আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
131 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (5 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমি সদ্য Doctor of Veterinary Medicine এ অনার্স কমপ্লিট করা একজন অবিবাহিত মেয়ে।অর্থাৎ আমি একজন ভেটেরিনারি ডক্টর(পশুপ্রাণী চিকিৎসক)।সুন্নতী-খাস পর্দা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া,চাকুরি করা কঠিন প্রায় অসম্ভব। তাই অনার্স শেষ হওয়ার সাথে সাথে মাস্টার্স না পড়েই আমি বাসায় চলে এসেছি,এখন বাসার পরিস্থিতি ভয়াবহ,চারিদিকে কটুকথা আর অবহেলায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি,এদিকে বিয়ের বিষয়ে দেখতে খুব বেশি সুন্দর না হওয়ায় কুফু মিলিয়ে পাত্রও মিলছে না,আমার SSC,HSC তে GPA 5:00 এবং অনার্সেও First Class টপ রেজাল্ট থাকায় আরো কথা শুনতে হচ্ছে, তারা বলছে BCS cadre হতে বা অন্য কোনো চাকুরি করতে,চাকরি না করলে বাবা-মায়ের এতো টাকা খরচ করে কেন এতো পড়াশোনা করেছি!
বাবা মায়ের উপর কেন এতো জুলুম করছি!বর্তমান জামানার কথা বলে বলছে যদি চাকুরি না করি তাহলে ভবিষ্যতে বিপদ আছে,থাকা-খাওয়ার জায়গাও পাবে না,ইত্যাদি।
এদিকে বর্তমানে আমার বাবারও কোনো চাকুরি নেই,তারা ভেবেছিলো আমি চাকরি করে তাদেরকে দেখবো যদিও বাবা মায়ের শুধু নিজেদের চলার মতো সামর্থ্য আছে,এজন্য তারা আরো কথা শোনাচ্ছে, কষ্ট পাচ্ছে,সব মিলিয়ে পরিস্থিতি খারাপ।
তবে আমি শক্ত নিয়ত করেছি যেখানেই থাকি যেমনই থাকি আমার পুরো জীবন,জীবনের সবকিছু দিয়ে আল্লহর সন্তুষ্টির জন্য দ্বীনের খেদমতের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো ইং শা আল্লহ।
শায়খ,আমার প্রশ্নটি হলো,আমি যেহেতু একজন ভেটেরিনারি ডক্টর এবং আমার বর্তমান হালত এমন এবং নিয়ত আল্লহর জন্য দ্বীনের খেদমত করা,চাকুরি করলেও সেখানে ইসলামের খেদমতের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা থাকতে ইং শা আল্লহ, আবার আমি একজন মেয়ে,সবমিলিয়ে আমার জন্য চাকরি করা কি জায়েজ হবে?
জাযাকাল্লহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ- 

قُلْ لِلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ أَزْكَىٰ لَهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ [٢٤:٣٠] 

وَقُلْ لِلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا ۖ وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَىٰ جُيُوبِهِنَّ ۖ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاءِ بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُولِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَىٰ عَوْرَاتِ النِّسَاءِ ۖ وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِنْ زِينَتِهِنَّ ۚ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَ الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ [٢٤:٣١] 

মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। {সূরা নূর-৩০-৩১}

يَا نِسَاءَ النَّبِيِّ لَسْتُنَّ كَأَحَدٍ مِنَ النِّسَاءِ إِنِ اتَّقَيْتُنَّ فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَيَطْمَعَ الَّذِي فِي قَلْبِهِ مَرَضٌ وَقُلْنَ قَوْلًا مَعْرُوفًا (32) وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى

হে নবীর স্ত্রীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও [ইহুদী খৃষ্টান)। তোমরা যদি আল্লাহকে ভয় পাও তবে আকর্ষণধর্মী ভঙ্গিতে কথা বলনা, যাতে যাদের মাঝে যৌনলিপ্সা আছে তারা তোমাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়। বরং তোমরা স্বাভাবিক কথা বল। এবং তোমরা অবস্থান কর স্বীয় বসবাসের গৃহে, জাহেলী যুগের মেয়েদের মত নিজেদের প্রকাশ করো না। {সূরা আহযাব-৩২}

وَإِذَا سَأَلْتُمُوهُنَّ مَتَاعًا فَاسْأَلُوهُنَّ مِنْ وَرَاءِ حِجَابٍ ذَلِكُمْ أَطْهَرُ لِقُلُوبِكُمْ وَقُلُوبِهِنَّ

অর্থ : আর তোমরা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর স্ত্রীগণের কাছে কিছু চাইলে পর্দার আড়াল থেকে চাইবে। এটা তোমাদের অন্তরের জন্য এবং তাঁদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। {সূরা আহযাব-৫৩}

উপরোক্ত আয়াত সমূহে পরিস্কার ভাষায় মেয়েদের অন্যের সামনে নিজেকে প্রকাশ করতে, অপ্রয়োজনে কথা বলতে, আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে। যা পরিস্কার ভাষায় জানাচ্ছে যে, প্রয়োজন ছাড়া মেয়েদের সাথে কথা বলা জায়েজ নয়।

দ্বীনী বা বৈধ কোন জরুরী বিষয় থাকলে পর্দার আড়ালে থেকে কম কথায় শেষ করে নিবে। অযথা কথা বলা হারাম।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি যেহেতু একজন ভেটেরিনারি ডক্টর (পশুপ্রাণী চিকিৎসক), সুতরাং আপনি হাত পা চেহারাসহ পূর্ণ শরীর পর্দায় আবৃত করে আপনার ডাক্তারি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন।

এক্ষেত্রে পুরুষদের সাথে কথা বলতে হলে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবেন, অপ্রয়োজনীয় কথা বলা থেকে বেঁচে থাকবেন, হাসাহাসি করা থেকে বেঁচে থাকবেন।

ফিতনার আশংকা যেনো না হয়,সেদিকে সতর্ক থাকবেন।

এক্ষেত্রে কর্কশ ভাষায়/বা কন্ঠকে বিকৃত করে কথা বলার চেষ্টা করবেন,এটা সমস্যাকর বা বিরক্তিকর মনে হলে বা এভাবে কথা বলতে না পারলে সেক্ষেত্রে মুখের ওপর হাত রেখে কণ্ঠ বিকৃত করে পর্দার আড়ালে থেকে কথা বলবেন।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
আসসালামু আলাইকুম, জাযাকাল্লাহু খইর- সম্মানিত শায়খ।
শায়খ,আমি কি তাহলে BCS Veterinary Cadre( সরকারি ভেটেরিনারি চিকিৎসক) হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া কিংবা চাকরি করতে পারবো?

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...