়াল টা আগের মতো সব জায়গায় ঘুরে বেড়ায় এখানেই পরে না থেকে খাবারের আশায়।

প্রশ্ন হলো --

১. আমার আম্মু বলতেসে আমাদের নাকি অধিকার আছে তাদের বাসার উপরে খাবার দেওয়ার। চালের পাশে পাকা জায়গা- সেখানে দেওয়ার -- যদিও তাদের অনুমতি নেই, এবং বার বার এখানেই এসে চিৎকার করতে থাকবে বিড়াল এখানে খাবার পেলে। এটা নাকি দিতেই হবে - fatwa এনেছে এক মাদ্রাসা থেকে, আম্মুর মতো describe করে। এটা কি আসলেই ঠিক?


২. আম্মু আমার মাফ চাওয়াটাকে "ভুল", "লজ্জাহীনতা" বলে আখ্যা দিচ্ছে। এটা মানতেই পারছে না আমরা কিভাবে মাফ চাইলাম। যদিও মাফ চাওয়ার পর তারা একটুও কথা বলে নি/ খারাপ ব্যবহার করে নি আর। আম্মু সেই ভাড়াটিয়ার ব্যাপারে " তুচ্ছ ভাড়াটিয়া " শব্দ বলেছে। যেনো তার অধিকার নেই তার ডিসটার্ব হলে কথা বলার। এটা কেমন শরীয়তের দৃষ্টিতে?


৩. নবীজি কখনো এরকম বিড়ালের কারণে মাফ চান নি - আম্মু এটাও বলেছে এখানে মাফ চাওয়ার কিছু হয় নি বোঝাতে, এ বিষয়ে জানাবেন প্লিজ।


৪. আম্মু অনেক নফল ইবাদত করে। অনেক রোজা রাখে। কিন্তু প্রতিহিংসা পরায়ণ। এই পুরো ঘটনায় আম্মু নিজের কোনো ভুল বারবার বোঝানোর পরও খুঁজে পাচ্ছে না। সবার না করার পরেও বার বার খাবার দিচ্ছে এখানেই লুকিয়ে। না করলে আমরা তর্ক করছি, বেয়াদবি করছি বলছে। এক্ষেত্রে আম্মু কি এভাবে খাবার দিতে থাকবে?


অনেক তুচ্ছ বিষয় হলেও এটা নিয়ে অনেক ঝামেলা বাসায়। আম্মু আবার fatwa নিয়ে আসায় আরো ঝামেলা করছে। উত্তর দিবেন প্লিজ।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
অন্যর মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত কারো জন্য হালাল হয় না। কেননা আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﻻَ ﺗَﺄْﻛُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻣْﻮَﺍﻟَﻜُﻢْ ﺑَﻴْﻨَﻜُﻢْ ﺑِﺎﻟْﺒَﺎﻃِﻞِ ﺇِﻻَّ ﺃَﻥ ﺗَﻜُﻮﻥَ ﺗِﺠَﺎﺭَﺓً ﻋَﻦ ﺗَﺮَﺍﺽٍ ﻣِّﻨﻜُﻢْ ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻜُﻢْ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ
তরজমাঃ-হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু। (সূরা নিসা(২৯)

এবং হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত,
عن ابن عباس قال;قال رسول اللّٰه صلى اللّٰه عليه و سلم ﻻ ﻳﺤﻞ ﻣﺎﻝ ﺍﻣﺮﺉ ﻣﺴﻠﻢ ﺇﻻ ﺑﻄﻴﺐ ﻧﻔﺲ ﻣﻨﻪ " 
নবী কারীম সাঃ বলেনঃ"কোন মুসলমানের জন্য  অন্য কোনো মুসলমানের মাল তার অন্তরের সন্তুষ্টি ব্যতীত হালাল হবে না। (তালখিসুল হাবীর-১২৪৯)আরো জানুন- https://www.ifatwa.info/3747

সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
আপনার প্রশ্নের সমস্ত শাখা প্রশাখার মৌলিক উত্তর হচ্ছে, আপনার ক্ষমা চাওয়াটি যথার্থ।আপনার আম্মু ভুলের উপর আছেন। তাদের চালে আর কিছুই ফেলবেন না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...