আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
52 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
১. নামাজে তিলাওয়াত করার সময় ১ম রাকাতে সূরা নাস পড়ে ফেললে কি পরবর্তী রাকাতে আর সূরা নাসের পূর্ববর্তী সূরা পড়া যাবে না? কুরআনে সূরার সিরিয়াল অনুযায়ী তিলাওয়াতের সিরিয়াল রাখতেই হবে?  একবার একটা লেকচারে শুনেছিলাম এভাবে সিরিয়াল অনুযায়ী সংকলিত হয়েছে উসমানী খেলাফায়।তাহলে এমন সিরিয়ালি পড়া ওয়াজীব কিভাবে হয়? বিস্তারিত জানতে চাচ্ছিলম।

২. ১ম রাকাতে ফাতিহার পর জুজ আম্মা থেকে ১টা সূরা পড়লে পরবর্তী রাকাতে ফাতিহার পর জুজ আম্মা থেকে পরবর্তী সূরা না পড়লে সর্বনিম্ন ২টি সূরা বাদ দিয়ে নাকি পরের সূরা তিলাওয়াত না করা মাকরূহ। বিস্তারিত জানতে চাচ্ছিলাম।

1 Answer

0 votes
by (807,660 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
প্রথম রা'কাতে যে সূরা তেলাওয়াত করা  হয়েছে,পরের রা'কাতে উক্ত সূরার পূর্বের কোনো সূরা তেলাওয়াত করা মাকরুহ।তাই প্রথম রা'কাতে এমন সূরা পড়তে হবে যে,তার পরে আরেকটি সূরা পড়ার মত রয়েছে।যেমন প্রথম রা'কাতে সূরা মাউন পড়ার পর দ্বিতীয় রা'কাতে সূরা কুরাইশ পড়া মাকরুহ।কেননা তখন কুরআনের সূরা সমূহের তারতীব পাল্টে যাবে।বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- https://www.ifatwa.info/2434

তবে যদি ভুলক্রমে এমনটি হয়ে যায়, তাহলে সমস্যা নেই।যেহেতু আপনি প্রথম রা'কাতে সূরা ইখলাছ পড়ে নিয়েছেন,তাই দ্বিতীয় রা'কাতেও আবার সূরা ইখলাছ পড়ে নিতে পারেন বা সূরা ফালাক্ব পড়ে নিতে পারেন।সূরা ফালাকে আয়াত সংখ্যা বেশী হলেও এক্ষেত্রে মাকরুহ হবে না। তিন আয়াত পরিমাণ বেশী হলেই মাকরুহ হবে।

কখনো ভুলে যদি কেউ সূরা নাস পড়ে ফেলে। তাহলে পরবর্তী সকল রাকাতে সূরা নাস পড়ার পরামর্শ ফুকাহায়ে কেরাম দেন।। পূর্বের অন্য কোন সূরা না পড়ার উপদেশ দেন।তারপরও কেউ ভুলে অন্য সূরা পড়লে কোন সমস্যা হবে না।মোটকথা ইচ্ছাকৃত হলে মাকুরুহ।তবে সাহু সেজদা আসবে না।সাহু সেজদা শুধুমাত্র ওয়াজিব তরক করলেই আসে।
প্রমাণ

وَيُكْرَهُ الْفَصْلُ بِسُورَةٍ قَصِيرَةٍ وَأَنْ يَقْرَأَ مَنْكُوسًا إلَّا إذَا خَتَمَ فَيَقْرَأُ مِنْ الْبَقَرَةِ. وَفِي الْقُنْيَةِ قَرَأَ فِي الْأُولَى الْكَافِرُونَ وَفِي الثَّانِيَةِ – أَلَمْ تَرَ – أَوْ – تَبَّتْ – ثُمَّ ذَكَرَ يُتِمُّ وَقِيلَ يَقْطَعُ وَيَبْدَأُ،
وقال ابن عابدين الشامى رح: (قَوْلُهُ ثُمَّ ذَكَرَ يُتِمُّ) أَفَادَ أَنَّ التَّنْكِيسَ أَوْ الْفَصْلَ بِالْقَصِيرَةِ إنَّمَا يُكْرَهُ إذَا كَانَ عَنْ قَصْدٍ، فَلَوْ سَهْوًا فَلَا كَمَا فِي شَرْحِ الْمُنْيَةِ. (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب صفة الصلاة، فروع يجب الاستماع القراءت مطلقا-2/269)
قَرَأَ فِي الْأُولَى – {قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ} [الناس: 1]- أَعَادَهَا فِي الثَّانِيَةِ إنْ لَمْ يَخْتِمْ نَهْرٌ لِأَنَّ التَّكْرَارَ أَهْوَنُ مِنْ الْقِرَاءَةِ مَنْكُوسًا بَزَّازِيَّةٌ، (رد المحتار، كتاب الصلاة، باب  صفة الصلاة-2/268)

(২)
১ম রাকাতে ফাতিহার পর জুজ আম্মা থেকে কোনো একটা সূরা পড়লে পরবর্তী রাকাতে ফাতিহার পর ঐ সূরার পরবর্তী সূরা না পড়লে সর্বনিম্ন ২টি সূরা বাদ দিয়ে পড়তে হবে। এক সূরা বাদ দিয়ে পড়া মাকরুহ। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...