আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
49 views
in পবিত্রতা (Purity) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

মাঝে মাঝে (সবসময় নয়)পিরিয়ড হওয়ার  আগে ( ১৫ দিন পার হওয়ার পর) ব্লাড যায়। যখন ব্লাড যায় তখন মনে হয় সেটা পিরিয়ড কিন্তু আমার  পিরিয়ড হওয়ার আগে অস্বস্তি লাগে পেট ব্যাথা করে সেটা সে সময় থাকেনা(কোনো খারাপ লাগা কিছু ই থাকেনা একদম নরমাল) এবং কিছুদিন পর  আসল পিরিয়ড শুরু হয় তখন বোঝা যায় আগে যে ব্লাড টা গিয়েছিল সেটা পিরিয়ড এর নয়।আর আমার প্রতিবার পিরিয়ড এর আগে অস্বস্তি লাগা, পেট ব্যাথা হওয়া সেগুলো থাকেই।

তো এবার ডেট ছিল ১৯ তারিখ।পিরিয়ড যে হবে একটু খুবিই কম ব্যাথা হয়েছিল।২৯ তারিখ এর আগে। আর ব্লাড যাওয়া শুরু হয়েছে ২৯ তারিখ দুপুর থেকে।ব্লাড খুব বেশি না একটু শুধু।তো আমি আগেই মতো পিরিয়ড ভেবেই সালাত পড়িনি।যেহেতু ডেইট পার হয়েছে সেটাকে পিরিয়ড ধরেছি।এদিকে পেট ব্যাথা খারাপ লাগাও ছিল না। ব্লাড ও যাচ্ছিল অনেক কম।পিরিয়ড এ যেমন যায় তেমন না।তো ১  তারিখ এ পিরিয়ড হওয়ার আগে যেমন খারাপ লাগে ব্যাথা করে তেমন হচ্ছিল আর ব্লাড যাওয়া শুরু হয়েছে।কয়েকমাস ধরে ১০ দিন পিরিয়ড চলে।আজও পরিপূর্ণ সাদা স্রাব যাচ্ছে না।লালচে ভাব আছেই।

এখন সালাত পড়া শুরু করবো কিনা বুঝতে পারছি না।২৯ তারিখ থেকে পিরিয়ড এর হিসেব কাউন্ট করতে হবে?  ২৯ তারিখ হলে তো সালাত শুরু করা উচিত।কিন্তু যদি হ্যা  হয় তখন আবার মনে হচ্ছে  আগেও এমন ভাবে ব্লাড যেতো।আগে যখন যেতো ব্লাড যেতো কয়েকদিন যাওয়ার পর সেই ব্লাড একেবারে বন্ধ হয়ে যেতো এবং পিরিয়ড শুরু হতো।এবার প্রথম ১ দিন (২৯ তারিখ) একটু ব্লাড গিয়েছিল  পরের দিন কোনো ব্লাড এ ছিল না ৩য় দিন একটু দেখেছি মনে হয় মনে নেই।

আবার যদি ১ তারিখ থেকে কাউন্ট করি তাহলে তো দিন আরও বাকি আছ ১০ দিন হওয়ার।যেহেতু এখনো পুরোপুরি সাদা রং যাওয়া শুরু হয়নি।

আমি কি করবো বুঝতে পারছি না।ভালোভাবে বোঝাতে পারলাম কিনা? আশেপাশে কেও এমন নেই যে জিজ্ঞেস করবো।জটিল অনেক।সমাধান দিলে মুনাসিব হতো
যাযাকুমুল্লাহ

1 Answer

0 votes
by (763,050 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا يُوسُفُ بْنُ مُوسَى، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ سُهَيْلٍ، - يَعْنِي ابْنَ أَبِي صَالِحٍ - عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، حَدَّثَتْنِي فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ أَنَّهَا أَمَرَتْ أَسْمَاءَ - أَوْ أَسْمَاءُ حَدَّثَتْنِي أَنَّهَا أَمَرَتْهَا فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ - أَنْ تَسْأَلَ، رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَمَرَهَا أَنْ تَقْعُدَ الأَيَّامَ الَّتِي كَانَتْ تَقْعُدُ ثُمَّ تَغْتَسِلُ - صحيح 

উরওয়াহ ইবনু যুবাইর (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ (রাঃ) আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন। তিনি আসমাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন অথবা আসমা-ই আমার নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করার জন্য। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নির্দেশ দিলেন যে, (পূর্বের হিসেব মতো) হায়িযের দিনগুলোতে অপেক্ষা করবে, তারপর নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হলে গোসল করবে।
(আবু দাউদ ২৮১ নাসায়ী ২০১)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,
فَإِنْ لَمْ يُجَاوِزْ الْعَشَرَةَ فَالطُّهْرُ وَالدَّمُ كِلَاهُمَا حَيْضٌ سَوَاءٌ كَانَتْ مُبْتَدَأَةً أَوْ مُعْتَادَةً وَإِنْ جَاوَزَ الْعَشَرَةَ فَفِي الْمُبْتَدَأَةِ حَيْضُهَا عَشَرَةُ أَيَّامٍ وَفِي الْمُعْتَادَةِ مَعْرُوفَتُهَا فِي الْحَيْضِ حَيْضٌ وَالطُّهْرُ طُهْرٌ. هَكَذَا فِي السِّرَاجِ الْوَهَّاجِ.
«الفتاوى الهندية» (1/ 37)
মাঝেমধ্যে হায়েয হওয়া আবার মাঝেমধ্যে বন্ধ হওয়া, দশ দিনের ভিতর সবকিছুই হায়েয হিসেবে গণ্য হবে।চায় এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন ঐ মহিলা প্রথমবার হোক বা এ ব্যাপারে অভ্যস্ত থাকুক।
যদি রক্তস্রাব দশদিন অতিক্রম করে যায়, তাহলে প্রথমবার এ পরিস্থিতির সম্মুখিন মহিলার জন্য দশদিন হায়েয। আর কোনো এক সংখ্যায় আদত ওয়ালী মহিলার জন্য তার পূর্বের আদতই হায়েয় এবং বাদবাকী সময় তুহুর। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৩৭,কিতাবুল-ফাতাওয়া-২/১০৮,কিতাবুন-নাওয়াযিল-৩/১৭২)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-https://www.ifatwa.info/7474

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্মের বিবরণ মতে আপনি ২৯ তারিখ দুপুর থেকে হায়েজ ধরবেন। 

এক্ষেত্রে যেহেতু কয়েকমাস ধরে আপনার ১০ দিন পিরিয়ড চলে,সুতরাং এ মাসেও ২৯ তারিখ দুপুর থেকে হিসাব করে ১০ দিন হায়েজ ধরবেন।  বাকি দিন গুলি ইস্তিহাজা হিসেবে ধরবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...