আস সালামু আলাইকুম, মুৃহতারাম।
আমি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের, পারিবারিক সচ্ছলতা আছে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক টানা পোড়ন আসে, যেমন...আমার ভাইবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তখন তাদের টাকা দেওয়ার সময়।
আমার ব্যক্তিগত খুবই অল্প পরিমাণ জমানো টাকা আছে, সেটার উৎস কারো হাদিয়া বা আমার পড়াশোনা চলাকালীন শিক্ষাবৃত্তি থেকে। বর্তমানে আমি একটি অনলাইন ক্বওমী মাদরাসায় পড়ি। তো আমার ঐ জমানো টাকা থেকে আমি আমার মাদরাসার বেতন পরিশোধ করি, আর যতটুকু পারি দান-সাদাকা করি। যদিও খুব শীঘ্রই তা শেষ হয়ে যাবে, তবে বিশ্বাস রাখি আল্লাহ তায়ালাই আবার কোনো না কোনো ভাবে আমাকে আবার এমন টাকা ম্যানেজ করে দিবেন।
সম্প্রতি, আমার মাথা য় আসলো সাদাকাহ করার উত্তম খাত হচ্ছে ত্বলেবে এলেম। তাছাড়া টাকাটা দেওয়ার খুবই অদ্ভুত উপায় মাথা আসলো। ইচ্ছে হলো নিকটস্থ এক মাদরাসার অফিসে গিয়ে যার বেতন সবচেয়ে বেশি থাকবে তার কিছু পরিমাণ বেতন আমি পরিশোধ করে আসবো, তবে শুধু মাদরাসা কতৃপক্ষ জানবে এবং তারা আমাকে চিনবে না, যেহেতু আমি মেয়ে।
০১. এখন, আমার প্রশ্ন, এমনটা করা কী পাগলামী?
০২. আর এর চেয়ে কী নিজ পরিবারের সংকটে দেওয়া উচিত?যে সংকট আমার ভাই বোনের সেকুলার পড়াশোনার জন্য তৈরী হয়!
০৩. নাকি দান সাদাকা অফ করে টাকা জমাবো? যেহেতু ক্বওমী মাদরাসার উপরের জামাত গুলোতে বই কিনতে অনেক টাকা লাগে।
আর দান সাদাকাহর বিষয় গুলো আমার বাবা জানলে রাগ করতে পারেন ভেবে বলি না।তার ভাষ্য টাকাটা পরিবারে লাগবে,আসলে তাঁর মধ্য দ্বীনের জ্ঞানের কমতি আছে, আর রাজনৈতিক ভাবে তিনি জামাতে ইসলামের সাথে যুক্ত আর আমি ব্যক্তিগত ভাবে বাড়িতে ফাযায়েলে আমল বই পড়ি। তাই আমার পর্দা করা, তাঁকে দাড়ি রাখার কথা, টাখনুর উপর কাপড় পড়ার কথা, নামাজ কাযা না করার কথা বা দান সাদাকাহ উদ্দেশ্য টাকা বা বই কিনে মানুষকে গিফট করা সবকিছু কে কাউন্টার হিসেবে ধরে। বলে এগুলো তাবলিগরা করে। এসব বিদ্বেষমূলক কথা আসলে আমাকে অনেক মানসিক আঘাত করে। আমি দলীয় অন্ধভক্তি নিয়ে বিদ্বেষ মুলক কথা নিতে পারি না। উল্লেখ্য, আমি তাবলীগ নিয়ে মাতামাতি বা তর্ক করিনা।
০৪. প্রায় প্রায়ই তিনি আমাকে কথার দ্বারা কাউন্টার দেন, এ অবস্থায় আমার করনীয় কী?( যদিও আমি তার সাথে ডিবেট করার জন্য যথেষ্ট সামর্থ্য বান তারপরও তিনি যেহেতু পিতা তাই যদি অসম্মান হয়ে যায় এজন্য তর্কে যাইনা)
আসলে, আমি অবিবাহিত, আর যথেষ্ট বয়স হয়েছে। সম্প্রতি, আমার দাদি মারা গিয়েছেন। তো তাঁর জন্য তাঁর ছেলেদের দান সাদাকাহ করার মানসিকতা দেখে ভয় লাগে। আমি মারা গেলে তাঁরা আমার জন্য কেমন দান সাদকাহ করবে এটা নিয়ে ভয় হয়। তাছাড়া আমি মারা গেলে আমার আমলের দুয়ার বন্ধ, আর দুনিয়াতে আমার এখনো সন্তান না থাকায় সাদকায়ে জারিয়াহর যথেষ্ট শংকাজনক পরিস্থিতিতে আছি। দেখেন উস্তাজ, আমি আমার পরকালের কথা ভেবে উক্ত উপায়ে সাদকাহ করতে চাই। এর থেকে আপনি ভালো পরামর্শ দিলো উপকৃত হবো, ইন শা আল্লাহ।
(অতিরিক্ত হাবিজাবি লেখার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আসলে আমার মনমানসিকতা আর পরিস্থিতি বুঝাতে লিখেছি। আর এগুলোর সলুশন আপনাদের মতো বিজ্ঞ জন ছাড়া নিতেও পারি না, আর দ্বীনের বিষয়ে যথেষ্ট অজ্ঞতা + মাহরাম না থাকায় ইসলাহী উস্তাজ ও নির্ধারন করতে পারিনি। )
জাজাকাল্লাহু খইর।