ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
https://ifatwa.info/14185/ নং ফাতওয়ায় উল্লেখ রয়েছে যে,
«وَعَوَارِضُ
الصَّوْمِ الَّتِي قَدْ يُغْتَفَرْ ... لِلْمَرْءِ فِيهَا الْفِطْرُ تِسْعٌ
تُسْتَطَرْ
حَبَلٌ
وَإِرْضَاعٌ وَإِكْرَاهُ سَفَرْ ... مَرَضٌ جِهَادٌ جُوعُهُ عَطَشٌ كِبَرْ» -
«حاشية ابن عابدين = رد المحتار ط الحلبي» 2/ 421
নয়টি কারণে রোযা না রাখার অুনমোদন রয়েছে, গর্ভ, দুগ্ধপান, জোরজবরদস্তী, সফর, অসুস্থতা, জিহাদ, অনাহার, পিপাসা, বৃদ্ধ (রদ্দুল
মুহাতর-২/৪২১)
.
গর্ভবতী মা:
গর্ভাবস্থায় বাচ্চা সরাসরি মায়ের খাবার থেকে পুষ্টি পায় না, বরং আম্বিলিক্যাল
শিরা দিয়ে মায়ের রক্ত থেকে পুষ্টি পায়। তাই মা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে গর্ভস্থ সন্তান
পুষ্টিহীনতায় ভুগবে, এই ধারণা সত্য নয়।
প্রথম ও শেষের ৩ মাস সাধারণত মায়েরা দুর্গন্ধ, বমি, বারবার ক্ষুধা
লাগা ইত্যাদি নানারকম অসুস্থতায় ভুগে থাকেন, তাই মায়ের জন্য কষ্টকর হলে এ সময় সিয়াম না রাখাই উত্তম, পরে সুস্থ হয়ে
কাযা করে নেবেন। তবে দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে (৪ থেকে ৬ মাস) সাধারণত মায়েরা তুলনামূলক
সুস্থ থাকেন। তাই মায়ের জন্য কষ্টকর না হলে, এবং সব টেস্টের রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকলে এ সময় নির্দ্বিধায় সিয়াম
রাখতে পারেন। তবে কষ্টকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হলে রোযা না রাখা বা ভঙ্গ করারও অনুমোদন
রয়েছে।
তবে গর্ভবতী মায়ের অতিরিক্ত
রক্তশূন্যতা, পেটে জময বাচ্চা, আগেই পানি ভেঙে যাওয়া (PROM), পানি কমে যাওয়া (Oligohydramnios), এক্লাম্পশিয়া, প্রি-এক্লাম্পশিয়া, আগে থেকেই ডায়াবেটিস থাকা, গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস হওয়া (GDM), হাইপারটেনশন ইত্যাদি রোগ থাকলে তাকে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের
পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ঔষধ সেবন করতে হবে, সিয়াম রাখতে চাইলেও অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়েই রাখতে
হবে। গর্ভস্থ সন্তানের ক্ষতি করে সিয়াম রাখা যাবেনা।