আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
45 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (7 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

১. আমার বাবা নিজ মালিকানায় ৬ শতাংশ জমির উপর প্রায় ২২০০ square ft যায়গা নিয়ে একটি ২ তলা বিল্ডিং তৈরি করে মারা যান। ওয়ারিশ সুত্রে সে জমি এবং জমির উপর বিল্ডিং এর মালিকানা আমার মা, এবং আমরা ৩ ভাই এর উপর বর্তায়। (মোট ৪ জন)

আল্লাহ্ তা'আলার প্রদত্ত নিয়ম অনুযায়ী উক্ত জমি এবং বিল্ডিং এর ভাগ বাটোয়ারা আমাদের মধ্যে কিভাবে হবে? জমি এবং বিল্ডিং এর ভাগ কি আলাদা ভাবে হবে নাকি একই সাথে? কে কতটুকু অংশ পাবে? দয়া করে Calculate করে জানাবেন।

২. আমার বাবা প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ রেখে মারা যান, যা সুদের কারণে বর্তমানে আরো অনেক বেড়ে গিয়েছে। এই ঋণ পরিশোধের জন্যই মূলত উপরে উল্লেখিত বাড়ি টি আমরা বিক্রি করতে চাচ্ছি ইনশাআল্লাহ। প্রশ্ন হচ্ছে এই ঋণ শোধ এর দ্বায়িত্ব আমার মা এবং আমরা ৩ ভাই এর মধ্যে কিভাবে এবং কোন তরিকায় বর্তাবে?
এই ২ টি প্রশ্নের একটি গুছানো উত্তর আমাদের জানাবেন দয়া করে।

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

আল্লাহ তা’আলা বলেন, 

يُوصِيكُمُ اللَّهُ فِي أَوْلَادِكُمْ ۖ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنثَيَيْنِ ۚ فَإِن كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ ۖ وَإِن كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ ۚ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِن كَانَ لَهُ وَلَدٌ ۚ فَإِن لَّمْ يَكُن لَّهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ ۚ فَإِن كَانَ لَهُ إِخْوَةٌ فَلِأُمِّهِ السُّدُسُ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِي بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ لَا تَدْرُونَ أَيُّهُمْ أَقْرَبُ لَكُمْ نَفْعًا ۚ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ كَانَ عَلِيمًا حَكِيمًا

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের সম্পর্কে আদেশ করেনঃ একজন পুরুষের অংশ দু?জন নারীর অংশের সমান। অতঃপর যদি শুধু নারীই হয় দু' এর অধিক, তবে তাদের জন্যে ঐ মালের তিন ভাগের দুই ভাগ যা ত্যাগ করে মরে এবং যদি একজনই হয়, তবে তার জন্যে অর্ধেক। মৃতের পিতা-মাতার মধ্য থেকে প্রত্যেকের জন্যে ত্যাজ্য সম্পত্তির ছয় ভাগের এক ভাগ, যদি মৃতের পুত্র থাকে। যদি পুত্র না থাকে এবং পিতা-মাতাই ওয়ারিস হয়, তবে মাতা পাবে তিন ভাগের এক ভাগ। অতঃপর যদি মৃতের কয়েকজন ভাই থাকে, তবে তার মাতা পাবে ছয় ভাগের এক ভাগ ওছিয়্যতের পর, যা করে মরেছে কিংবা ঋণ পরিশোধের পর। তোমাদের পিতা ও পুত্রের মধ্যে কে তোমাদের জন্যে অধিক উপকারী তোমরা জান না। এটা আল্লাহ কতৃক নির্ধারিত অংশ নিশ্চয় আল্লাহ সর্বজ্ঞ, রহস্যবিদ।

وَلَكُمْ نِصْفُ مَا تَرَكَ أَزْوَاجُكُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّهُنَّ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَهُنَّ وَلَدٌ فَلَكُمُ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْنَ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصِينَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۚ وَلَهُنَّ الرُّبُعُ مِمَّا تَرَكْتُمْ إِن لَّمْ يَكُن لَّكُمْ وَلَدٌ ۚ فَإِن كَانَ لَكُمْ وَلَدٌ فَلَهُنَّ الثُّمُنُ مِمَّا تَرَكْتُم ۚ مِّن بَعْدِ وَصِيَّةٍ تُوصُونَ بِهَا أَوْ دَيْنٍ ۗ وَإِن كَانَ رَجُلٌ يُورَثُ كَلَالَةً أَوِ امْرَأَةٌ وَلَهُ أَخٌ أَوْ أُخْتٌ فَلِكُلِّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا السُّدُسُ ۚ فَإِن كَانُوا أَكْثَرَ مِن ذَٰلِكَ فَهُمْ شُرَكَاءُ فِي الثُّلُثِ ۚ مِن بَعْدِ وَصِيَّةٍ يُوصَىٰ بِهَا أَوْ دَيْنٍ غَيْرَ مُضَارٍّ ۚ وَصِيَّةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَلِيمٌ

আর, তোমাদের হবে অর্ধেক সম্পত্তি, যা ছেড়ে যায় তোমাদের স্ত্রীরা যদি তাদের কোন সন্তান না থাকে। যদি তাদের সন্তান থাকে, তবে তোমাদের হবে এক-চতুর্থাংশ ঐ সম্পত্তির, যা তারা ছেড়ে যায়; ওছিয়্যতের পর, যা তারা করে এবং ঋণ পরিশোধের পর। স্ত্রীদের জন্যে এক-চতুর্থাংশ হবে ঐ সম্পত্তির, যা তোমরা ছেড়ে যাও যদি তোমাদের কোন সন্তান না থাকে। আর যদি তোমাদের সন্তান থাকে, তবে তাদের জন্যে হবে ঐ সম্পত্তির আট ভাগের এক ভাগ, যা তোমরা ছেড়ে যাও ওছিয়্যতের পর, যা তোমরা কর এবং ঋণ পরিশোধের পর। যে পুরুষের, ত্যাজ্য সম্পত্তি, তার যদি পিতা-পুত্র কিংবা স্ত্রী না থাকে এবং এই মৃতের এক ভাই কিংবা এক বোন থাকে, তবে উভয়ের প্রত্যেকে ছয়-ভাগের এক পাবে। আর যদি ততোধিক থাকে, তবে তারা এক তৃতীয়াংশ অংশীদার হবে ওছিয়্যতের পর, যা করা হয় অথবা ঋণের পর এমতাবস্থায় যে, অপরের ক্ষতি না করে। এ বিধান আল্লাহর। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সহনশীল। ( সূরা নিসা-১১-১২)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার বাবার যদি আর কোনো ওয়ারিশ না থাকে,সেক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান অনুসারে আপনার বাবার সমূদয় সম্পত্তি এভাবে বন্টন হবেঃ-

মোট সম্পত্তি ২৪ ভাগ হবে।
মাইয়্যিতের স্ত্রী তথা আপনার মা ৮ ভাগের এক ভাগ হিসেবে ৩ অংশ পাবে।

মাইয়্যিতের ৩ ছেলে (আপনারা ৩ ভাই) আসাবা হিসেবে প্রত্যেকে ৭ অংশ করে সকল ছেলে অবশিষ্ট মোট ২১ অংশ পাবে।

(জমি এবং বিল্ডিং এর ভাগ আলাদা ভাবে করবেন নাকি একই সাথে করবেন,সেটি আপনাদের ইচ্ছা।)

পরামর্শ থাকবে, ভবিষ্যত ঝগড়াঝাটি থেকে বাঁচতে আপনার বাবার জমি প্রত্যেকের মাঝে শরীয়তের উপরোক্ত আইনের আলোকে দলিল ও খারিজ করে নিবেন।

(০২)
মানুষ মারা যাওয়ার পর কাফন দাফন কার্য শেষ করার পর প্রথমেই তার সম্পত্তি হতে  তার ঋণ পরিশোধ করতে হয়।

সুতরাং আপনারা যেহেতু আপনার বাবার উক্ত বাসা বিক্রি করতে চাচ্ছেন,এক্ষেত্রে উক্ত বাসা বিক্রয় করার পর আগে আপনার বাবার সমস্ত ঋণ সুদসহ আগে শোধ করতে হবে। 

চেষ্টা করবেন সুদপ্রদান না করতে। আপনার বাবার মৃত্যুর বিষয়টি তাদেরকে অবগত করে সুদ মওকুফ করে যায় কিনা, সেটির জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। সুদ মওকুফ করা না যায় সে ক্ষেত্রে সুদও আপনার বাবার বাসা বিক্রয়ের টাকা হতে পরিশোধ করবেন।

এরপরে আপনার বাবার যা সম্পত্তি থাকবে সেটা উপরে উল্লেখিত শরীয়তের নীতিমালা অনুসারে আপনাদের মাঝে বন্টন করে নিবেন।

আরো জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...