জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
(০১)
শরীয়তের বিধান হলো কাহারো নামাজের ভিতর অযু ভেঙ্গে গেলে সে তৎক্ষণাৎ অযুর জন্য বের হয়ে যাবে।
অযু করে এসে যেখানে নামাজ রেখে গিয়েছিলো সেখান থেকে আবার আদায় করবে।
আমর ইবনুল হারেস থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নামাজরত ব্যক্তির নাক দিয়ে রক্ত বের হলে কী করণীয় এ সম্পর্কে উমর ইবনুল খাত্তাব রাযি. বলেন, সে অযুর জন্য বের হয়ে যাবে এবং অযু করে আসবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৫৯৫০)
সালমান ফারসী রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, তোমাদের মধ্যে কারো যদি নামাজে অযু ছুটে যায় তাহলে সে যেন বের হয়ে অযু করে আসে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা ৫৯৫৪)
,
তবে এক্ষেত্রে পথিমধ্যে বা অযু করা অবস্থায় কারো সাথে বা এমনিতেই কথা বলা যাবেনা।
যদি কথা বলে,তাহলে তাকে আবার পুনরায় নতুন করে নামাজ আদায় করতে হবে।
,
হাদীস শরীফে এসেছেঃ
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا الْهَيْثَمُ بْنُ خَارِجَةَ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاشٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ " مَنْ أَصَابَهُ قَىْءٌ أَوْ رُعَافٌ أَوْ قَلَسٌ أَوْ مَذْىٌ فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ ثُمَّ لْيَبْنِ عَلَى صَلاَتِهِ وَهُوَ فِي ذَلِكَ لاَ يَتَكَلَّمُ "
আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নামাজ রত অবস্থায় কারো বমি হলে, নাক দিয়ে রক্ত বের হলে, খাদ্য বা পানীয় পেট থেকে মুখে চলে এলে অথবা বীর্যরস নির্গত হলে, সে যেন বাইরে এসে অযু করে, অতঃপর পূর্বোক্ত সালাতের অবশিষ্টাংশ পূর্ণ করে, উক্ত অবস্থায় যদি সে কথা না বলে থাকে।
(সুনানে ইবনে মাজাহ ১২২১.বুলুগুল মারাম ৭৫।)
عَنْ عَائِشَةَ ؛ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - قَالَ : " إِذَا قَاءَ أَحَدُكُمْ فِي صَلَاتِهِ أَوْ قَلَسَ ، فَلْيَنْصَرِفْ فَلْيَتَوَضَّأْ ، ثُمَّ لْيَبْنِ عَلَى مَا مَضَى مِنْ صَلَاتِهِ ، مَا لَمْ يَتَكَلَّمْ " ، قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ : " فَإِنْ تَكَلَّمَ اسْتَأْنَفَ
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তোমাদের কেই নামাযরত অবস্থায় বমি করলে অথবা (পেট থেকে) খাদ্য বা পানীয় তার মুখে এসে গেলে সে যেন বের হয়ে গিয়ে উযু করে, তারপর অবশিষ্ট নামায পড়ে, যদি সে কথাবার্তা না বলে থাকে। ইবনে জুরাইজ (রহঃ) বলেন, সে যদি কথা বলে থাকে তাহলে পুনরায় নতুন করে নামায পড়বে।
(সুনানে দারা কুতনি ৫৪১।)
বিস্তারিত জানুনঃ-
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওজু করে এসে নামাজের বাকি অংশ আদায় করলেই হবে।
অর্থাৎ অযু করে এসে যেখানে নামাজ রেখে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে আবার আদায় করবেন।
তবে এক্ষেত্রে পথিমধ্যে বা অযু করা অবস্থায় কারো সাথে বা এমনিতেই কথা বলা যাবেনা,খানা পিনা করা যাবেনা।
যদি কথা বলেন,বা কিছু খান,তাহলে পুনরায় নতুন করে নামাজ আদায় করতে হবে।
(০২)
পণ্যের গায়ে উল্লিখিত দামের চেয়ে ৫-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করা জায়েজ হবেনা।
তবে যদি ক্রেতাকে কোনরূপ মিথ্যা কথা না বলে ধোকার আশ্রয় না নিয়ে ক্রেতাকে পন্যের গায়ে উল্লেখিত দামের চেয়ে পাঁচ/দশ টাকা বাড়িয়ে দাম দিতে বলেন, আর ক্রেতাও যদি বিষয়টি জেনে সন্তুষ্টি চিত্তে জেনে শুনে তাতে রাজি হয়, এতে যদি ক্রেতার উপর কোনরূপ জুলুম না হয়, তাহলে এ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করার বৈধতা রয়েছে।
(০৩)
সেই ফ্রি সামগ্রী ক্রেতার হক। সুতরাং বিক্রেতা তাহা নিজে ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবেনা।
এটা সেই ক্রেতাকেই ফেরত দিতে হবে।
পরবর্তীতে সেই ক্রেতার সাথে আবারো দেখা হলে তাকে সেই ফ্রি সামগ্রী দিয়ে দিতে হবে।
আর যদি কোনদিন তারসাথে দেখা না হয় বা দেখা হওয়ার মতো আর কোন সুযোগ না থাকে, সে ক্ষেত্রে কোন গরিব মিসকিনকে সেই ফ্রি সামগ্রি সদকাহ করে দিতে হবে।