আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
90 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (9 points)


আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ।
আমি একটি মাসআলা ও আন্তরিক পরামর্শ চাই।
আমার স্বামীর বড় বোনের সাথে বর্তমানে আমাদের (আমি ও আমার স্বামী) কোনো কথাবার্তা নেই। আগে থেকেই ভাই-বোনের মধ্যে ঘন ঘন ঝগড়া হতো। বিয়ের পর আমি আলাদা সংসার করেছি এবং তার সব কথায় উঠাবসা করিনি—এ কারণে তিনি আমাকে সহ্য করতে পারেন না। আমার নাম শুনলেই তিনি রেগে যান।
তবে আমি আমার শ্বশুর-শাশুড়ীর সাথে যথাসাধ্য ভালো আচরণ করার চেষ্টা করি। যেমন—
ভালো কিছু রান্না হলে আগে তাদের দিয়ে আসি,
খোঁজখবর নেই,
শাশুড়ী অসুস্থ হলে রান্না করে দেই।
কিন্তু শ্বশুরবাড়িতে আমি সম্মান পাই না। অপমানজনক আচরণের কারণেই আমরা আলাদা হয়েছি।
বিয়ের পর এক সংসারে থাকার সময় থেকেই ননাস আক্রমণাত্মক কথা বলতেন। উদাহরণ হিসেবে বলছি—
আমি বিয়ের পর গর্ভবতী হই। আল্ট্রাসনোগ্রামের রিপোর্ট দেখে তিনি অভিযোগ করেন যে আমি নাকি বিয়ের আগেই গর্ভবতী ছিলাম, অথচ রিপোর্টে বাচ্চার বয়স স্পষ্টভাবে বিয়ের পরের হিসাব অনুযায়ী ছিল। তিনি তা দেখেও ভিত্তিহীন অপবাদ দেন।
আমার কাবিনের স্বর্ণ শাশুড়ী রেখে দিয়েছিলেন এবং ফেরত দেওয়ার ইচ্ছা ছিল না। আমার স্বামী তা চেয়ে এনে আমাকে দিলে তিনি অত্যন্ত কটু কথা বলেন—যেমন আমার “কলিজা ছিঁড়ে ফেলবেন” ইত্যাদি।
তিনি আমার সন্তানদেরও পছন্দ করেন না। এমনকি শাশুড়ীকে বলেছেন, আমার সন্তানরা তাদের ঘরে গেলে যেন কিছু না খাওয়ানো হয়—এ কথা আমার স্বামী নিজ কানে শুনেছেন। তিনি নিজের ভাইয়ের সন্তানদের সাথেও দুর্ব্যবহার করেন।
বর্তমানে পরিস্থিতি এমন যে তার সাথে স্বাভাবিক সদ্ব্যবহার করা কঠিন। আমি কথা বললে তিনি জবাব দেন না। ফোন করলে কথা বলেন না, ছেলেকে ধরিয়ে দেন। দাওয়াত দিলে আসবেন না—এটাও নিশ্চিত।
এমনকি পূর্বে আমাদের দাম্পত্যে অশান্তি সৃষ্টির জন্য তিনি জাদুটোনারও চেষ্টা করেছেন—এ সম্পর্কেও প্রমাণ পেয়েছি।
এ অবস্থায় আমার দুশ্চিন্তা হলো—
আমি কুরআন ও হাদিসে আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে জেনেছি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কেউ সম্পর্ক ছিন্ন করলেও আমাদের তা বজায় রাখা উচিত।
কিন্তু বাস্তবে—
আমার স্বামী তার সাথে ভদ্রভাবে কথা বলতে পারেন না, কারণ কথা বললেই তিনি উনাকে বিভিন্নভাবে ছোট করেন পাশাপাশি আমাকে নিয়ে অপমানজনক কথা বলেন এবং স্বামী রাগের নিয়ন্ত্রণ হারান।
এতে আমাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও অশান্তি সৃষ্টি হয়।
তিনি আমাদের বাসায় আসেন না, আমরা দাওয়াতও দেই না তার দুর্ব্যবহারের কারণে।
এ অবস্থায়—
১. আমরা যদি তার সাথে যোগাযোগ না রাখি, তাহলে কি আত্মীয়তা ছিন্ন করার গুনাহ হবে?
২. আমার স্বামী কি এ কারণে গুনাহগার হবেন?
৩. সীমিত দূরত্ব রেখে সম্পর্ক রক্ষা করার শরয়ি পদ্ধতি কী?
৪. সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও মানসিক প্রভাব বিবেচনায় আমাদের করণীয় কী?
আমি আল্লাহকে ভয় করি এবং সম্পর্ক নষ্টের গুনাহে জড়াতে চাই না। অনুগ্রহ করে কুরআন-সুন্নাহর আলোকে পরামর্শ দিলে উপকৃত হব।
<!--/data/user/0/com.samsung.android.app.notes/files/clipdata/clipdata_bodytext_260216_211946_495.sdocx-->

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/18346/ ফতোয়ায় উল্লেখ রয়েছেঃ 
আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করা নাজায়েজ,এক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ সাঃ অনেক কঠোরভাষা ব্যবহার করেছেন।

হাদীস শরীফে এসেছে  

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ، عَنْ أَبِيهِ، يَبْلُغُ بِهِ النَّبِيَّ صلي الله عليه وسلم قَالَ " لَا يَدْخُلُ الْجَنَّةَ قَاطِعُ رَحِمٍ " . - صحيح

জুবাইর ইবনু মুত্বঈম (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

.(বুখারী ৫৯৮৪, মুসলিম ১৯-(২৫৫৫), আবূ দাঊদ ১৬৯৬, তিরমিযী ১৯০৯, সহীহুল জামি‘ ৭৬৭১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৫৪০ সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৫, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০২৩৪, মুসনাদুল বাযযার ৩৪০৫, আহমাদ ১৬৭৩২, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৭৩৯২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৫৪, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৫২, ‘ত্ববারানী’র আল মু‘জামুল কাবীর ১৪৯১, আর মু‘জামুল আওসাত্ব ৯২৮৭।)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
আপনারা যদি তার সাথে যোগাযোগ না রাখেন,আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করেন,তাহলে আত্মীয়তা ছিন্ন করার গুনাহ হবে।

(০২) আত্মীয়তা সম্পর্ক ছিন্ন করলে আপনার স্বামীও এ কারণে গুনাহগার হবেন।

(০৩)
সীমিত দূরত্ব রেখে সম্পর্ক রক্ষা করার পদ্ধতি হলো,  দূরে কোন বাসা নিয়ে আলাদাভাবে থাকবেন। পাশাপাশি মাঝেমাঝে ফোন করে তাদের খোঁজখবর নিবেন এবং তাদের সুখে দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর যথাসাধ্য চেষ্টা করবেন।

(০৪)
সন্তানের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ও মানসিক প্রভাব বিবেচনায় আপনাদের করণীয় হলো আলাদা দূরে নিরাপদ কোনো স্থানে গিয়ে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...