আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
93 views
in সাওম (Fasting) by (17 points)

আসসালামু আলাইকুম।

আমার এক বান্ধবী চাকরি করে। সেখানে অনেক ছেলে আছে। রোজার সময় ছেলেদের থেকে লুকিয়ে খাবার খাওয়া কোনোরকমে সম্ভব না। রোজা না রাখলেও সারাদিন না খেয়ে থাকতে হবে। ওষুধ খেয়ে হায়েয বন্ধ রাখা উচিত না জানি। কিন্তু এই অবস্থায় কি ওষুধ খেয়ে হায়েয বন্ধ রাখা যাবে?

পুরোদিন চাকরিতেই চলে যায়। বাসায় আসতে আসতে ইফতারের টাইম হয়ে যায়।

1 Answer

0 votes
by (763,650 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/35487/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
ঔষধ  খেয়ে মাসিক বন্ধ করে রোযা রাখলে রোযা হয়ে যাবে।  তবে মেয়েদের স্বাভাবিক অবস্থার বিরুদ্ধে এ নিয়মে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তাই ট্যাবলেট না খাওয়াই উত্তম। 

যদি কোন মহিলা রমজান আসার আগেই এবং হায়েজ শুরু হওয়ার আগে ওষুধ খেয়ে তা বন্ধ করে দেয়, তাহলে তার জন্য রোযা রাখতে হবে। কারণ, এতে করে তার উপর রোযা না রাখার কোন কারণ বিদ্যমান থাকছে না। তাই তার জন্য রোযা রাখা আবশ্যক হবে।
কিন্তু যদি রমজান চলে আসে, আর রক্ত জারি হয়ে যাওয়ার পর ওষুধ খেয়ে বন্ধ করে দেয়, তাহলে হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা কমপক্ষে ৩ দিন পর্যন্ত রোযা রাখতে পারবে না। এর পর থেকে রোযা রাখা আবশ্যক। যেহেতু হায়েজ শুরু হয়ে গিয়েছিল। আর হায়েজ শুরু হলে এর সর্বনিম্ন সময়সীমা হল তিন দিন। তাই হায়েজ শুরু হতেই ওষুধ খেয়ে বন্ধ করে ফেললেও ধরা হবে হায়েজ জারী আছে তিনদিন পর্যন্ত। তিন দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে হায়েজ বন্ধ হয়ে গেছে হিসেবে রোযা রাখা আবশ্যক।  {কিতাবুল ফাতওয়া-৩/৪০৫}

‘হায়েজা মহিলার জন্য উত্তম হলো নিজের স্বাভাবিক অবস্থার ওপর থাকা। আল্লাহ তাআলা তার ওপর যে ফয়সালা করেছেন, তার ওপর সন্তুষ্ট থাকা। এমন কিছু ব্যবহার না করা, যার দ্বারা রক্ত বন্ধ হয়ে যায়। বরং হায়েজ অবস্থায় রোজা ছেড়ে দেয়া। অতঃপর রোজাগুলোর কাজা আদায় করে নেয়া। কেননা, উম্মুল মুমিনিন ও আকাবির মহিলারা এমনটিই করেছেন। আর যদি ওষুধ দিয়ে রক্ত বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলেও রোজা হয়ে যাবে।’(আপকে মাসায়েল : খণ্ড ৩, পৃ. ২০৭)

একটি বর্ণনা পাওয়া যায়,
روى سعيد بن منصور عن ابن عمر رضي الله عنه أنه سئل عن المرأة تشتري الدواء ليرتفع حيضها فلم يَرَ به بأساً ونعت-أي وصف

সারমর্মঃ
হযরত ইবনে ওমর রাঃ কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিলো,এক মহিলার ব্যাপারে।
যে হায়েজ বন্ধ হওয়ার ঔষধ খেয়েছিলো,তিনি এখানে কোনো সমস্যা দেখেননি।
তার গুণ বর্ণনা করেছেন।  

وفی الفقہ علی المذاھب الاربعہ:
لا یجوز للمرأۃ أن تمنع حیضاً أو تستعجل إنزالہ إذا کان یضر صحتہا؛ لأن المحافظۃ علی الصحۃ واجبۃٌ۔
(کتاب الطھارۃ، ج: 1، ص: 124)
সারমর্মঃ
মহিলাদের উপর জায়েজ নেই,তাদের হায়েজ বন্ধ রাখা।
যখন এট তাদের শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়।
কেননা শরীর হেফাজত করা ওয়াজিব। 

قال في الإنصاف: يجوز شرب دواء مباح لقطع الحيض مطلقاً، مع أمن الضرر، على الصحيح من المذهب
সারমর্মঃ
হায়েজ বন্ধ করার জন্য ঔষধ খাওয়া সাধারণত  জায়েজ,তবে ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকতে হবে।

https://ifatwa.info/1419/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
ﻭَﻻَ ﺗَﻘْﺘُﻠُﻮﺍْ ﺃَﻧﻔُﺴَﻜُﻢْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻛَﺎﻥَ ﺑِﻜُﻢْ ﺭَﺣِﻴﻤًﺎ
আর তোমরা নিজেদের কাউকে হত্যা করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি দয়ালু।(সূরা-নিসা-২৯)

ﻭَﻻَ ﺗُﻠْﻘُﻮﺍْ ﺑِﺄَﻳْﺪِﻳﻜُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺘَّﻬْﻠُﻜَﺔِ ﻭَﺃَﺣْﺴِﻨُﻮَﺍْ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺍﻟْﻤُﺤْﺴِﻨِﻴﻦَ
তোমরা নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।(সূরা বাক্বারা-১৯৫)

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,
 ( ﻻ ﺿَﺮَﺭَ ﻭَﻻ ﺿِﺮَﺍﺭَ )
ইসলামে নিজের ক্ষতি করা ও অন্যকে ক্ষতি পৌছানোর কোনো বিধান নাই।(সুনানু ইবনি মা'জা-২৩৪১)

চার মাযহাব সম্ভলিত ফেকহি কিতাব আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা'আহ এ বর্ণিত রয়েছে,
لا يجوز للمرأة ان تمنع حيضا او تستعجل إنزاله اذا كان يضر صحتها ،لأن المحافظة على الصحة واجبة ،

পিল খেয়ে হায়েয বন্ধ রাখা বা হায়েযকে তার সময়ের আগে করিয়ে নেয়া বৈধ হবে না যদি সেটা শারিরিক কোনো ক্ষতি করে।কেননা শারিরিক সুস্থতাকে বাঁচিয়ে রাখা ওয়াজিব।(আল-ফিকহু আলাল মাযাহিবিল আরবা'আহ-১/১২৪)

বিশিষ্ট ফকিহ খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানি বলেন,
বিজ্ঞ দু'জন মুসলিম চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী যদি সেটা শারিরিক কোনো ক্ষতি না করে, তাহলে বিশেষ বিশেষ সময় যেমন হজ্বের সময় পিল খেয়ে হায়েয বন্ধ রাখা বা আগেই হায়েয করিয়ে নেয়ার বৈধতা রয়েছে।কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৭
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন, 
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে হায়েজ বন্ধের ঔষধ খেলে আপনার সেই বান্ধবীর স্বাস্থের জন্য যদি কোনো ক্ষতিকর না হয়,তাহলে তিনি হায়েজ বন্ধ হওয়ার ঔষধ খেতে পারবেন।

তবে না খাওয়াই ভালো। 

এক্ষেত্রে ঔষধ খেলে উপরোক্ত ফতোয়া ফলো করতে হবে।      


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...