আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
70 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।


১) দোয়ায় ছোট বড় প্রত্যেকটা জিনিস চাওয়ার সময় আল্লাহ তায়ালা যেন সেই জিনিসটা আমাকে "আফিয়াহ,খ‌ইর,রহমত,বরকত,সম্মানের সহিত দান করেন এবং ভবিষ্যতে সেই জিনিসের ফিতনা থেকে রক্ষা করেন " তার জন্য‌ও দুআ করি।এই পদ্ধতি কি ঠিক আছে শাইখ?

শুধু অমুক অমুক জিনিস দেন না বলে অমুক জিনিসটা আফিয়াহর সহিত দেন এভাবে বললে একটু শান্তি লাগে।


২)দুনিয়ায় কিছু পছন্দের প্রাণীদের যাদের আমি জান্নাতে চাই ,আমি যেন জান্নাতে গেলে আমার পছন্দের সেই প্রাণীদের আল্লাহর কাছে চাইতে ভুলে না যাই তার জন্য দুআ করা জায়েজ হবে শাইখ?

1 Answer

0 votes
by (808,740 points)


ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হযরত আবু সাঈদ খুদরী রাযি থেকে বর্ণিত,
(وعن أبي سعيد الخدري - رضي الله عنه - أن النبي - صلى الله عليه وسلم - قال: " «ما من مسلم يدعو بدعوة ليس فيها إثم ولا قطيعة رحم إلا أعطاه الله بها إحدى ثلاث: إما أن يعجل له دعوته، وإما أن يدخرها له في الآخرة، وإما أن يصرف عنه من السوء مثلها " قالوا: إذا نكثر، قال: " الله أكثر» " (رواه أحمد) .
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,কোনো মুসলমান যদি এমন প্রকারের দু'আ করে, যাতে গোনাহ বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বিচ্ছিন্নতার প্রসঙ্গ উল্লেখ না থাকে, তাহলে তিনটি প্রকারের যেকোনো এক প্রকার প্রতিদান আল্লাহ তাকে দান করবেন। (১) হয়তো আল্লাহ তা'আলা অতিসত্বর তার দু'আ-কে কবুল করে ফেলবেন।
(২)নতুবা আখেরাতের জন্য সেই দু'আকে সংরক্ষিত করে রাখবেন।(দুনিয়াতে সেই দু'আ কবুল করা তার জন্য মঙ্গলজনক নয়,সেইজন্য আখেরাতে দিবেন)
(৩) কিংবা সেই পরিমাণ কোনো মন্দ জিনিষ তার থেকে ফিরিয়ে রাখবেন। সাহাবায়ে কেরাম বললেন,তাহলে আমরা অবশ্যই বেশী বেশী করে দু'আ করবো। রাসূলুল্লাহ সাঃ  বললেন, অাল্লাহও অধিক অধিক দু'আ কবুল কারী এবং দানকারী।(সুতরাং তোমরা বেশী বেশী দু'আ করলে আল্লাহও বেশী বেশী দিবেন)(মিশকাতুল মাসাবিহ-২২৫৯)

সকল বিষয়ে-ই আল্লাহর নিকট দু'আ করতে হবে।আল্লাহর নিকট সাহায্য কামনা করতে হবে।
হযরত আনাস রাযি থেকে বর্ণিত,
عن أنس - رضي الله عنه - قال: قال رسول الله: " «ليسأل أحدكم ربه حاجته كلها، حتى يسأله شسع نعله إذا انقطع» "
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন, মানুষ যেন সকল বিষয়ে তার রবের নিকট দু'আ করে,এমনকি যদি তার জুতার ফিতা ছিড়ে যায়, তখনও যেন সে এ সম্পর্কে (প্রথমে) আল্লাহর নিকট সাহায্য চায়(অতঃপর ফিতা লাগানোর চেষ্টা করে)। (মিশকাতুল মাসাবিহ-২২৫১)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/987

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) দোয়ায় ছোট বড় প্রত্যেকটা জিনিস চাওয়ার সময় আল্লাহ তায়ালা যেন সেই জিনিসটা আমাকে "আফিয়াহ,খইর,রহমত,বরকত,সম্মানের সহিত দান করেন এবং ভবিষ্যতে সেই জিনিসের ফিতনা থেকে রক্ষা করেন " এই পদ্ধতির দু'আটি বিশুদ্ধ। 
অমুক জিনিসটা আফিয়াহর সহিত দেন এভাবে বললে একটু শান্তি লাগে।

(২) আখোরাতের বিষয়টি ভিন্ন। সেখানো যাওয়ার পর আপনান চাহিদা কেমন থাকবে? সেটা আপনি নিশ্চিত নন। যদি আপনি সত্যিই চান তাহলে পাইবেন। চাওয়াটা কখনো অপূরণীয় হবে না


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...