আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
111 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম
শায়েখ। আমার হাজব্যান্ড আমার জীনের সমস্যা জেনে বিয়ে করেছিলেন। দেন আমার কোনো চিকিৎসা না করিয়েই বিয়ের ৪ বছর হলে গোপনে মাসনা করে রেখেছিলেন । আমার অনেক সমস্যা কিন্তু কখনোই সে এটা নিয়ে পারিবারিক মিটিং করে আমার অভিভাবককে জানান নি।না জানিয়ে সে ১ টা বছর বিয়ে এবং সন্তান (হবে)
এটা গোপন করেছেন।সেই ১ বছরে সে আমার কোনো হক আদায় করে নি।শারীরিক, মানসিক, আর্থিক দিক থেকে হকটা পাইনি।
আমার মেডিকেল টেস্টে কোনো সমস্যা ধরা পড়ে নি।ইনফার্টিলিটি স্পেশালিষ্ট বলেছেন ন্যাচারালি কনসিভ হবে। কিন্তু আমার স্বামী মাসে ১ /২ দিন অথবা কোনো মাসে একসাথেই থাকতেন না।  কাছে অনেক ডেকেছি।
সে আমাকে বাসায় একা রাখতো, ঠিক করে বাসায় আসতো না তাছাড়া অধিকাংশ সময় আমাকে বাবার বাড়ি জোরপূর্বক রাখতেন।
সে এই গোপনে মাসনা করার জন্য ১ বছরে হাজার হাজার মিথ্যা বলেছেন এটা কি জায়েজ?
আমি তাকে বলেছিলাম মাসনা করেছ গোপনে আল্লাহর ওয়াস্তে বলো তখন তার নতুন নতুন বিয়ে ছিল, কিন্তু তখনও স্বীকার পায়নি।
বরং আমাকে ১ টা বছর ধরে বলেছিলেন মাসনা করলে গোপনে নয় প্রকাশ্য সবাইকে নিয়ে করবো। আমি সেই বিশ্বাসেই ছিলাম।
এটা কি আমার সাথে প্রতারনা হয়নি?
বিয়ের সময় তিনি বেকার ছিলেন আমার বাবা তাকে ব্যবসা করতে বিয়ের ৫ বছরের মধ্যে ৬ লাখ টাকা দিয়েছেন। সেই টাকা ফেরত না দিয়ে এবং আমার বাবাকে না জানিয়ে গোপনে বিয়ে করাটা বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে পড়ে?
▪️সে এখন মাসনার রিজনে বলছে-

 ১.আমার বাচ্চা হয়না এরজন্য বিয়ে করেছে। কিন্তু সে তো আমার সাথে থাকতো না।
২.সে আমাকে ২৪ সালে একবছর একটা মাদ্রাসার পুরো দায়িত্ব দিয়েছিো।যাতে আমি রাজি ছিলাম না।  একাডেমিক, ডাইনিং, টিচিং, অভিভাবকের সাথে কথা বলা সবকিছু আমার দেখাশোনা করতে হতো।মাদ্রাসায় খেদমত চলাকালে আমরা যে বাসায় থাকতাম সেখানে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারিনি। রান্নাঘরে জানালা ছিল না, বেলকনি ছিল না, পুরাতন বাসা ছিল। জীনের রোগী হিসেবে স্যাতসেতে নোংরা বাসায় থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছিলাম। তাই তারসাথে আমি রাগ হয়ে কথা বলতাম।
এখন আমার অপরাধ আমার আচরণ খারাপ তাই বিয়ে করেছে।
৩.আমার মেডিকেল টেস্টে রিপোর্টে কোনো সমস্যা নেই বাট একজন হুজুরের জীন বলেছিলো আমার বাচ্চা হবে না কখনোই তাই সে বিয়ে করেছে। কিন্তু জ্বীনের দ্বারা এই কথা শোনার আরো আগে সে গোপনে বিয়ে করেন।
৪.একজন অসহায় মেয়ের ( বাচ্চাসহ ডিভোর্সি)  দায়িত্ব নিয়েছেন আল্লাহকে খুশি করতে। বাট মেয়েটা পুরোপুরি  অসহায় নয়। তার ভাই আমার স্বামীর বিজনেস পার্টনার, তার বাবা ও ভাইরা ইতালি থাকেন।
এখন আমার প্রশ্ন তার এই বিয়ে জায়েজ ছিল?  সে আমার সাথে কি প্রতারনা করে নি ? শরীয়ত অনুযায়ী  আমার হক আদায় না করার জন্য তার শাস্তি কি?

1 Answer

0 votes
by (814,680 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
বিয়ের সাথে সাথেই স্বামীর উপর স্ত্রীর বাসস্থান এবং ভরণপোষণ ওয়াজিব। (ভরণপোষণের ভিতরে, খাবার ও কাপড় অন্তর্ভুক্ত এবং এবং কেউ কেউ প্রয়োজনীয় হত খরচকেও ভরণপোষণের অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন।)

বাসস্থানের ধরণ কি রকম হওয়া চাইঃ স্ত্রীকে পৃথক ঘর দিতে হবে, নাকি পৃথক বাসা-বাড়ি দিতে হবে।
এ সম্পর্কে ইবনে আবেদীন শামী রহ.বলেনঃ-
قُلْت: وَالْحَاصِلُ أَنَّ الْمَشْهُورَ وَهُوَ الْمُتَبَادَرُ مِنْ إطْلَاقِ الْمُتُونِ أَنَّهُ يَكْفِيهَا بَيْتٌ لَهُ غَلَقٌ مِنْ دَارٍ سَوَاءٌ كَانَ فِي الدَّارِ ضَرَّتُهَا أَوْ أَحْمَاؤُهَا. 
আমি মনে করি ফুকাহায়ে কিরামদের আলোচনা থেকে এটাই বুঝা যাচ্ছে যে,বাসস্থানের জন্য পৃথক একটি রুম-ই যথেষ্ট হবে, যদি সেই রুমের সমস্ত কর্তৃত্ব স্বীকে দিয়ে দেয়া হয় ,চায় ঐ বাড়ির অন্যান্য রুম গুলাতে স্বামীর আত্বীয়-স্বজন থাকুক অথবা স্বামীর অন্যকোনো স্ত্রী(সতীন)থাকুক।এতে কোনো অসুবিধা নেই (যদি শরয়ী অন্যান্য বিধি-বিধান লঙ্ঘনের আশংকা না থাকে)এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/430


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
বিয়ের সাথে সাথেই স্ত্রীকে ভরণপোষণ এবং শারিরীক হক আদায় করা স্বামীর উপর ওয়াজিব। আপনার স্বামী গোপনে মাসনা করেছে, এটাও অনুচিত। যাইহোক, আপনার হক আদায় না করার জন্য আখিরাতে অবশ্যই জবাদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে। এবং দুনিয়াতে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এই হক আদায় না করার জন্য আপনি তালাক চাইতে পারবেন। আমাদের পরামর্শ থাকবে, আপনি তার কাছে নায্য হিসসা চাইবেন।ভরণপোষণ চাইবেন। যদি সে দিতে না পারে, তাহলে পরিবারের সম্মতি নিয়ে বিকল্প রাস্তাও গ্রহণ করতে পারবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...