আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
69 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (11 points)
এমন একজন মেয়ে যার নিজের কোনো ইনকাম নাই। স্বামী নেশাগ্রস্ত। কোনো কাজ করে না। শ্বশুড় বাড়িতে বাবার বাড়ির থেকে টাকা নিয়ে চলে। একটা মেয়ে সন্তান আছে ৮ বছর এর। কিন্তু স্বামীর বাড়িতে গ্রামে শওশুড়ের জমি আছে, আধা পাকা বাড়ি আছে সেটিতে ১ রুম এ থাকে। শ্বশুর শাশুড়িও অসুস্থ। তাদের খরচ তাদের মেয়েরা চালায়। মেয়ের এবং তার সন্তানের সকল ভরণ পোষন তার বোন ভাই মা দেয়। এমন নারী কি যাকাত এর হকদার?


আর আমার একটা অংশীদারী ব্যবসা আছে। যেখানে আমি শুধু টাকা ইনভেস্ট করসি। ৫০-৫০ অংশীদার আমরা ২ জন। এখন আমার ব্যবসা তে যা ইনভেস্ট আছে এটার উপর যাকাত দিব নাকি কত টাকার প্রডাক্ট আছে এটার উপর যাকাত দিব?
আর একজন এর বিজনেস এ আমি একটা ইনভেস্ট করে রাখসি। প্রতি মাসে প্রফিট পাই। এখন ঐ ইনভেস্ট এর উপর যাকাত কিভাবে দিব? মূল টাকার উপর যাকাত দিব?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/71830/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা বলছেন

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِّنَ اللّهِ وَاللّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ

যাকাত হল কেবল (১)ফকির, (২)মিসকীন, (৩)যাকাত উসূলকারী ও (৪)যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের হক (৫)এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে ও (৬)ঋণগ্রস্তদের জন্য, (৭)আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং(৮) মুসাফিরদের জন্যে, এই হল আল্লাহর নির্ধারিত বিধান।আল্লাহ সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।(সূরা আত-তাওবাহ-৬০)

কে যাকাত খেতে পারবে?

وَلَا يُشْتَرَطُ النَّمَاءُ إذْ هُوَ شَرْطُ وُجُوبِ الزَّكَاةِ لَا الْحِرْمَانِ كَذَا فِي الْكَافِي. وَيَجُوزُ دَفْعُهَا إلَى مَنْ يَمْلِكُ أَقَلَّ مِنْ النِّصَابِ، وَإِنْ كَانَ صَحِيحًا مُكْتَسَبًا كَذَا فِي الزَّاهِدِيِّ.

অর্থাৎ-নেসাব পরিমাণ মাল(নামী তথা বাড়ন্ত হোক বা না হোক,শরীয়তে নামী মাল চার প্রকার যথা-স্বর্ণ,রূপা বা টাকা,ব্যবসার মাল,গবাদি পশু)
এর মালিক না হলে যাকাত খাওয়া যাবে যদি প্রয়োজন থাকে।তাই গায়রে নামী বা অবাড়ন্ত মালের নেসাব পরিমাণ কেউ মালিক হলে যদিও তার উপর যাকাত আসবে না তথাপিও সে যাকাতের মাল খেতে পারবে না।আর কোনো প্রকার মালই যদি কারো কাছে নেসাব পরিমাণ না থাকে তাহলে সে সুস্থ উপার্জন স্বক্ষম হওয়া সত্তেও তার জন্য যাকাতের মাল খাওয়া জায়েয আছে।
(ফাতাওয়া হিন্দিয়া-১/১৮৯) 

যে ব্যাক্তি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক নন,সেই ব্যাক্তি শরীয়তের পরিভাষায় ধনী নয়,সে ফকির।
সুতরাং সেই ব্যাক্তিকে যাকাত দেয়া যাবে।

আরো জানুনঃ- 

★সুপ্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত বোন যদি নেসাব পরিমান সম্পদের মালিক না হয়ে থাকেন,সেক্ষেত্রে তাকে যাকাত দেয়া যাবে।

অন্যথায় নয়। 

(০২)
এক্ষেত্রে সে ব্যবসায় যেহেতু আপনার অর্ধেক পণ্য রয়েছে, সে অর্ধেক পণ্যের বিক্রয় মূল্য আর আপনার কাছে থাকা অন্যান্য টাকা ও যাকাতযোগ্য সম্পদ মিলে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদে পৌঁছে, সেক্ষেত্রে আপনি যাকাত প্রদান করবেন।

অন্যজনের ব্যবসায় আপনি যে টাকা ইনভেস্ট করেছেন, সে টাকার যে পণ্য তার দোকানে রয়েছে, সে পণ্যের বিক্রয় মূল্য ধরে আপনাকে যাকাত আদায় করতে হবে।

বিষয়টি নিয়ে তার সাথে আলোচনা করবেন, এক্ষেত্রে কত টাকার পণ্য রয়েছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...