আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
59 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (2 points)
edited by
আস সালামু আলাইকুম, মুৃহতারাম।

আমি নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের, পারিবারিক সচ্ছলতা আছে, আলহামদুলিল্লাহ। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক টানা পোড়ন আসে, যেমন...আমার ভাইবোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তখন তাদের টাকা দেওয়ার সময়।
আমার ব্যক্তিগত খুবই অল্প পরিমাণ জমানো টাকা আছে, সেটার উৎস কারো হাদিয়া বা আমার পড়াশোনা চলাকালীন শিক্ষাবৃত্তি থেকে। বর্তমানে আমি একটি অনলাইন ক্বওমী  মাদরাসায় পড়ি। তো আমার ঐ জমানো টাকা থেকে আমি আমার মাদরাসার বেতন পরিশোধ করি, আর যতটুকু পারি দান-সাদাকা করি। যদিও খুব শীঘ্রই তা শেষ হয়ে যাবে, তবে বিশ্বাস রাখি আল্লাহ তায়ালাই আবার কোনো না কোনো ভাবে আমাকে আবার এমন টাকা ম্যানেজ করে দিবেন।

সম্প্রতি, আমার মাথা য় আসলো সাদাকাহ করার উত্তম খাত হচ্ছে ত্বলেবে এলেম। তাছাড়া টাকাটা দেওয়ার খুবই অদ্ভুত উপায় মাথা আসলো। ইচ্ছে হলো নিকটস্থ এক মাদরাসার অফিসে গিয়ে যার বেতন সবচেয়ে বেশি থাকবে তার কিছু পরিমাণ বেতন আমি পরিশোধ করে আসবো, তবে শুধু মাদরাসা কতৃপক্ষ জানবে এবং তারা আমাকে চিনবে না, যেহেতু আমি মেয়ে।

০১. এখন, আমার প্রশ্ন, এমনটা করা কী পাগলামী?

০২. আর এর চেয়ে কী নিজ পরিবারের সংকটে দেওয়া উচিত?যে সংকট আমার ভাই বোনের সেকুলার পড়াশোনার জন্য তৈরী হয়!

০৩. নাকি দান সাদাকা অফ করে টাকা জমাবো? যেহেতু ক্বওমী মাদরাসার উপরের জামাত গুলোতে বই কিনতে অনেক টাকা লাগে।

আর দান সাদাকাহর বিষয় গুলো আমার বাবা জানলে রাগ করতে পারেন ভেবে বলি না।তার ভাষ্য টাকাটা পরিবারে লাগবে,আসলে তাঁর মধ্য দ্বীনের জ্ঞানের কমতি আছে, আর রাজনৈতিক ভাবে তিনি জামাতে ইসলামের সাথে যুক্ত  আর আমি ব্যক্তিগত ভাবে বাড়িতে ফাযায়েলে আমল বই পড়ি। তাই আমার পর্দা করা, তাঁকে দাড়ি রাখার কথা, টাখনুর উপর কাপড় পড়ার কথা, নামাজ কাযা না করার কথা বা দান সাদাকাহ উদ্দেশ্য টাকা বা বই কিনে মানুষকে গিফট করা সবকিছু কে কাউন্টার হিসেবে ধরে। বলে এগুলো তাবলিগরা করে। এসব বিদ্বেষমূলক কথা আসলে আমাকে অনেক মানসিক আঘাত করে। আমি দলীয় অন্ধভক্তি নিয়ে বিদ্বেষ মুলক কথা নিতে পারি না। উল্লেখ্য, আমি তাবলীগ নিয়ে মাতামাতি বা তর্ক করিনা।

০৪. প্রায় প্রায়ই তিনি আমাকে কথার দ্বারা কাউন্টার  দেন, এ অবস্থায় আমার করনীয় কী?( যদিও আমি তার সাথে ডিবেট করার জন্য যথেষ্ট সামর্থ্য বান তারপরও তিনি যেহেতু পিতা তাই যদি অসম্মান হয়ে যায় এজন্য তর্কে যাইনা)

আসলে, আমি অবিবাহিত, আর যথেষ্ট বয়স হয়েছে।  সম্প্রতি, আমার দাদি মারা গিয়েছেন।  তো তাঁর জন্য তাঁর ছেলেদের দান সাদাকাহ করার মানসিকতা দেখে ভয় লাগে। আমি মারা গেলে তাঁরা আমার জন্য কেমন দান সাদকাহ করবে এটা নিয়ে ভয় হয়। তাছাড়া আমি মারা গেলে আমার আমলের দুয়ার বন্ধ, আর দুনিয়াতে আমার এখনো সন্তান না থাকায় সাদকায়ে জারিয়াহর যথেষ্ট শংকাজনক পরিস্থিতিতে আছি। দেখেন উস্তাজ, আমি আমার পরকালের কথা ভেবে উক্ত উপায়ে সাদকাহ করতে চাই। এর থেকে আপনি ভালো পরামর্শ দিলো উপকৃত হবো, ইন শা আল্লাহ।
(অতিরিক্ত হাবিজাবি লেখার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। আসলে আমার মনমানসিকতা আর পরিস্থিতি বুঝাতে লিখেছি। আর এগুলোর সলুশন আপনাদের মতো বিজ্ঞ জন ছাড়া নিতেও পারি না, আর দ্বীনের বিষয়ে যথেষ্ট অজ্ঞতা + মাহরাম না থাকায় ইসলাহী উস্তাজ ও নির্ধারন করতে পারিনি। )

জাজাকাল্লাহু খইর।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
মূসা ইবনু ইসমাঈল (রহঃ) ... সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, 
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ شِهَابٍ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، أَنَّ أَبَاهُ، قَالَ عَادَنِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ مِنْ شَكْوَى، أَشْفَيْتُ مِنْهَا عَلَى الْمَوْتِ، فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَلَغَ بِي مَا تَرَى مِنَ الْوَجَعِ، وَأَنَا ذُو مَالٍ، وَلاَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَةٌ لِي وَاحِدَةٌ، أَفَأَتَصَدَّقُ بِثُلُثَىْ مَالِي قَالَ " لاَ ". قُلْتُ فَبِشَطْرِهِ قَالَ " الثُّلُثُ كَثِيرٌ، إِنَّكَ أَنْ تَذَرَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ، خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَذَرَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ، وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً تَبْتَغِي بِهَا وَجْهَ اللَّهِ، إِلاَّ أُجِرْتَ، حَتَّى مَا تَجْعَلُ فِي فِي امْرَأَتِكَ ". قُلْتُ أَأُخَلَّفُ بَعْدَ أَصْحَابِي قَالَ " إِنَّكَ لَنْ تُخَلَّفَ فَتَعْمَلَ عَمَلاً تَبْتَغِي بِهِ وَجْهَ اللَّهِ، إِلاَّ ازْدَدْتَ دَرَجَةً وَرِفْعَةً وَلَعَلَّكَ تُخَلَّفُ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ، وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ، اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ، وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ، لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ ". قَالَ سَعْدٌ رَثَى لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مِنْ أَنْ تُوُفِّيَ بِمَكَّةَ.
বিদায় হাজ্জের (হজ্জ) সময় আমি রোগে আক্রান্ত হয়ে মরণাপন্ন হয়ে পড়েছিলাম। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সে সময় আমাকে দেখতে এলেন। তখন আমি বললাম আমি যে রোগ-ষন্ত্রনায় আক্রান্ত তাতো আপনি দেখছেন। আমি একজন ধনবান লোক। আমার একটি মেয়ে ছাড়া আর কেউ ওয়ারিস নেই। তাই আমি কি আমার দু’তৃতীয়াংশ মাল সাদাকা করে দিতে পারি? তিনি বললেনঃ না। আমি বললাম তবে অর্ধেক মাল? তিনি বললেনঃ না। এক তৃতীয়াংশ অনেক। তোমার ওয়ারিসদের লোকের কাছে ভিক্ষার হাত প্রসারিত করার মত অভাবী রেখে যাওয়ার চাইতে তাদের ধনবান রেখে যাওয়া তোমার জন্য অনেক উত্তম। আর তুমি একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টিটি লাভের জন্য যা কিছুই ব্যয় করবে নিশ্চয়ই তার প্রতিদান দেওয়া হবে। এমন কি (সে উদ্দেশ্যে) তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে লুকমাটি তুলে দিয়ে থাকো তোমাকে এর প্রতিদান দেওয়া হবে।
আমি বললাম তা হলে আমার সঙ্গীগণের পরেও কি আমি বেঁচে থাকবো? তিনি বললেন নিশ্চয়ই তুমি তাদের পরে বেঁচে থাকলে তুমি আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য যা কিছু নেক আমল করনা কেন, এর বিনিময়ে তোমার মর্যাদা ও সম্মান আরও বেড়ে যাবে। আশা করা যায় যে, তুমি আরও কিছু দিন পর্যন্ত বেঁচে থাকবে। এমন কি তোমার দ্বারা অনেক কাওম উপকৃত হবে। আর অনেক কাওম ক্ষতিগ্রস্থ হবে। তারপর তিনি দুআ করলেন ইয়া আল্লাহ! আপনি আমার (মুহাজির) সাহাবীগণের হিজরতকে বহাল রাখুন। আর তাদের পেছনে ফিরে যেতে দিবেন না। সা’দ ইবনু খাওলাহ (রাঃ) এর দূর্ভাগ্য (কারণ তিনি বিদায় হাজ্জের সময় মক্কায় মারা যান) সা’দ (রাঃ) বলেন মক্কাতে ওফাতের কারণে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার জন্য শোক প্রকাশ করেছেন।(সহীহ বুখারী-৫৯৩৩)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনি টাকা জমাবেন। তারপর পরিবারের যেজন আর্থিকভাবে সমস্যায় পড়বে তাকে দিবেন। এবং জমানো টাকার একাংশ গরীব মিসকিন বা মাদরাসার তালিবে ইলমদেরকে দিবেন। জমানো টাকা দ্বারা ইসলামী বই পুস্তক এবং তাসবিহ মিসওয়াক কিনে পরিবারের লোকজনকে দিবেন। পাড়া মহল্লার গরীব মিসকিনদেরকেও দিতে পারেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 67 views
...