আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
46 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (70 points)
উস্তায কষ্ট করে ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ নাম্বার দেওয়া প্রশ্ন গুলো ১ ২ ৩ ৪ ৫ ৬ নাম্বার দিয়ে দিলে  অনেক ভালো হবে ইন শা আল্লাহ

উস্তায, আমার প্রশ্ন হলো—অনেক সময় এমন হয় যে জামাতের নামাজ ছুটে যায়। তখন আমি ইদানীং এমন করি যে, মসজিদে গিয়ে একজন, দুইজন বা তিনজনের সঙ্গে আবার জামাত করেছি
নামাজি ভাইদের জন্য অপেক্ষা করাও এক ধরনের সময়ের ব্যাপার। আবার অনেক সময় তাড়াহুড়া থাকেন।

১)উস্তায যদিও আমার একদিনে একাধিক জামাত মিস হয়ে যায় অনেক সময়েই । তবে আমি চেষ্টা করবো যেন সহজে মিস না হয় ইন শা আল্লাহ ।
এখন আমার প্রশ্ন হল যদি প্রতি একদিন পর পর ১ টা জামাত ছুটে যায় তাহলে কি আমি জামাত না করে একাকী নামাজ আদায় করে ফেলতে পারবো? যেমন একদিন ৫ ওয়াক্ত জামাতের সাথে আদায় করার পর পরেরদিনের মাগরিব, ফজর অথবা আসর বা অন্য ওয়াক্তর সময় যদি জামাত মিস হয়?

২) আর যদি কখনো এমন হয় যে একদিন পাচ ওয়াক্ত জামাতের সাথে পড়ার  পর পরের দিনটায় একটা ওয়াক্তে ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা অলসতার  কারনে যদি জামাত ছুটে যায় তখনও জামাতের সাথে আদায় না করে সেই নামাজটা একাকী আদায় করতে পারবো?

উস্তায, আমার একটি প্রশ্ন ছিল। আমাদের ক্লাসে অনেক সময় এমন হয় যে শিক্ষক বা শিক্ষার্থীরা হাসির কথা বলেন। সে ক্ষেত্রে আমি হাসতে চাই না, কারণ আমার মনে কিছুটা সন্দেহ কাজ করে—ইমান চলে যাওয়ার ভয় নিয়ে। তবে সব ক্ষেত্রে এমন হয় না; কিছু বিশেষ সময়ে এমন অনুভূতি হয়। যেমন, কোনো মাসআলা-কেন্দ্রিক আলোচনা ক্লাসে হচ্ছে, এমন সময় কেউ কোনো মজা করল তারা যে খারাপ উদ্দেশ নিয়ে করে এমন নয় তবে এই সময় আমি এরিয়ে চলি হাসি। যদিও আমি এটা বলছি না যে সেই মজা করার কারণে ইমান চলে গেছে। তবে সতর্কতার জন্য যেসব বিষয়ের ব্যাপারে আমার মনে কিছুটা সন্দেহ থাকে, সেই সময়গুলোতে আমি হাসি না।
কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে হাসি চলে আসে।

৩}এখন আমার প্রশ্ন হলো:
হাসি এসে গেলে হঠাৎ করে হাসি থামানো তো কষ্টকর। আর হাসি এসে যাওয়ার পর হঠাৎ থামিয়ে না দিয়ে, ইচ্ছাকৃতভাবে সেই কথাটি মনে না এনে—বরং হাসি দূর করার জন্য, যেহেতু হাসি চলে এসেছে—মন খুলে একটু বেশি হাসলে কি ইমান ঠিক থাকবে?
আমাদের মাদ্রাসার একটা whatsapp গ্রুপ আছে যেইখানে মেসেজ অপশন বন্ধ রাখা হয়েছে মানে মেসেজ দেয়ার সুযোগ নেই। এখন সেখানে কিছু কিছু মেসেজে সালাম দেওয়া হয় কিন্তু মেসেজ অপশন তো বন্ধ।
৪] এখন যেই শিক্ষক সালাম দিয়েছেন আমার কি তাকে পারসনালি মেসেজ করে সালামের উত্তর দিতে হবে নাকি উত্তর না দিলেও হবে ?
৫) এই গ্রুপে এড থাকাটাকি আমার জন্য জায়েজ হবে?

উস্তায, আমার একটি প্রশ্ন আছে। কেউ যদি আমাকে টাকা বা হাদিয়া দেয়, আর সে ব্যক্তি যদি ব্যাংকে চাকরি করে বা তার আয়-উৎস নিয়ে আমার সন্দেহ থাকে, তাহলে আমি সেটি গ্রহণ না করার চেষ্টা করি।

আমার বাবার ব্যাংকের সুদের সঙ্গে কিছু সম্পর্ক ছিল। অর্থাৎ, তিনি অনেক বেশি না  হলেও সুদের টাকা ব্যবহার করেছেন। তিনি কয়েন বেচাকেনা করতেন এবং ছবি একেও  টাকা উপার্জন করতেন, । এখন আমাদের বাসায় অনেক আগে কেনা কিছু জিনিসপত্র আছে, যেগুলোতে আমার বাবার টাকার অংশ আছে বলে আমার সন্দেহ হয়।

৬) সেই জিনিসগুলো ব্যবহার করার সময় আমি নিয়ত করেছিলাম যে, এগুলোর সমপরিমাণ টাকা আমি দান করে দেব ইন শা আল্লাহ।

এখন কি আমি চাইলে ১০ টাকা করে বা ১০০ টাকা করে—অর্থাৎ অল্প অল্প করে—দান করতে পারব? নাকি সেই জিনিসের সমপরিমাণ টাকা একবারেই একসাথে  দান করতে হবে?

1 Answer

0 votes
by (764,700 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

(০১)
https://ifatwa.info/90086/ নং ফতোয়াতে উল্লেখ রয়েছেঃ- 
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺭﺟﻊ ﻣﻦ ﻧﺎﺣﻴﺔ ﻣﻦ ﻧﻮﺍﺣﻲ ﺍﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﻭﻣﺠﻤﻮﻋﺔ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ، ﻭﻭﺟﺪ ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺔ ﻗﺪ ﺍﻧﺘﻬﺖ ﻓﻘﻔﻠﻮﺍ ﺇﻟﻰ ﺑﻴﻮﺗﻬﻢ ﻭﺻﻠﻮﺍ ﻓﻲ ﺑﻴﻮﺗﻬﻢ ﻓﺮﺍﺩﻯ، ﻭﻣﺎ ﺻﻠﻮﺍ ﺟﻤﺎﻋﺔ ﺛﺎﻧﻴﺔ 

রাসূলুল্লাহ সাঃ একবার মদিনার দূর থেকে আসতেছিলের,সাথে সাহাবাবর্গ ও ছিলেন।মদিনায় এসে দেখলেন যে,জামাত সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে।তখন তারা যার যার ঘরে গিয়ে নামায আদায় করলেন।কিন্তু দ্বিতীয়বার জামাতে নামায পড়েননি।(মু'জামে তাবারানি)

’’عن الحسن قال: کان أصحاب رسول الله ﷺ  إذا دخلوا المسجد، وقد صلي فیه، صلوافرادی‘‘. (المصنف لابن أبي شیبة، کتاب الصلاة، باب من قال: یصلون فرادی، ولایجمعون. مؤسسة علوم القرآن جدید ۵/۵۵، رقم:۷۱۸۸)

ছাহাবায়ে কেরামগন যখন মসজিদে প্রবেশ করে দেখতো যে নামাজ হয়ে গেছে,তখন একাকিই নামাজ আদায় করে নিতেন। 
,
অন্য হাদিসে এসেছে 

عن أبي بکرۃ رضي اللّٰہ عنہ أن رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم أقبل من نواحي المدینۃ یرید الصلاۃ، فوجد الناس قد صلوا، فمال إلی منزلہ فجمع أہلہ فصلی بہم۔ (رواہ الطبراني في الأوسط ۳؍۲۸۴ رقم: ۴۶۰۱، مجمع الزوائد ۲؍۴۵ 
کذا في إعلاء السنن ۴؍۲۶۶ بیروت)

যার সারমর্ম হলো  রাসুল সাঃ একবার মসজিদে এসে দেখলেন যে জামাত হয়ে গেছে,তখন তিনি বাড়িতে চলে গেলেন,তারপর নিজের পরিবার নিয়ে ঘরেই জামাত করে নামাজ আদায় করলেন।

عن عبد الرحمن بن المجبر قال: دخلت مع سالم بن عبد اللّٰہ مسجد الجمعۃ، وقد فرغوا من الصلاۃ، فقالوا: ألا تجمع الصلاۃ؟ فقال سالم: لا تجمع صلاۃ واحدۃ في مسجد واحد مرتین۔ قال ابن وہب: وأخبرني رجال من أہل العلم عن ابن شہاب ویحییٰ بن سعید وربیعۃ واللیث مثلہ، کذا في المدونۃ الکبریٰ لمالک ورجالہ کلہم ثقات۔ (إعلاء السنن ۴؍۲۶۲ رقم: ۱۲۶۰ دار الکتب العلمیۃ بیروت)

যার সারমর্ম হলো সালেম রাঃ বলেন যে একই মসজিদে ২য় বার জামাত করা যায়না।  
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
মসজিদ চাই জামে মসজিদ হোক বা নন-জামে মসজিদ হোক,বিধান একই।

এক্ষেত্রে স্থানীয় মসজিদগুলোতে যদি তাতে নির্ধারিত ইমাম থাকে, তাহলে স্থানীয় লোকজনের জন্য নিয়মিত দ্বিতীয় তৃতীয় জামাত করে নামায পড়া মাকরূহ।
,
চলাচলের রাস্তায়, যানবাহনের স্টপিজ ইত্যাদি স্থানের মসজিদ হলে এসব মসজিদে দ্বিতীয় জামাত করাতে কোন সমস্যা নেই।যদিও তাতে নির্ধারিত ইমাম থাকে। 

★সুতরাং আপনার জন্য উত্তম হলো একতাবস্থায় মসজিদে একাকি নামাজ পড়া।
মসজিদ বা অন্যত্রে জামাত করা মাকরুহ। 

আদ্দুররুল মুখতার (২/২৮৯) গ্রন্থে আছেঃ

ويكره تكرار الجماعة..... فى المسجد أو  غيره

যার অর্থ হলো মসজিদ বা  অন্যত্রে ২য় জামাত মাকরুহ।  

বিস্তারিত জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নের বিবরন মতে এভাবে মসজিদে গিয়ে ২য় জামাত আদায় করা মাকরুহ হবে।

সুতরাং আপনি একাকি নামাজ আদায় করবেন।

(০২)
হ্যাঁ, একাকী আদায় করবেন।

(০৪)
তাকে পারসনালি মেসেজ করে সালামের উত্তর দিতে হবেনা।
আপনি মৌখিক ভাবে নিজে নিজেই উত্তর দিতে পারেন।

(০৬)
আপনার বাবার অধিকাংশ ইনকাম যেহেতু হালাল ছিল, সুতরাং প্রশ্নে উল্লেখিত জিনিসপত্র গুলোর মূল্য দান করা আপনার জন্য আবশ্যক নয়।

(৩,৫)
ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা  কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক। এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন।  যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। 

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে নিচের দেওয়া বাধ্যতামূলক সুস্থ হওয়ার কোর্সটি কমপ্লিট না হওয়া পর্যন্ত কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়া হবে না । 

এবং আমরা আশা করছি এবং আল্লাহর উপরে ভরসা রেখে বলছি যারা নিচের এই কোর্সটি করবেন ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবেন। 

আর কোর্সের ভিতরে একটা অংশে আমাদের মুফতি সাহেবদের সাথে সরাসরি জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে প্রশ্ন-উত্তরের ব্যবস্থা থাকবে। 

আল্লাহ আমাদের সমস্ত শারীরিক ও মানসিক রোগ থেকে হেফাজত করুন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...