আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
106 views
in পবিত্রতা (Purity) by (20 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ উস্তাদ


আমার সারে ছয় মাসের বাচ্চা আছে। ওকে সামলিয়ে পবিত্র থাকা,ঠিক সময় ফরজ ইবাদাতগুলো করা অনেক মুশকিল হয়ে যায় কারণ বার বার প্রসাব করে দেয়।
প্রসাব গায়ে ও কাপড়ে লাগা প্রসঙ্গে:

১/প্রসাব করা টুকু গায়ে এবং কাপড়ে লাগলে তা নাপাক হিসেবে গণ্য হবে?

২/ প্রসাব লাগা কাপড় গায়ে থাকা অবস্থায় প্রসাব লাগা অংশটুকু ধুয়ে ফেললে কি তা পবিত্র হবে নাকি পরিবর্তন করে আলাদা পবিত্র কাপড় পড়তে হবে?

৩/ প্রসাব লাগা কাপড় কি ৩ বার পানি পাল্টিয়ে ধুতে হবে নাকি ১ বার ধুলেই তা পাক হবে?

৪/গায়ে প্রসাব লাগলে সেটা পানি ঢেলে ধুতে হবে নাকি ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে দিলে তা পাক হবে? ঠান্ডায় সবসময় গায়ে পানি ঢেলে ধুয়া টা কষ্ট হয়ে যায়।

৫/ প্রসাব গায়ে বা কাপড়ে লেগেছে আবার লাগেনি এমন সন্দেহ হলে সেক্ষেত্রে কি করবো?

নামাজ পড়া প্রসঙ্গে: বাচ্চাকে আমি আমার মা সহ সামলাই কিন্তু তাও বাচ্চা মাঝে মাঝে আমাকে ছাড়া কারো কাছে থাকতে ছয় না কান্না করে।

৬/ নফল নামায বাদদিয়ে পড়ি মাঝে মাঝে সুন্নতও বাদ দিতে হয়। সেক্ষেত্রে কি আমার গুনাহ হবে? চেষ্টা করি সুন্নাহ ও নফল আদায় করার।

৭/ অনেক সময় চেষ্টা করেও ফরজ নামাজ এর ওয়াক্ত চলে গিয়ে নামাজ কাজা হয়ে যায়। সেক্ষেত্রে ফরজ গুলো কাযা আদায় করে নিলে আল্লাহ্ কি আমাকে মাফ করবেন?
৮/আর প্রতি ওয়াক্তের সাথে কাযা আদায় করলে হবে নাকি দিনের সকল কাযা নামাজ সব একসাথে আদায় করবো?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَلِيِّ بْنِ الْعَلَاءِ ، ثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ شَوْكَرِ بْنِ رَافِعٍ الطُّوسِيُّ ، نَا أَبُو إِسْحَاقَ الضَّرِيرُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ زَكَرِيَّا ، نَا ثَابِتُ بْنُ حَمَّادٍ ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ يَاسِرٍ ، قَالَ : أَتَى عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - وَأَنَا عَلَى بِئْرٍ أَدْلُو مَاءً فِي رِكْوَةٍ لِي ، فَقَالَ : يَا عَمَّارُ ، مَا تَصْنَعُ ؟ قُلْتُ : يَا رَسُولَ اللَّهِ ، بِأَبِي وَأُمِّي ، أَغْسِلُ ثَوْبِي مِنْ نُخَامَةٍ أَصَابَتْهُ . فَقَالَ " يَا عَمَّارُ ، إِنَّمَا يُغْسَلُ الثَّوْبُ مِنْ خَمْسٍ : مِنَ الْغَائِطِ ، وَالْبَوْلِ ، وَالْقَيْءِ ، وَالدَّمِ ، وَالْمَنِيِّ ، يَا عَمَّارُ ، مَا نُخَامَتُكَ وَدُمُوعُ عَيْنَيْكَ وَالْمَاءُ الَّذِي فِي رِكْوَتِكَ إِلَّا سَوَاءٌ "

আহমাদ ইবনে আলী ইবনুল 'আলা (রহঃ) ... আম্মার ইবনে ইয়াসির (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট এলেন, তখন আমি একটি কূপ থেকে বালতি দিয়ে পানি তুলে আমার একটি পানির পাত্রে ভর্তি করছিলাম। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, হে আম্মার! তুমি কি করছো? আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কোরবান হোক। আমি আমার পরিধেয় বস্ত্রে লেগে যাওয়া শ্লেষ্মা পরিষ্কার করছি। তিনি বলেনঃ হে আম্মার! পাঁচটি জিনিস থেকে কাপড় ধৌত করা প্রয়োজনঃ বিষ্ঠা, পেশাব, বমি, রক্ত ও বীর্য। হে আম্মার! তোমার নাকের শ্লেষ্মা, তোমার উভয় চোখের অশ্রু এবং তোমার এই পানির পাত্রের পানি একই সমান (পাক-নাপাকীর হুকুমের ক্ষেত্রে)।
(সুনানে দারা কুতনি ৪৫০)

হাদীস শরীফে পেশাব থেকে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছেঃ
  
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: مَرَّ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِقَبْرَيْنِ، فَقَالَ: ” إِنَّهُمَا لَيُعَذَّبَانِ، وَمَا يُعَذَّبَانِ فِي كَبِيرٍ، أَمَّا أَحَدُهُمَا: فَكَانَ لَا يَسْتَنْزِهُ مِنَ البَوْلِ – قَالَ وَكِيعٌ: مِنْ بَوْلِهِ – وَأَمَّا الْآخَرُ: فَكَانَ يَمْشِي بِالنَّمِيمَةِ “.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা রাসূল সাঃ দু’টি কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম হচ্ছিলেন। বললেন, এ দু’টি কবরে আযাব হচ্ছে। কোন বড় কারণে আজাব হচ্ছে না। একজনের কবরে আজাব হচ্ছে সে পেশাব থেকে ভাল করে ইস্তিঞ্জা করতো না। আরেকজন চোগোলখুরী করতো। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৯৮০, বুখারী, হাদীস নং-১৩৬১}
 
পেশাব যেহেতু নাপাক,তাই এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
হ্যাঁ, এক্ষেত্রে শরীর কাপড় নাপাক বলে গণ্য হবে।

(০২)
প্রসাব লাগা কাপড় গায়ে থাকা অবস্থায় প্রসাব লাগা অংশটুকু শরীয়তের বিধান অনুসারে  ধুয়ে পাক করে ফেললে তা পবিত্র হবে।

পরিবর্তন না করেই পাক করা গেলে সেক্ষেত্রে পরিবর্তন করে আলাদা পবিত্র কাপড় পড়া বাধ্যতামূলক নয়।

এক্ষেত্রে সেই কাপড় পাক করার নিয়ম জানুনঃ-

(০৩)
এক্ষেত্রে কাপড়কে তিনবার ধৌত করে তিনবারই নিংড়াতে হতে। এবং শেষ বার একটু শক্তভাবে নিংড়ানো হবে যাতে করে পরবর্তীতে আর কোনো পানি বাহির না হয়।

(০৪)
এক্ষেত্রে পানি ঢেলে ধোয়া লাগবে।
প্রয়োজনে গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন।

(০৫)
এক্ষেত্রে সেই স্থানে দেখবেন পেশাবের কোন গন্ধ বা চিহ্ন পাওয়া যায় কিনা!

সেখানে পেশাবের গন্ধ বা চিহ্ন না পাওয়া গেলে সেটিকে আপনি পাক ধরবেন। অন্যথায় নাপাক ধরবেন।

(০৬)
সুন্নাতে মুয়াক্কাদা গুলো বাদ না দেওয়ার চেষ্টা করবেন। নফল বাদ গেলেও সমস্যা নেই।  তদুপরি কোনো সময় সুন্নাতে মুয়াক্কাদা আদায় না করতে পারলে সে ওয়াক্তের মধ্যেই আদায় করে নিতে পারেন।

(০৭)
খালেস দিলে আল্লাহর কাছে তওবা করলে আল্লাহ তা'আলা মাফ করে দিবেন।

(০৮)
প্রতি ওয়াক্তের সাথে কাযা আদায় করলেও হবে, দিনের সকল কাযা নামাজ সব একসাথে আদায় করলেও হবে।

তবে আপনি যদি সাহেবে তারতিব হোন,সেক্ষেত্রে আগে কাজা আদায় করবেন।

বালিগ হওয়ার পর যার জীবনে ছয় ওয়াক্তের বেশী নামায কা'যা হয়নি,সেই ব্যক্তিই সাহেবে তারতীব। 

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (20 points)
উস্তাদ যদি এমন হয় যে ওয়াক্তের শেষে শরীরে প্রসাব লেগে শরীর নাপাক হয়েছে এখন শরীর ধুতে গেলে নামাজের ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে কি করবো? নাপাক শরীরে নামাজ আদায় করা যাবে নাকি নামাজ কাযা করে শরীর পবিত্র করবো?

আর যদি এমন হয় শরীরের এমন জায়গায় বা এমন সময় প্রসাব লেগে শরীর নাপাক হয়েছে যে ওই সময় ঠান্ডা পানি দ্বারা তা ধুয়া সম্ভব না আবার ওই মুহূর্তে গরম পানিও পাওয়া সম্ভব না তাহলে কি করবো?
by (764,700 points)
এক্ষেত্রে শরীর পবিত্র করে এসে নামাজ আদায় করতে হবে। এমতাবস্থায় যদি ওয়াক্ত না থাকে, তাহলে কাজা নামাজ আদায় করতে হবে।

এমতাবস্থাতেও শরীর পাক করা ব্যতীত নামাজ আদায়ের সুযোগ নেই। ঠান্ডা পানিতে যেহেতু সমস্যা,সুতরাং যেভাবেই হোক গরম পানির ব্যবস্থা করতেই হবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 255 views
...