আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
61 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (13 points)
আসসালামু আলাইকুম ।
আমার বয়স ২৪। গত ৫-৬ বছর ধরে আমার জীবন একেবারে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে। আমি একেবারে উদ্দেশ্যহীন হয়ে গেছি। বর্তমানে একাকীত্ব আমাকে একবারে গ্রাস করে ফেলেছে এবং এই অন্ধকার থেকে আমি বের হতে পারতেছি না। আমার তেমন কোনো কাছের বন্ধু নাই যাদের সাথে আমি সবসময় কথা বলতে পারবো এবং সময় কাটাতে পারবো। আমি আমার পরিবারের সবার ছোট এবং আমার বড় ভাই-বোনদের সাথে আমার তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই এবং তাদের আর আমার মাঝে বয়েসের অনেক পার্থক্য আছে এবং তারা সবাই দেশের বাহিরে থাকে,আমি শুধু আমার মায়ের কাছেই থাকি দেশে। দিন যত যাচ্ছে আমার জন্য বেচে থাকা অনেক কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সারাদিন আমি ঘরেই থাকি, বাহিরে কারো সাথে সময় কাটাবো গল্প করবো তেমন কেউ নেই। জীবনের কোনো লক্ষ পর্যন্ত আমি সেট করতে পারিনাই। আমার মাথায় শুধু আসে যে আমি কিছুই করতে পারবো না, আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না কিচ্ছু না। আমার বিভিন্ন টাইপের ওয়াসওয়াসা আছে। ঠিকঠাক মতো নামাজ কালামও পড়তে পারিনা। আগে কুরআন শরীফ পড়তাম, কিন্তু হ্ঠাৎ করে কি হলো জানি না যে পড়তে গেলে খুব কষ্ট হয়ে, মুখ দিয়ে পড়া বের হয়না বারবার আটকে যাই। এটা শুরু হয় যখন আমার মনে সন্দেহের রোগ সৃষ্টি হয়। আল্লাহর কাছে মন খুলে দোয়াও করতে পারিনা, মাথায় কিছু আসেনা কি দোয়া করবো। এমনকি পরীক্ষার জন্য পড়াশোনা করলেও সেটা মাথায় ডুকে না। আরও নানাবিধ সমস্যা আছে জীবনে । আমার জীবনে কারও সাথে ভালো সম্পর্ক আমি তৈরি করতে পারিনাই। মানুষ আমার জীবনে আসে আবার চলে যায় কোনো কারণ ছাড়াই আর এটা আমি মেনে নিতে পারিনা, মানতে অনেক কষ্ট হয় এবং বারবার শুধু তাদের কথা মনে পড়ে। এই মূহুর্তে এসে আমি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছি, কি করবো কিছুই বুঝতেছি না। প্রতিটি দিন জেলে বন্ধি হয়ে থাকার মতো মনে হচ্ছে। করোনার সময় মোটামুটি নামাজ-কালাম পড়তাম এবং অনেক কিছু মেনে চলতাম। তারপর থেকে আস্তে আস্তে ওয়াসওয়াসা শুরু হয় এবং এখন জীবনে একেবারে হতাশ হয়ে পড়েছি। এখন আমি নামাজ-কালাম পড়তে গেলে মনে হয় আমার ধম বন্ধ হয়ে আসে, নিজেকে কোনো কিছুতেই ফোকাসড রাখতে পারিনা আর সবসময় মনে হয় আমাকে দিয়ে কিছুই হবে না আমার বাকী জীবন এভাবেই পার করতে হবে।
লম্বা করার জন্য মাফ করবেন। আমাকে কিছু পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন শায়খ, আমি হতাশার নিম্ন পর্যায়ে আছি।

জাযাকাল্লাহ

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

আনাস রাযি. বলেন, রাসুল ﷺ (উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য) সব সময় এই দোয়া করতেন, 

يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِىْ عَلىٰ دِيْنِكَ 

হে অন্তর পরিবর্তনকারী! আমার অন্তর আপনার দীনের উপর দৃঢ় করে দিন।

আনাস রাযি. বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! আমরা আপনার উপর এবং আপনার আনিত শিক্ষার উপর ঈমান এনেছি। এখন আপনার মনে কি আমাদের সম্পর্কে কোনো সন্দেহ আছে? ( যে বেশি বেশি এই দোয়া করেন!) রাসুল ﷺ উত্তর দিলেন হ্যাঁ! সব অন্তর আল্লাহর দুই আঙ্গুলের মধ্যে পড়ে আছে। আল্লাহ যেভাবে চান, এগুলোকে পরিবর্তন করেন। (তিরমিযি ২১৪০ তাকদির অধ্যায়)

★সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে বেশি বেশি দোয়া করবেন।

রাসূলুল্লাহ্ ﷺ দোয়া করতেন,

اللَّهُمَّ آتِ نَفْسِي تَقْوَاهَا، وَزَكِّهَا أَنْتَ خَيْرُ مَن زَكَّاهَا، أَنْتَ وَلِيُّهَا وَمَوْلَاهَا

হে আল্লাহ আমাকে তাকওয়ার তওফীক দান করুন এবং নাফসকে পবিত্র করুন, আপনিই তো উত্তম পবিত্রকারী। আর আপনিই আমার নাফসের মুরুব্বী ও পৃষ্ঠপোষক। (মুসলিম ২৭২২)

সুতরাং আপনিও দোয়াটি করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

★দ্রুত বিবাহ করে ফেলুন।
সাংসারিক জীবনে পা রাখলে এ ধরনের সমস্যা থেকে আপনার সমাধান মিলবে,ইনশাআল্লাহ। 

★নেককারদের সোহবত গ্রহণ করুন। তাদের সাথে বেশি উঠাবসা করুন।
পুরুষ হলে তাদের  মজলিসে আসা যাওয়া করুন।

দাওয়াত তাবলিগের মেহনতের সাথে যুক্ত হতে পারেন।  প্রতি মাসে তিন দিন আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগাবেন। প্রতি বছরে নুন্যতম এক চিল্লা দিবেন,বেশি বেশি আল্লাহর রাস্তায় সময় লাগাবেন। আর যদি আপনি মহিলা হন, সেক্ষেত্রে মাহরাম পুরুষের সাথে মাস্তুরাত জামাতে যাবেন এবং নিয়মিত তাদের তালিমে অংশগ্রহণ করবেন।

এতে নফস নিয়ন্ত্রণ করা এবং তাওবার উপর অটল থাকা আপনার জন্য সহজ হবে। 

 আল্লাহ তাআলা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ اتَّقُواْ اللّهَ وَكُونُواْ مَعَ الصَّادِقِينَ

হে ঈমানদারগণ, আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক। (সূরা আত তাওবাহ ১১৯)

অধিকহারে ইস্তেগফার করুন। প্রয়োজনে এর জন্য প্রত্যেক নামাজের পর একটা নিয়ম করে নিন। যেমন, প্রত্যেক নামাজের পর ৫০/১০০/২০০ বার أسْتَغْفِرُ اللهَ   অথবা أسْتَغْفِرُ اللهَ وَأتُوبُ إلَيهِ অথবা  اللَّهُمَّ اغْفِرْ لي পড়ার নিয়ম করে নিতে পারেন। 

★কখনো একাকী নিভৃতে থাকবেন না। কেননা একাকীত্ব গোনাহ চিন্তা করার কারণ হতে পারে। আপনার সময়কে উপকারী বিষয়ে ব্যয় করতে সচেষ্ট হোন। ঈমান ও ইসলামের পরিবেশে সময় ব্যয় করুন।

আপনাকে বেশি পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করার ও শোনার পরামর্শ দিচ্ছি। এ মর্মে আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَإِذَا تُلِيَتْ عَلَيْهِمْ آيَاتُهُ زَادَتْهُمْ إِيمَانًا

আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায়। (সূরা আনফাল ২)

অনুরূপভাবে আমরা আপনাকে বুঝে বুঝে নবীদের কাহিনী, সাহাবায়ে কেরামের জীবনী পড়ার পরামর্শ দিচ্ছি। 

★অধিকহারে আল্লাহর যিকির করুন। কেননা, দুর্বল ঈমানের সুস্থতার জন্য যিকির খুবই উপকারী। আল্লাহর যিকির অন্তরে ঈমানের বীজ বপন করে। মুমিনের অন্তর যিকিরের মাধ্যমে প্রশান্ত হয়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ

যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়। (সূরা রা’দ ২৮)

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...