আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
75 views
in পবিত্রতা (Purity) by (7 points)

  আমার প্রায় সারা বছরই কম বেশি সাদা স্রাব থাকে।কিন্তু সম্ভবত আমি মাজুর না।দেখা যায় যে আমি নামায পড়ার আগে ভাল করে লজ্জাস্থান মুছে শুকনা করে নিলাম এবং অজু করে নামাজ পরলাম।সালাম ফিরে সাথে সাথে হাত দিয়ে চেক করলে

  • মাঝে মাঝে পিচ্ছল তরল পাওয়া যায়
  •  আবার কখনো শুধু পানির মত তরল পাওয়া যায় কোন গন্ধ ও নাই
  • আবার কখনো শুধু জায়গাটা হাল্কা ভেজা ভাব মনে হয় কিছুটা আঠালো হতেও পারে আবার কখনো নাও পারে এমনি ভেজা ভাব থাকে।
  • মাঝে মাঝে একদমই শুকনা পাই।
  • আবার কখনো যোনিমুখ ও শুকনা পাই কিন্তু ল্যবিয়া মাইনরার গোঁড়াতে হাল্কা পানির কনার মত পাওয়া যায়।

    কিন্তু সমস্যা হল নামাজের মধ্যে এগুলা কখন বের হয় বেশিরভাগ সময়ই আমি কিছু টের পাই না।তাই আমাকে প্রতি নামাযে সালাম ফিরে বার বার চেক করতে হয়। পুরা বিধ্বস্ত অবস্থা।আমার প্রচুর ক্লান্ত লাগে।নামাজ কোন রকম ফরয শেষ করতে পারলে আমি যেন বাঁচি। আমার প্রশ্ন হল


প্রশ্নঃ১)  স্রাব বের হল কি হল না টের পাই না।তাই প্রতি নামাযে সালাম ফিরে বার বার চেক করি এটা কি ঠিক?নাকি শুধু স্পষ্ট বের হচ্ছে যখন অনুভব করব বা স্পষ্ট ভেজা অনুভব করব তখনই কেবল চেক করব এবং বাকি সময় চেক না করেই নামাজ চালিয়ে যাব? 

প্রশ্নঃ২) যখন চেক করলে এমনি পানির কণা দেখা যায় না হাতে কিন্তু লজ্জাস্থান আঙ্গুলে ভেজা ভাব অনুভূত হয় তখন কি অজু ভঙ্গ ধরবো নাকি স্বাভাবিক আদ্রতা ?

প্রশ্ন ৩) যখন যোনিমুখ ও শুকনা পাই কিন্তু ল্যবিয়া মাইনরার গোঁড়াতে হাল্কা পানির কনার মত পাই আঙ্গুলে তখন কি অজু ভঙ্গ ধরবো নাকি এটাকে স্বাভাবিক আদ্রতা ধরবো?

প্রশ্ন ৪) যখন পুরা লজ্জাস্থান শুকনা পাই কিন্তু যোনিমুখ পানির বিন্দুর মত পরিমান ভেজা পাই আঙ্গুল বা টিস্যুতে এটাকে  স্বাভাবিক আদ্রতা ধরবো নাকি অজু ভঙ্গ ধরবো(যেহেতু নামাজ শুরুর আগে পুরা মুছে শুকনা করে নিয়েছিলাম)

প্রশ্ন ৫) এই যে চেক করি , লজ্জাস্থানের কততুকু পর্যন্ত আসলে চেক করা উচিত?একদম মাইনরার গোঁড়ার দিকে সহ যোনিমুখ পর্যন্ত নাকি কততুকু?


 ৯ বছর বয়স থেকে নামায পরলেও সাদা স্রাবের কারনে অজু ভেঙ্গে যায় এটা জানতাম না ফলে সাদা স্রাব হলেও অজু আবার না করেই নামায পরে গেছি। কয়েক বছর আগে জেনেছি ।আমার বয়স এখন ২৮ এর কাছে, ফলে তখনকার অনেক অনেক(ফরজ,সুন্নাত,নফল, কদরের রাতের কত নফল নামায, বরাতের রাত বলে যে জানতাম কখনো ১০০ রাকাত নফল ও পরছি) নামায আমার আদায় হয়নি।
প্রশ্ন ৬) আমি কি করব এগুলো এখন? (
ফরজ,সুন্নাত,নফল, কদরের রাতের কত নফল নামায, বরাতের রাত বলে যে জানতাম কখনো ১০০ রাকাত নফল) সব আদায় করতে হবে? কোন নামাযে অজু  ভেঙ্গে ছিল আর কোন নামাযে ভাঙ্গে নি তাও তো জানি না।
উপরে আমি আমার এখনকার স্রাবের যে অবস্থা বর্ণনা করলাম তাতে ফরয সুন্নাত আদায় করতেই আমার খুব কষ্ট হয়,
প্রশ্ন ৭) তাহলে আগের কাজা নামায কিভাবে আদায় করব বলবেন প্লিজ?

খুব অসহায় লাগে। সাহায্য করেন





 

1 Answer

0 votes
by (762,960 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم

কোনো অসুস্থ ব্যক্তি শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো,

شرط ثبوت العذر ابتداء أن يستوعب استمراره وقت الصلاة كاملا وهو الأظهر كالانقطاع لا يثبت ما لم يستوعب الوقت كله-

শরয়ীভাবে মা'যুর প্রমাণিত হওয়ার জন্য কোনো নামাযের শুরু থেকে শেষ ওয়াক্ত পর্যন্ত উযর স্থায়ী থাকা শর্ত।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪০)

কোনো ব্যাক্তি মা'যুর প্রমানিত হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী ওয়াক্ত গুলোতে পুরো সময় উক্ত ওযর পাওয়া জরুরি নয়,বরং পরবর্তী প্রতি ওয়াক্তে এক বারও যদি উক্ত ওযর পাওয়া যায়,তাহলে সে মা'যুরই থাকবে।   
,
সুতরাং যদি কোনো একটি নামাযের শুরু থেকে নিয়ে শেষ পর্যন্ত তথা  সম্পূর্ণ ওয়াক্ত আপনার এমনভাবে অতিবাহিত হয় যে,উক্ত সমস্যা বন্ধ না হয়,বরং চলতেই থাকে,এই উযরের কারণে অল্প সময়ে ছোট সুরা দিয়ে হলেও ফরয নামায পড়া আপনার জন্য কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয়,তাহলে আপনি মা'যুর। 
আপনি প্রতি ওয়াক্তের জন্য অযু করবেন,এই অযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের মধ্যে যত ইচ্ছা নামাজ আদায় করতে পারবেন।
(যদি অন্য কোনো অযু ভঙ্গকারী কিছু না পাওয়া যায়।)
,
পরবর্তী ওয়াক্তে আবার অযু করবেন
,
আর যদি আপনার ওযরটি এমন না হয়,তাহলে আপনি শরয়ী ভাবে মা'যুর প্রমাণিত হবেন না।

বিস্তারিত জানুনঃ  
,
মা'যুরের বিধান ইস্তেহাজা গ্রস্থ নারীর ন্যায়।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ حَبِيبِ بْنِ أَبِي ثَابِتٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ جَاءَتْ فَاطِمَةُ بِنْتُ أَبِي حُبَيْشٍ إِلَى النَّبِيِّ صلي الله عليه وسلم فَذَكَرَ خَبَرَهَا وَقَالَ " ثُمَّ اغْتَسِلِي ثُمَّ تَوَضَّئِي لِكُلِّ صَلَاةٍ وَصَلِّي "

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, ফাতিমাহ বিনতু আবূ হুবাইশ রাযিয়াল্লাহু ‘আনহা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে তার ঘটনা বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ তারপর গোসল করবে এবং প্রত্যেক সলাতের জন্য অযু করে সলাত আদায় করবে।
(আবু দাউদ ২৯৮.ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ পবিত্রতা, অনুঃ ঋতুবতী নারীর হায়িযের ইদ্দত পূর্ণ হওয়ার পর রক্ত নির্গত হওয়া প্রসঙ্গে, হাঃ ৬২৪), আহমাদ (৬/৪২, ২৬২)

حَدَّثَنَا زِيَادُ بْنُ أَيُّوبَ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا أَبُو بِشْرٍ، عَنْ عِكْرِمَةَ، أَنَّ أُمَّ حَبِيبَةَ بِنْتَ جَحْشٍ، اسْتُحِيضَتْ فَأَمَرَهَا النَّبِيُّ صلي الله عليه وسلم أَنْ تَنْتَظِرَ أَيَّامَ أَقْرَائِهَا ثُمَّ تَغْتَسِلُ وَتُصَلِّي فَإِنْ رَأَتْ شَيْئًا مِنْ ذَلِكَ تَوَضَّأَتْ وَصَلَّتْ

‘ইকরিমাহ (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, উম্মু হাবীবাহ বিনতু জাহশের ইস্তিহাযা হলো। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে হায়িযের দিনসমূহে (সলাত ইত্যাদির জন্য) অপেক্ষা করার পর গোসল করে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিলেন। অতঃপর অযু করে এক ওয়াক্ত সলাত আদায়ের পর রক্ত দেখা গেলে পরের ওয়াক্তের জন্য পুনরায় অযু করে সলাত আদায় করতে বললেন।
(আবু দাউদ ৩০৫)

আরো জানুনঃ 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
শুধু স্পষ্ট বের হচ্ছে যখন অনুভব করবেন বা স্পষ্ট ভেজা অনুভব করবেন বা প্রবল ধারণা হনে,তখনই চেক করব এবং বাকি সময় চেক না করেই নামাজ চালিয়ে যাবেন।

(০২)
স্বাভাবিক আদ্রতা বলেই মনে হচ্ছে।

(০৩)
যেহেতু লজ্জাস্থানের বাহিরে বের হয়নি,তাই এটাকে স্বাভাবিক আদ্রতা ধরবেন।

(০৪)
লজ্জাস্থানের সীমানা হতে বাহিরে বের হলে  অজু ভেঙ্গে গিয়েছে বলে ধরবেন।

অন্যথায় আপনার অজু ভেঙ্গে যায়নি।

(০৫)
আপনি দেখবেন যে লজ্জাস্থানের সীমানা হতে বাহিরে স্রাব বের হয়েছে কিনা।

(৬-৭)
এভাবে অপবিত্র অবস্থায় কতগুলো ফরজ নামাজ আপনি আদায় করেছেন এবং কতগুলো বিতর নামাজ আদায় করেছেন, প্রবল ধারণার ভিত্তিতে সেটির একটি হিসাব কষে আপনি সে ফরজ ও বিতর নামাজগুলির কাজা আদায় করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...