আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
72 views
in সাওম (Fasting) by (16 points)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। 

উস্তায আমার ৪ মাসের প্রেগন্যান্সি চলছে,,জমজ সন্তান হবে ইন শা আল্লাহ। শারীরিকভাবে দুর্বল,, রক্ত সল্পতা আছে,,হিমোগ্লোবিন ৮.৯ এ এসেছে,,ডাক্তার বেশি বেশি করে খাবার খেতে বলেছেন,যাতে হিমোগ্লোবিন টা ঠিক হয়ে আসে।  এখন আলহামদুলিল্লাহ মাথা ঘোরা,খারাপ লাগাটা কমেছে।

আমার প্রশ্ন :

১। আমার কি এই অবস্থায় রোজা রাখা যাবে?যেহেতু হিমোগ্লোবিন কম,,রোজা থাকলে আরও যদি হিমোগ্লোবিন কমে যায়,এক্ষেত্রে করণীয় কি?

২। বেশি বেশি খাওয়ার জন্য রোজা না রাখলে কি গুনাহ হবে?

৩। প্রথম কয়েকটা রোজা রেখে দেখতে চাচ্ছি,,যদি খারাপ লাগে সেক্ষেত্রে কি রোজা বাদ দিতে পারবো?

৪। রোজা যদি না রাখতে পারি তারাবীহ কি পড়তে পারবো? না অন্য ইবাদত করলে হবে?

 

আরও কিছু বিষয়:

 

উস্তায আমি আলিম কোর্সের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারে আছি,এই সেমিস্টারে থিসিস লিখতে হবে,সেক্ষেত্রে আমার কাছে তেমন বই নেই,পিডিএফ থেকে সংগ্রহ করতে হবে,এজন্য ২ টা ডিভাইস দরকার।

আমার ল্যাপটপ আছে,কিন্তু সেটাতে প্রায় অর্ধেক সুদের টাকায় কিনা হয়েছে,,এজন্য ব্যবহার করি না।

৫।শুধু থিসিসের কাজে কি ব্যবহার করতে পারবো?

৬।ল্যাপটপ কিনতে ২৫০০০ টাকা সুদি টাকা ছিলো,,এখন যদি এই ২৫০০০ টাকা বিনা সাওয়াবের আশায় দান করি,তাহলে কি ল্যাপটপ টা ব্যবহার করা জায়েজ হবে?

৭/ আরও কিছু বিষয়:

৪ জন বান্ধবী ৮০০ টাকার ফলমূল নিয়ে এসেছিলো আমার জন্য,, তাদের ৪ জনের মধ্যে ১ জনের স্বামী ব্যাংকে চাকরী করে,,এখন ফলগুলো খাওয়া কি জায়েজ হয়েছে?? 

৮।জায়েজ না হলে,এখন আমার করণীয় কি??

৯/ উস্তায আর একটা বিষয় :

 

আমরা যে ফ্ল্যাটে থাকি সেটা একটাই রুম,,বড় রুম টা,,রুমের একটা সাইডে মানে রুমের মধ্যেই বাথরুম, বাথরুমের দেয়ালের পরে রান্নাঘর,,যদি ইতিকাফে বসা হয়,তাহলে কি রান্নাঘরে গিয়ে রান্না করতে পারবো? সংসারের কাজ করতে পারবো?

১০/ আর ইতিকাফ করার জন্য কি রোজা রাখতেই হবে? যদি আমি অসুস্থতার কারণে রোজা না থাকতে পারি,তাহলে কি এই রুমে ইতিকাফে বসতে পারবো? (রান্না বান্না করতে হবে)

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

https://ifatwa.info/14499/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছে, 
সুরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেনঃ 

شَهۡرُ رَمَضَانَ الَّذِیۡۤ اُنۡزِلَ فِیۡهِ الۡقُرۡاٰنُ هُدًی لِّلنَّاسِ وَ بَیِّنٰتٍ مِّنَ الۡهُدٰی وَ الۡفُرۡقَانِ ۚ فَمَنۡ شَهِدَ مِنۡکُمُ الشَّهۡرَ فَلۡیَصُمۡهُ ؕ وَ مَنۡ کَانَ مَرِیۡضًا اَوۡ عَلٰی سَفَرٍ فَعِدَّۃٌ مِّنۡ اَیَّامٍ اُخَرَ ؕ یُرِیۡدُ اللّٰهُ بِکُمُ الۡیُسۡرَ وَ لَا یُرِیۡدُ بِکُمُ الۡعُسۡرَ ۫ وَ لِتُکۡمِلُوا الۡعِدَّۃَ وَ لِتُکَبِّرُوا اللّٰهَ عَلٰی مَا هَدٰىکُمۡ وَ لَعَلَّکُمۡ تَشۡکُرُوۡنَ ﴿۱۸۵﴾

রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

ইকরিমা রাহ. বলেন, ‘‘আমার মা প্রচন্ড তৃষ্ণা-রোগে আক্রান্ত ছিলেন এবং রোযা রাখতে সক্ষম ছিলেন না। তাঁর সম্পর্কে আমি তাউস রাহ.কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘প্রতি দিনের পরিবর্তে মিসকীনকে এক মুদ (বর্তমান হিসাবে পৌনে দুই কেজি) পরিমাণ গম প্রদান করবে’।’’-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস : ৭৫৮১

আরো জানুনঃ 

★গর্ভাবস্থায় নিজের জন্য বা সন্তানের জন্য বেশি সমস্যা হলে রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে।
পরবর্তীতে কাজা আদায় করতে হবে।

«وَعَوَارِضُ الصَّوْمِ الَّتِي قَدْ يُغْتَفَرْ ... لِلْمَرْءِ فِيهَا الْفِطْرُ تِسْعٌ تُسْتَطَرْ
حَبَلٌ وَإِرْضَاعٌ وَإِكْرَاهُ سَفَرْ ... مَرَضٌ جِهَادٌ جُوعُهُ عَطَشٌ كِبَرْ» - «حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي» 2/ 421)
নয়টি কারণে রোযা না রাখার অুনমোদন রয়েছে, গর্ভ,দুগ্ধপান,জোড়জবরদস্তী,সফর,অসুস্থতা,জিহাদ,অনাহার,পিপাসা,বৃদ্ধ( রদ্দুল মুহতার-২/৪২১)

বিস্তারিত জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(১-২)
প্রশ্নের বিবরন মতে গর্ভাবস্থায় আপনার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে।  তবে পরবর্তীতে এসব রোযার কাজা আদায় করে নিতে হবে।

(০৩)
আপনি একদিন রোজা রেখে দেখতে পারেন সমস্যা হয় কিনা! সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে রোজা রাখতে পারেন। একদিন রোজা রেখে যদি সমস্যা মনে হয়,সেক্ষেত্রে পরবর্তী দিনগুলো রোজা রাখবেন না। সবগুলো বিষয় নির্ভর করে আপনার শারীরিক অবস্থার ওপর।

তবে সর্বাবস্থায় আপনার জন্য রোজা না রাখার অনুমতি রয়েছে।

(০৪)
রোজার সাথে তারাবিহ এর কোন সম্পর্ক নেই। সুতরাং আপনি রোজা রাখতে না পারলেও তারাবিহ আদায় করতে পারবেন, এছাড়াও অন্যান্য ইবাদতও করতে পারবেন,কোনো সমস্যা নেই। 

(০৫)
থিসিসের কাজে ব্যবহার করলে যেহেতু তাহা অর্ধেক হারাম টাকায় ক্রয় কৃত, তাই এক্ষেত্রে আপনার গুনাহ হবে।

(০৬)
হ্যাঁ, জায়েজ হবে।

(৭-৮)
সেই একজন যত টাকা সেখানে দিয়েছে, সমপরিমাণ টাকা বা সম মূল্যের ফল আপনি তাকে ফেরত দিবেন অথবা গরীব মিসকিনকে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে দিবেন।

(০৯)
এক্ষেত্রে রান্নাঘরে গিয়ে আপনি রান্না করতে পারবেন না। সংসারের কাজও করতে পারবেন না।

আপনাকে উক্ত রুমে বসেই রান্না করতে হবে এবং সংসারের কাজ করতে হবে।

(১০)
ইতিকাফের জন্য রোযা রাখতেই হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...