আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
98 views
in পবিত্রতা (Purity) by (51 points)
এক বোনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন
১.আসসালামু আলাইকুম উস্তায।আমার হাসবেন্ড প্রবাসি।৬-৭ মাস পর পর ১-২ মাসের জন্য আসে।আমার শ্বশুর বাড়ির কেউ আমাকে মেনে নেয় নি মন থেকে।তারা এক প্রকার দেখতে পারে না আমাকে।আমি সেখানে অনেক মানসিক অশান্তি তে থাকি।অপমান,নিজের ইচ্ছে মতো কিছু খেতে না পারা,অসুস্থ হলে দেখার মতোও কেউ নেই।তারা কেউ আগ বাড়িয়ে কথা বলে না আমি কিছু জিজ্ঞেস না করলে।আমি যদি বিছানায় অসুস্থ হয়ে পরেও থাকি কেউ দেখার মতো নাই।এমনকি এখানে আমার কোনো মাহরাম নাই।তারা আমার ফ্যামিলির ফোন পর্যন্ত ধরে না।আমার পরিবার কে অপমান করে যখন আমার বাবা আমাকে শ্বশুর বাড়ি তে দিতে আসে আমি লজ্জায় আমার বাবাকে আমার শ্বশুর বাড়ি তে আনতে পারি না।এখন আমার জানার প্রশ্ন এরকম পরিবেশে কি আমার স্বামীর আমাকে এখানে রাখা উচিত হবে??শরীয়ত কি বলে??আমি শরীয়তের দৃষ্টি তে এর সমাধান চাই।বলে রাখা ভালো আমার হাসবেন্ড এর ইনকাম ভালো উনি চাইলে আমাকে সহজে আলাদা রাখতে পারে।আমার হাসবেন্ড এর সাথে তার পরিবারের কোনো সমস্যা নেই।তারা নিজেরা নিজেরা সবাই ভালো শুধু আমার সাথে তারা সম্পর্ক ভালো রাখে না।আমি এখানে আয়নাঘরের মতো আছি।আমাকে ঘরে একা তালা মেরে চলে যায় আমার শ্বাশুড়ি।কাজের জন্য আমি আর আমার হাসবেন্ড ঢাকায় ছিলাম।হুট করে উনি ফ্লাইট হয় চলে যায়।আমি ঢাকায় একা।আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে কেউ খোজ নেয় নি।কেউ আমার ফোন ধরে নি।পরে আমার বাবা আমাকে ঢাকা থেকে নিয়ে আসে।এতো কস্ট অপমানের পর আমি সিদ্ধান্ত নি আমার শ্বাশুড়ি আমাকে ফোন দিয়ে না নিলে আমি যাবো না।কিন্তু আমার যাওজ বলছে যেতেই হবে।ওইখানেই আমার থাকতে হবে।তা না হলে উনি সেকেন্ড ম্যারেজ করবে।বা আমাকে শরীয়ত এ আমি যা প্রাপ্য তাই দিবে কোনো ভালোবাসা দিবে না।আমি এসবের ভয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে আসি।কিন্তু এখানে সেই আগের পরিস্থিতি।আমার যাওজের একটাই কথা শ্বশুর বাড়ি যেমনই হোক থাকা লাগবে।এটাই আমার পরীক্ষা। তাই আমি শরীয়ত কি বলে তা জানতে চাই


২. অন্য আরেক বোনের পক্ষ থেকে প্রশ্ন
আমার পিরিয়ড হয়েছিল ১০ তারিখ। ৩ দিন থাকার পর ভালো হয়ে গেছে।এর মাযে কোনো রকম ব্লিডিং হয়নি।আজকে ৯ দিনের দিন আবার দুপুর থেকে একটু একটু ব্লিডিং হচ্ছে।  এরকম   প্রতি মাসেই হয়।
তাহলে কি নামাজ  পড়তে পারব বা  আগামিকাল রোজা থাকতে পারব? মাঝের ৩-৪ দিন নামাজ পড়া যাবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ عَمْرِو بْنِ الأَحْوَصِ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي أَنَّهُ، شَهِدَ حَجَّةَ الْوَدَاعِ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ وَذَكَّرَ وَوَعَظَ فَذَكَرَ فِي الْحَدِيثِ قِصَّةً فَقَالَ " أَلاَ وَاسْتَوْصُوا بِالنِّسَاءِ خَيْرًا… أَلاَ وَحَقُّهُنَّ عَلَيْكُمْ أَنْ تُحْسِنُوا إِلَيْهِنَّ فِي كِسْوَتِهِنَّ وَطَعَامِهِنَّ " .

সুলাইমান ইবনু আমর ইবনুল আহওয়াস (রহঃ) হতে তার পিতার সূত্র থেকে বর্ণিতঃ
বিদায় হজ্জের সময় তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাথে ছিলেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও গুণগান করলেন এবং ওয়াজ-নাসীহাত করলেন। এ হাদীসের মধ্যে বর্ণনাকারী একটি ঘটনা বর্ণনা করে বলেন, তিনি (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ স্ত্রীদের সাথে ভালো আচরণের উপদেশ নাও। ... জেনে রাখ! তোমাদের প্রতি তাদের অধিকার এই যে, তোমরা তাদের উত্তম পোশাক-পরিচ্ছদ ও ভরণপোষণের ব্যবস্থা করবে। (সুনানে তিরমিযী ১১৬৩)

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে রয়েছে-

تجب السكني لها عليه في بيت خال

মর্থার্থ: স্ত্রীর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা স্বামীর উপর আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াত, ১/৬০৪)

قَوْلُهُ خَالٍ عَنْ أَهْلِهِ إلَخْ) ؛ لِأَنَّهَا تَتَضَرَّرُ بِمُشَارَكَةِ غَيْرِهَا فِيهِ؛؛ لِأَنَّهَا لَا تَأْمَنُ عَلَى مَتَاعِهَا وَيَمْنَعُهَاذَلِكَ مِنْ الْمُعَاشَرَةِ مَعَ زَوْجِهَا وَمِنْ الِاسْتِمْتَاعِ إلَّا أَنْ تَخْتَارَ ذَلِكَ؛ لِأَنَّهَا رَضِيَتْ بِانْتِقَاصِ حَقِّهَا هِدَايَةٌ )

স্ত্রীকে এমন একটি বাসস্থান দান করা স্বামীর জন্য ওয়াজিব,যা স্বামীর পরিবার থেকে খালি থাকবে,কেননা সে অন্যর উপস্থিতির ধরুণ কষ্ট উপভোগ করবে,এবং তার মাল সামানা পুরোপুরি সংরক্ষিত থাকবে না।তৃতীয় কারো উপস্থিতি স্বামী-স্ত্রীর পারিবারিক জীবন ও একান্ত সময় অতিবাহিত করতে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে। এ জন্য একটি পৃথক বাসস্থান স্ত্রীর মৌলিক অধিকার।তবে যদি সে তার নিজ অধিকার বিসর্জন দিতে রাজি হয় যায় তাহলে তার জন্য অনুমিত রয়েছে (যদি এক্ষেত্রে গোনাহের কোনো সম্ভাবনা না থাকে)

এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/430

ইসলামের দিক-নিদের্শনা হচ্ছে বিবাহের পরে স্বামীর প্রথম কতর্ব্য হলো স্ত্রীর জন্য এমন একটি বাসস্থানের ব্যবস্থা করা যেখানে স্ত্রী মানুষের দৃষ্টি থেকে নিরাপদ থাকবে। কেননা পর্দা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরজ বিধান। আর এই বিধান পালন করার জন্য স্বামীর কতর্ব্য স্ত্রীকে সাহায্য করা। সেই সাথে অন্যান্য সকল কষ্ট থেকে স্ত্রীর আরামের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে স্ত্রীকে শ্বশুর ও শাশুড়ির সাথেই থাকতে হবে এমন বাধ্যও করা যাবে না। কেননা এমন কোন অধিকার স্বামীর নেই। তবে এই ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রী উভয়কে সামাজিক অবস্থার উপর বিবেচনা করেও কিছু কাজ করতে হবে।

যদি কোন স্বামী তার স্ত্রীকে স্বামীর পরিবারের সাথে অথবা অন্য আত্মীয়ের সাথে থাকার কথা বলে কিন্তু স্ত্রী কারো সাথে থাকার কথা রাজি না হয় তাহলে স্ত্রীকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা করা স্বামীর কতর্ব্য। কেননা স্ত্রীর সকল কিছু রক্ষা করা ও নিরাপদে বসবাস করার দায়িত্ব স্বামীর।

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
বিবাহ করা মাত্র আপনার ভরণপোষণ, অন্ন বস্ত্র নিরাপদ পর্দা সম্মত বাসস্থান সবকিছুর ব্যবস্থা করা আপনার স্বামীর উপর আবশ্যক হয়ে গিয়েছে।

সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার জন্য আলাদা বাসস্থানের ব্যবস্থা করা আপনার স্বামীর উপর আবশ্যক।

(০২)
এক্ষেত্রে ১০ দিনের মধ্যেই যদি ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে পুরো এই ১০ দিন হায়েজ ধরতে হবে।

আর যদি ১০ দিনের পরেও ব্লাড আসতেই থাকে, সেক্ষেত্রে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে এ মাসে আপনাকে হায়েজ ধরতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 86 views
...