আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (16 points)
'E' নামক অর্গানাইজেশনের বিভিন্ন সেক্টর আছে।এনজিও এটা। এরা দেশ, বিদেশ,সরকারি,বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা থেকে এরা প্রজেক্ট / অনুদান নিয়ে থাকে। এছাড়াও  এদের নিজস্ব এনজিও সমিতি, কিস্তির সেক্টরও আছে।বর্তমানে 'E'  অর্গানাইজেশন একটি শাখায় Unicef এর কাছ থেকে কয়েক বছর মেয়াদী কয়েকটি প্রজেক্ট নিয়েছে। এখানে ছেলে মেয়েদেরকে ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন, ব্লক বাটিক ট্রেইনিং, টেইলরিং কোর্সে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দিয়ে ভাতা দেওয়া হয়।আমার হাসবেন্ড৷ 'E' অর্গানাইজেশনের এই প্রজেক্টের  শাখায় Center incharge পোস্টে চাকরি করতেছে।মানে center management। সব প্রজেক্টগুলো ঠিক ঠাকমতো চলছে কিনা, সবাই কাজ করছে কিনা ইত্যাদি তদারকি তাকে করতে হয়।  এখানে শিক্ষক ব্যতিত অফিসের অন্যান্য অফিসারদের তাদের পোস্ট অনুযায়ী শুধু ঐটুকু কাজ করেনা। যখন যে কাজ প্রয়োজন তাদেরকে সেগুলা করতে হয়।আমার স্বামীকেও তার পোস্ট এর বাইরেও অনেক কাজ করতে হয়।। তাকে তার বড় অফিসাররা যা যা অন্য কাজ বলে সেগুলা করতে হয়।আর এদের বেতন মুলত আসে Unicef থেকে। 'E' অর্গানাইজেশন আমার স্বামী ও অন্য অফিসারদের unicef থেকে টাকা এনে তারপর বেতন দেয় ।# এই চাকুরি থেকে বেতন নেওয়া কি হালাল?#অনেক সময় মিথ্যা ডকুমেন্টস, বিল সাবমিট করতে হয়।এক্ষেত্রে আমার স্বামী যদি এগুলা করে তাহলে তার পুরা বেতনই কি হারাম হবে?এই বেতন থেকে কখনও কুরবানি করলে কি সেটা যায়েজ হবে? দয়া করে সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলবেন।

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা ঘোষণা দিয়েছেন,
ﻭَﻻَ ﺗَﻌَﺎﻭَﻧُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻹِﺛْﻢِ ﻭَﺍﻟْﻌُﺪْﻭَﺍﻥِ ﻭَﺍﺗَّﻘُﻮﺍْ ﺍﻟﻠّﻪَ ﺇِﻥَّ ﺍﻟﻠّﻪَ ﺷَﺪِﻳﺪُ ﺍﻟْﻌِﻘَﺎﺏِ
সৎকর্ম ও খোদাভীতিতে একে অন্যের সাহায্য কর। পাপ ও সীমালঙ্ঘনের ব্যাপারে একে অন্যের সহায়তা করো না। আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ তা’আলা কঠোর শাস্তিদাতা।(সূরা-মায়েদা-২)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
হারাম কাজের সহায়তার বিভিন্ন স্তর আছে। শরীয়তে সব প্রকার সহায়তা হারাম নয়।বরং সে সব সহায়তাই হারাম যা সরাসরি হারাম কাজের সহিত জড়িত থাকে। যেমন, সুদী লেনদেন করা। সুদী লেনদেন লিখে রাখা। সুদী টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ থেকে উসুল করা, ইত্যাদি ইত্যাদি।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাঃ এর পিতা থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন-
“যে সুদ খায়, যে সুদ খাওয়ায়,যে তার সাক্ষী হয়, এবং যে দলিল লিখে রাখে, তাদের সকলের উপর আল্লাহ তায়ালা অভিশাপ করেছেন।(মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং-৩৮০৯, মুসনাদে আবি ইয়ালা, হাদিস নং-৪৯৮১)
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/398


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
E নামক অর্গানাইজেশনের সুদি সেক্টরে চাকুরী করা হারাম হবে। তবে সুদি সেক্টর না হলে চাকুরী করা হারাম হবে না। প্রশ্নের বিবরণমতে আপনার স্বামীর চাকুরীতে যদি সুদি কাজে সহযোগিতা না থাকে, বা সহযোগিতা থাকলেও কম থাকে, তাহলে উক্ত চাকুরি জায়েয হবে। তবে অধিকাংশ বা পুরো কাজ সুদি কাজে সহযোগিতা মূলক হলে তখন জায়েয হবে না। মিথ্যা ডকুমেন্টস, বিল সাবমিট করা নাজায়েয ও হারাম। তবে ইনকাম হারাম হবে না। মিথ্যা বিল বানিয়ে যত টাকা নেওয়া হবে, সই টাকা নাজায়েয হিসেবে বিবেচিত হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...