আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in পবিত্রতা (Purity) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম, আপু,১ ফেব্রুয়ারি আমার হায়েজ হয়, আমি ৭ ফেব্রুয়ারি হায়েজ থেকে পবিত্র হই,ওইদিন আমি কোনো অপবিত্রতা দেখিনি বিধায় ফরজ গোসল করি, হয়ে যোহরের সলাত আদায় করি,আদায় শেষে কাগজ দিয়ে দেখি বাদামী বর্ণের স্রাব,তো এরপর আবার আসরের সলাত পড়ি ভালোকরে গোসল না করে লজ্জাস্থান পরিষ্কার করি,আসরের সলাত আদায় করি,কিন্তু আমার মনে পড়ছে না আমি আবার নাপাকি দেখেছি কিনা,এরপর এশা, মাগরিব পড়ি,আসরের নামাজের পরে আর কিছু দেখিনি,আমি ৮ ফেব্রুয়ারি গোসল করি নাই,৯ ফেব্রুয়ারি আমি কাজা রোজা রেখেছি,

প্রশ্ন:১)আমার পবিত্রতা কি অর্জন হয়নি?ফরজ গোসল আবার করতে হবে?
২) ৭,৮ তারিখের নামাজ+৯ তারিখ এর রোজা আদায় কি হবে নাহ?

৩)আমি অনেক সন্দেহ নিয়ে সলাত আদায় করি,যদি না হয় আমার পরবর্তীতে এই সলাত কাজা আদায় করতে হবে?রোজাও আবার কাজা রোজার কাজা আদায় করতে হবে?

৪)নামাজ বা রোজা রাখার কারণে কি আমার গুনাহ হবে? যেহেতু আমি সন্দেহ নিয়ে বা না জেনে পড়েছি,বা রোজা রেখেছি!(!৭+৮+৯ এই তিনদিন এর কথা সলাত+রোজা)

৫)এক দিরহাম পরিমান কি হাতের তালুতে পানি নিলে যতটুকু থাকে ততটুকু?দিরহাম এর বিষয় টা বুঝিয়ে বললে ভালো হতো!

1 Answer

0 votes
by (764,100 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নের বিবরন মতে আপনি হায়েজের ৭ম দিনে পবিত্র হয়ে যোহরের সলাত আদায় করেন,সালাত আদায় শেষে বাদামী বর্ণের স্রাব দেখেন,এরপর আসরের নামাজের পরে আর কিছু দেখেননি।

সুতরাং আপনার পবিত্রতা অর্জন হয়নি।
পুনরায় ফরজ গোসল আদায় করতে হবে।

(০২)
৭,৮ তারিখের নামাজ আদায় হয়নি।
ফরজ গোসল করে ৭ তারিখের আসরের নামাজ হতে সব গুলো নামাজের কাজা আদায় করবেন।

আপনার যদি প্রবল ধারণা হয় যে ৭ তারিখের আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্তের মধ্যেই আপনার হায়েজ ভালো হয়ে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনি যোহরের নামাজ হতে কাজা আদায় করবেন।

৯ তারিখ এর রোজা আদায় হবে।
ফরজ গোসল আদায় না করা রোজা আদায়ের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধক নয়।

(০৩)
প্রশ্ন টি অস্পষ্ট। কমেন্ট বক্সে বিস্তারিত আকারে প্রশ্নটি স্পষ্ট ভাবে লিখলে জবাব প্রদানের সুবিধা হত।

(০৪)
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার গুনাহ হবেনা। 

(০৫)
এক দিরহাম পরিমান বলতে হাতের তালুর গভীরতা সমপরিমাণ- (বর্তমান ৫ টাকার কয়েন সমপরিমাণ) উদ্দেশ্য। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
৩)আমি বাদামি বর্ণের স্রাব দেখি যোহরের সলাত আদায়ের পর,তখন মনে সন্দেহ জাগে,পরে আসরের ওয়াক্তে আমি কিছু দেখিছি কিনা মনে নেই,এর পর আর কিছু বের হয়নি,যোহরের সলাত আদায় শেষে যে স্রাব দেখেছিলাম তখনই সেই সন্দেহ নিয়ে আমি নামাজ আদায় করি,কুরআন পড়ি,যদি আমার পবিত্রতা অর্জন না হয় তাহলে কি আমি যেই সলাত পড়েছিলাম পরবর্তীতে তা কাজা আদায় করতে হবে কিনা! 
আমি কাজা রোজার রেখেছিলাম,অপবিত্রতার দরুন  আমার কাজা রোজা যদি না হয়,তাহলে কি সেই কাজা রোজারই আবার কাফফারা হিসাবে কাজা আরেকটা আদায় করতে হবে কিনা!! 

 যেকোনো রোজার নিয়ত ভাঙলে কি গুনাহ এবং সেই রোজার কাফফারা আদায় করতে হবে? 
by (764,100 points)
আপনার যদি প্রবল ধারণা হয় যে ৭ তারিখের আসরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার আগেই অর্থাৎ যোহরের ওয়াক্তের মধ্যেই আপনার হায়েজ ভালো হয়ে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে আপনি যোহরের নামাজ হতে কাজা আদায় করবেন।

অন্যথায় আসরের ওয়াক্ত হতে কাজা আদায় করবেন।

★হায়েজের দিনে কাজা রোজা রাখলে সে রোজা আবার আদায় করতে হবে। এ রোযার কাফফারা আদায় করতে হবে না।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...