আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in ব্যবসা ও চাকুরী (Business & Job) by (1 point)
আমার পিতা একটি এমপিও ভুক্ত মহিলা কলেজের প্রভাষক । তবে ভালো বিষয় হলো আব্বুর সাব্জেক্টে তেমন স্টুডেন্ট না থাকায় ক্লাস সেভাবে অতটা নিতে হয় না ।

এখন নতুন নিয়মে কলেজ প্রিন্সিপাল হওয়ার জন্য পরীক্ষা দেওয়ার সিস্টেম চালু করেছে, অংশগ্রহণ করতে চাইলে দুই তিন দিনের মাঝেই ফ্রম নিতে হবে ।

আমার প্রশ্ন হলো —যেহেতু প্রিন্সিপাল তথা সম্পূর্ণ কলেজের দায় উনার উপর বর্তাবে; সহশিক্ষা + বেপর্দায় নারীশিক্ষা সেখানে দেওয়া হয়, এমন অবস্থায় প্রিন্সিপাল হওয়া যাবে কিনা? অথবা শুধু মহিলা কলেজের? নাকি কলেজের প্রধান হিসেবে এটা বহুমুখী গুনাহের কারণ হবে সহশিক্ষা / নারীশিক্ষা গুলোয় ভুলভাল সিস্টেম, পর্দাহীনতা, বিভিন্ন অনৈসলামিক, অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য? যেহেতু তিনিই কলেজ প্রধান হবেন? এই বিষয়ে আমাদের আকিদা কেমন থাকা উচিত? আর এই পদে যাওয়া জায়েজ হবে কিনা?

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান মতে গায়রে মাহরাম বালেগাহ মহিলার দিকে ইচ্ছাকৃতভাবে  দৃষ্টিপাত করা নাজায়েজ। 

অনিচ্ছায় একবার দৃষ্টি চলে গেলে সাথে সাথেই চোখ ফিরিয়ে নিতে হবে,২য় বার আর  দৃষ্টিপাত করা যাবেনা।
কারন এতে ইচ্ছাকৃতভাবেই হয়ে যায়।
সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে যেহেতু বালেগাহ মহিলাদের ক্লাশ নিতে হয়, বালেগাহে মেয়েরা চেহারা হাত মুখ ঢেকে পরিপূর্ণ পর্দা করেনা, সুতরাং এমন প্রতিষ্ঠানে  শিক্ষকতা করলে যেহেতু বালেগাহ মহিলাদের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই হয়,সুতরাং তাতে পর্দার বিধান লঙ্ঘনের গুনাহ হবে।
তাই তাকওয়ার খাতিরে তাদেরকে না পড়ানোই উত্তম।
কারন তাদের সামনেও পর্দা ফরজ।
তাদের দিকেও দৃষ্টিপাত নাজায়েজ।      

হাদীস শরীফে এসেছেঃ
  
عَنْ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: ” لَا تُتْبِعِ النَّظْرَةَ النَّظْرَةَ؛ فَإِنَّمَا  لَكَ الْأُولَى وَلَيْسَتْ لَكَ الْآخِرَةُ “

হযরত বুরাইদা রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল সাঃ  হযরত আলী রাঃ কে বলেন, হে আলী! [সহসা] একবার দেখার পর পুনরায় [কোন বেগানা নারীকে] দেখো না। কারণ, তোমার জন্য প্রথমবারে অনুমতি রয়েছে [যখন তা অনিচ্ছায় হয়ে যাবে], কিন্তু দ্বিতীয়বারের অনুমতি নেই।
 {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২৯৭৪, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২৭৫১, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২১৪৯, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-২৭৭৭}

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: ” مَا مِنْ مُسْلِمٍ يَنْظُرُ إِلَى مَحَاسِنِ امْرَأَةٍ أَوَّلَ مَرَّةٍ، ثُمَّ يَغُضُّ بَصَرَهُ إِلَّا أَحْدَثَ اللهُ لَهُ عِبَادَةً يَجِدُ حَلَاوَتَهَا “

হযরত আবু উমামা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, যে কোন মুসলমান কোন নারীর সৌন্দর্যের প্রতি হঠাৎ দৃষ্টি পড়ে যায়, অতঃপর সে নিজ চক্ষু নিচু করে নেয়, তবে আল্লাহ তাআলা তার জন্য এক ইবাদতের সুযোগ সৃষ্টি করেন, যাতে সে তার স্বাদ পায়। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২২২৭৮}

হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত।

فَالْعَيْنَانِ زِنَاهُمَا النَّظَرُ، وَالْأُذُنَانِ زِنَاهُمَا الِاسْتِمَاعُ، وَاللِّسَانُ زِنَاهُ الْكَلَامُ، وَالْيَدُ زِنَاهَا الْبَطْشُ، وَالرِّجْلُ زِنَاهَا الْخُطَا، وَالْقَلْبُ يَهْوَى وَيَتَمَنَّى، وَيُصَدِّقُ ذَلِكَ الْفَرْجُ وَيُكَذِّبُهُ

রাসূল সাঃ ইরশাদ করেন, চোখের জিনা হল [হারাম] দৃষ্টিপাত। কর্ণদ্বয়ের জিনা হল, [গায়রে মাহরামের যৌন উদ্দীপক] কথাবার্তা মনযোগ দিয়ে শোনা। জিহবার জিনা হল, [গায়রে মাহরামের সাথে সুড়সুড়িমূলক] কথোপকথন। হাতের জিনা হল, [গায়রে মাহরামকে] ধরা বা স্পর্শকরণ। পায়ের জিনা হল, [খারাপ উদ্দেশ্যে] চলা। অন্তর চায় এবং কামনা করে আর লজ্জাস্থান তাকে বাস্তবে রূপ দেয় [যদি জিনা করে] এবং মিথ্যা পরিণত করে [যদি অন্তরের চাওয়া অনুপাতে জিনা না করে]। {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-২৬৫৭, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৮৯৩২}

আপনি সকলকে হাত পা,চেহারা সহ পরিপূর্ণ পর্দা করার আদেশ করবেন, প্রয়োজনে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের  নিয়ম আকারে বানিয়ে নিতে পারেন।   
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত মহিলা কলেজে যদি সকল বালেগাহ মেয়েরা চেহারা হাত মুখ ঢেকে পরিপূর্ণ শরীয়াহ নীতিমালা মেনে পর্দা করে,তাহলে সেখানে প্রিন্সিপাল পদে বা অন্য যেকোনো পদে থেকে শিক্ষকতা করা জায়েজ হবে।

মেয়েরা কোমলতা পরিহার করে প্রয়োজনে কথা বলতে পারবে,এক্ষেত্রে শরীয়াহ বিরোধী, তাদের জীবন ঘনিষ্ঠ কোনো কথাবার্তা শোনা যাবেনা। 

ফেতনার আশংকা থাকলে এহেন চাকুরী না করাই উচিত। 

অন্যথায় সেখানে প্রিন্সিপাল পদেই হোক বা প্রভাষক পদেই হোক যে পদেই শিক্ষকতা করুক না কেন সেখানে চাকরি করলে তার গুনাহ হবে।

★এখানে বেতন সংক্রান্ত মাসয়ালা হলোঃ
পড়ানোর বিনিময়ে বেতন দেওয়া হয়, তাই আপনি যদি সহশিক্ষা সম্ভলিত আলিয়া মাদ্রাসার নিয়ম অনুসারে কোনো প্রকার অবহেলা-অলসতা না করে ঠিকমত পড়ান,তাহলে যে বেতন পাবেন সেটা আপনার জন্য হালাল হবে।

তবে শরয়ী পর্দা মেইনটেইন না করলে সর্বদা পর্দা লঙ্গনের গোনাহে লিপ্ত থাকবেন।

আরো জানুনঃ 

সহ শিক্ষা সম্পর্কে বিস্তারিত জানুনঃ 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
উস্তায, আপনার মূল্যবান নাসিহা এবং আমার প্রশ্নের উত্তর প্রদানের জন্য আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুক!

আমি শুরুতেই উল্লেখ করেছিলাম যে, ভালো বিষয় হলো আব্বুর সাব্জেক্টে তেমন স্টুডেন্ট না থাকায় ক্লাস সেভাবে অতটা নিতে হয় না । তাই, এখন যদি প্রিন্সিপাল পদ গ্রহণ করেন, তাহলে উনাকে আর ছাত্রী পড়াতে হবে না —এটা ভালো বিষয় । কিন্তু ঠিকই উনার অধীনে থাকবে সহশিক্ষা অথবা কোনো মহিলা কলেজ । এই যে উনার অধীনে তথা পুরো কলেজের দায়, দায়িত্ব থাকবে, নানা অনৈতিক অনুষ্ঠান হবে, ছাত্র ছাত্রীরা বেপর্দায় লিখাপড়া করবে ইত্যাদি আরো অনৈসলামিক কাজ, সেখানে উনি প্রিন্সিপাল পদে উনি থাকবেন, এই ক্ষেত্রে বিধান কি হবে? উনাকে কি উক্ত কলেজের সকল অনৈসলামিক কাজের দায় নিতে হবে? নাকি উনার কাজ ঠিকমত করলে উনার ইনকাম হালাল হবে এবং তাহাকে দায়ী হতে হবে না যেহেতু এগুলো উপর থেকে নির্ধারিত?  উপরন্তু প্রিন্সিপালের উপরেও থাকে কলেজের সভাপতি, ইত্যাদি । তারাও নিয়ন্ত্রণ করেন । 

আমায় এই বিষয়টি ক্লিয়ার হতে সহযোগিতা করুন!
by (762,960 points)
তিনি যদি বালেগা মহিলাদেরকে দেখেন তাহলে তার গুনাহ হবে। আর যদি না দেখেন তাহলে তার গুনাহ হবে না।

তিনি উক্ত প্রতিষ্ঠানে যত অন্যায় কাজে সহযোগিতা করবেন, সেসব অন্যায় কাজের সহযোগিতা স্বরূপ তারও গুনাহ হবে।

প্রিন্সিপাল হওয়ায় তার সহযোগিতায় হওয়া তার কলেজের সকল অনৈসলামিক কাজের আংশিক দায় তাকে নিতে হবে।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...