আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
58 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)
২.৫ বছর বিবাহের সময় কাল, বিবাহের শুরু থেকেই স্বামী এবং তার পরিবার প্রচুর শারীরিক নির্যাতন, মানুষিক নির্যাতন করে আসছে। কয়েকবার পারিবারিক ভাবে সমঝোতা করার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কোনো ভাবেই পাত্র পক্ষের তরফ থেকে পজিটিভ সারা পাওয়া যায়নি। উপরন্তু স্বামী পরকীয়ায় লিপ্ত। বারংবার সুযোগ দেয়া সত্ত্বেও একই পাপে জড়াচ্ছে। ৯ মাস ধরে স্ত্রী কে বাবার বাসায় ফেলে রেখে কোনো দায়িত্বও নেয়না আবার কোনো সমঝোতায়ও আসেনা আবার অন্যায় ভাবে স্ত্রীকে মুক্তি না দিয়ে বিবাহ বন্ধনে আটকে রাখতে চায় এমতাবস্থায়, যদি স্ত্রীর কোনোভাবেই আর সংসার করা সম্ভব না হয়, কিন্তূ স্বামী তালাক দিতে বা খোলা তালাকের অনুমতি দিতে রাজি নয়, বিয়ে পড়ানোর সময়েও কোনো অনুমতি দেয়নি বা এসম্পর্কে জানতনা, এক্ষেত্রে স্ত্রী কিভাবে স্বামীর থেকে ইসলামিক শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ ভাবে তা?লাক নিবে?? স্ত্রী আদালতে গিয়ে ফাসোখ এর মাধ্যমে বিবাহবিচ্ছেদ করতে পারবে কিনা?? বাংলাদেশে যেহুতু শরীয়ত কোর্ট নেই সেক্ষেত্রে সরকারি আদালত বা পারিবারিক আদালতের মাধ্যমে স্ত্রী ফাসোখ নিতে পারবেকিনা?? ইসলামিক শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ হবে কি??
by (1 point)
 এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে স্বামী যদি স্ত্রীকে তালাক বা খোলা তালাকের অনুমতি কোনোভাবেই দিতে রাজি না হয় তাহলে স্ত্রীর মাধ্যমে সরাসরিই ডিভোর্স নোটিশ পাঠিয়ে দিলে আর কাজী বা মাওলানার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করলে (স্বামীর অনুপস্থতিতে) সেটা কি শরীয়ত অনুযায়ী তালাক নেওয়া বৈধ হবে??  নাকি কোর্টের মাধ্যমে ডিভোর্সের মামলা করে কোর্টের মাধ্যমে বিচারক দ্বারা বিবাহ বিচ্ছেদ ঘোষণা করতে হবে? কোনটা ইসলামিক শরীয়ত অনুযায়ী বৈধ?? কিভাবে তালাক নিলে ৩ মাস ইদ্দত পালনের পর স্ত্রী অন্য জায়গায় বিয়ে করতে পারবে?? 

1 Answer

0 votes
by (765,630 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া কোন মহিলা তার স্বামী থেকে তালাক চাওয়া হারাম ও কবীরা গুনাহ্।

সাওবান (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন:

أَيُّمَا امْرَأَةٍ سَأَلَتْ زَوْجَهَا طَلَاقًا فِيْ غَيْرِ مَا بَأْسٍ ؛ فَحَرَامٌ عَلَيْهَا رَائِحَةُ الْـجَنَّةِ.

‘‘যে কোন মহিলা কোন মারাত্মক সমস্যা ছাড়া নিজ স্বামীর নিকট তালাক চাইলো তার উপর জান্নাতের সুগন্ধি হারাম হয়ে যাবে’’। (আবূ দাউদ ২২২৬; তিরমিযী ১১৮৭; ইব্নু মাজাহ্ ২০৫৫)

ইসলামী স্কলারগন বলেছেন, যেসব কারণে স্ত্রীর জন্য স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ার অনুমতি আছে তা হলোঃ-

★যদি কোনো বাস্তবসম্মত কারণে উভয়ের পক্ষে একসঙ্গে বসবাস করাটা অসম্ভব হয়ে পড়ে তাহলে স্ত্রীর জন্য স্বামীর কাছ থেকে তালাক চাওয়ার অনুমতি আছে।

★যদি স্বামীর মাঝে দৈহিক এমন ত্রুটি থাকে, যার কারণে দাম্পত্যজীবনের স্বাভাবিকতা খুবই দুরূহ হয়ে যায়। যেমন—পাগল হওয়া, যৌন অক্ষম হওয়া, কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত হওয়া। 
বলা বাহুল্য, স্বামীর মাঝে উক্ত ত্রুটিগুলো থাকা অবস্থায় স্ত্রীকে ভালোভাবে রাখা সম্ভব নয়।

★স্বামী স্ত্রীর আবশ্যকীয় জরুরত তথা ভরণ-পোষণ দিতে অক্ষম হলে। কেননা, এটা স্ত্রীর মৌলিক অধিকার। 

★শরিয়ত নির্দেশিত কারণ ছাড়া স্বামী স্ত্রীকে কষ্ট দেওয়া বা জুলুম করা।

এটা শারীরিকভাবেও হতে এবং মানসিকভাবে হতে পারে। যেমন—স্ত্রীকে মারধর করা, গালাগাল করা, স্ত্রীকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে দেখা সাক্ষাতে বাধা প্রদান করা, বেপর্দা কিংবা হারাম কাজে স্ত্রীকে জোরপূর্বক বাধ্য করা। 

★স্বামীর মধ্যে দ্বিনদারির প্রতি অবহেলা চরম পর্যায়ের হলে। যেমন—নামাজ না পড়া, মদ পান করা, পরকীয়া কিংবা চারিত্রিক অন্যায়-অপকর্মে লিপ্ত হওয়া। 

বিস্তারিত জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে উক্ত স্ত্রী আদালতের মাধ্যমে খোলা তালাক নিতে পারবে।

এক্ষেত্রে স্ত্রী সরকারি আদালতের মাধ্যমে খোলা তালাক নিতে পারবে।  শরীয়ত অনুযায়ী তাহা বৈধ হবে। 

এ সংক্রান্ত জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...