আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
67 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ
উস্তাদ  মনে করেন, কেউ প্রায় দের বছর এর মতো নিয়মিত তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করেন ( ওজর ব্যতীত ছুটে যায় না) কিন্তু প্রথম প্রথম যেমন নামাজ আদায় করে শুকুন বা মনের মধ্যে শান্তি অনুভব হতো বা প্রায় নিয়মিত চোখের পানি ঝরত।

তবে সময়ের পরিক্রমায় মাঝেমধ্যেই তেমন আগের মতো চোখের পানি ঝরে না বা নামাজে খুশুখুজু থাকে না। এতে তার নিজের মধ্যে কিছু খারাপ লাগা কাজ করে+ শয়তানের বিভিন্ন কুমন্তনা দিয়ে থাকেন।

যেমন: তার মনে হয় যে, হয়তোবা আল্লাহ তাকে আগের মতো ভালোবাসেন না (  তার কিছু দোয়া কবুল হতে দেরি হচ্ছে এজন্য এমন ভাবনা আসে) আবার মনে হয় যে,তিনি হয়তো অনেক গোনাহ্ করে ফেলেছেন ( যদি গোনাহ ছাড়ার চেষ্টা করেন কিন্তু মাঝেমধ্যে তবুও হয়েই যায়), আবার মনে হয় যে, রেগুলার নামাজ আদায় করার জন্য হয়তো এটা আর আগের মতো নেই,একটা রুটিনের মতো হয়ে গেছে। এজন্য মাঝেমধ্যে মনে হয় যে আজ আর তাহাজ্জুদ নামায আদায় করবে না কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোন না কোন ভাবে নামায আদায় করে থাকেন ( মনে হয় এটা শয়তান বলছে এজন্য আবার পড়া হয়)

এখন প্রশ্ন হলো, এখন কি ঐ ব্যক্তি আগের মতো কান্না না আসা বা সালাতে  খুশুখুজু না পাওয়া সত্বেও রেগুলার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করবে?

আর একটা প্রশ্ন,ঐ ব্যক্তি(মেয়ে ) গ্রামে থাকেন এজন্য অজু করার জন্য ঘরের বাইরে যেতে হয় ( একাই)।আর বাড়িটির আশেপাশে তেমন কোন বাড়ি নেই এজন্য চোর ডাকাত এর উপদ্রব আছে ( কয়েক বার ডাকাতি+ চুরিও হয়েছে )

এজন্য যদি আবার রাতে চোর বা ডাকাত আসে এই ভয়ে রাতে প্রায় নিয়মিতই বেতের নামাজ আদায় করে নেন। যাতে এমন ঘটনা ঘটলেও বেতের নামাজ কাযা না হয়। ফলে প্রায় নিয়মিত বেতের নামাজ আদায় করে তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করে থাকেন।

প্রশ্ন হলো তার কি এমন করা ঠিক হচ্ছে নাকি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়েই বেতের নামাজ আদায় করবে?

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ- 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم

প্রতি রাতে তাহাজ্জুদের সময়ে আল্লাহ তাআলা দুনিয়ার নিকটতম প্রথম আসমানে এসে বান্দাদের ফরিয়াদ শোনেন।

 পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা তাঁর প্রিয় হাবিব (সা.)-কে উদ্দেশ করে বলেন: ‘এবং রাতের কিছু অংশ তাহাজ্জুদ কায়েম করবে, ইহা তোমার এক অতিরিক্ত কর্তব্য। আশা করা যায়, তোমার প্রতিপালক তোমাকে প্রতিষ্ঠিত করবেন প্রশংসিত স্থানে (মাকামে মাহমুদে)।’ (সুরা-১৭ বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৭৯)। 

‘হে বস্ত্রাবৃত! রাত্রিতে দণ্ডায়মান হোন কিছু অংশ বাদ দিয়ে; অর্ধরাত অথবা তদপেক্ষা কিছু কম অথবা তদপেক্ষা বেশি এবং কোরআন আবৃত্তি করুন সুবিন্যস্তভাবে ও স্পষ্টভাবে। আমি আপনার প্রতি অবতীর্ণ করেছি গুরুত্বপূর্ণ বাণী। নিশ্চয় ইবাদতের জন্য রাতে ওঠা প্রবৃত্তি দলনে সহায়ক এবং স্পষ্ট উচ্চারণের অনুকূল। নিশ্চয় দিবাভাগে রয়েছে আপনার দীর্ঘ কর্মব্যস্ততা। আপনি আপনার পালনকর্তার নাম স্মরণ করুন এবং একাগ্রচিত্তে তাতে মগ্ন হোন।’ (সুরা-৭৩ মুয্যাম্মিল, আয়াত: ১-৮)।

 ‘হে চাদরাবৃত! উঠুন, সতর্ক করুন, আপন পালনকর্তার মাহাত্ম্য ঘোষণা করুন, আপন পোশাক পবিত্র করুন এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন। অধিক প্রতিদানের আশায় অন্যকে কিছু দেবেন না এবং আপনার পালনকর্তার উদ্দেশে সবর করুন।’ (সুরা-৭৪ মুদ্দাচ্ছির, আয়াত: ১-৭)।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ   
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، وَعَنْ أَبِي عَبْدِ اللهِ الأَغَرِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " يَنْزِلُ رَبُّنَا تَبَارَكَ وَتَعَالَى كُلَّ لَيْلَةٍ إِلَى سَمَاءِ الدُّنْيَا حِينَ يَبْقَى ثُلُثُ اللَّيْلِ الآخِرُ، فَيَقُولُ : مَنْ يَدْعُونِي فَأَسْتَجِيبَ لَهُ، مَنْ يَسْأَلُنِي فَأُعْطِيَهُ، مَنْ يَسْتَغْفِرُنِي فَأَغْفِرَ لَهُ " .
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমাদের মহা মহীয়ান রবব প্রতি রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকতে দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে অবতরণ করে বলেন, আছে কেউ আমাকে ডাকবে, আমি তার ডাকে সাড়া দিবো? আছে কেউ আমার কাছে চাইবে, আমি তাকে দান করবো? আছে কি কেউ আমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে, আমি তাকে ক্ষমা করে দিবো।
,
(বুখারী (অধ্যায় : তাহাজ্জুদ, অনুঃ রাতের শেষ ভাগে ও সলাতে দু‘আ করা, হাঃ ১১৪৫), মুসলিম (অধ্যায় : মুসাফিরের সলাত, অনুঃ রাতের শেষাংশে দু‘আ যিকিরে উৎসাহ দান) 
,
এটি দোয়া কবুলের সর্বশ্রেষ্ঠ
সময়। প্রতি রাতে এ সময় আল্লাহ তাআলা প্রথম আসমানে নেমে আসেন এবং বান্দার ফরিয়াদ শোনেন।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(০১)
প্রশ্নে উল্লেখি ব্যক্তি আগের মতো কান্না না আসা বা সালাতে  খুশুখুজু না পাওয়া সত্বেও রেগুলার তাহাজ্জুদ নামাজ আদায় করবে।

এবং আল্লাহ তাআলার কাছে দোয়া চালিয়ে যাবে, যাতে সে আবার আগের মত সে খুশু খুজুর সহিত আগের মতো নামাজ আদায় করতে পারে।

(০২)
তিনি যদি এভাবে নিয়মিত বিতর নামাজ আগে আদায় করেন, এতে সমস্যা নেই।

তবে পরামর্শ থাকবে ঘরের আঙ্গিনার মধ্যেই ওযু করার সিস্টেম করে নেওয়া।

আগেই অযুর পানি নিয়ে এসে ঘরে রেখে দিয়ে তাহাজ্জুদের সময় ওযু করে তাহাজ্জুদ ও বিতর আদায় করবেন।

যাতে অযুর জন্য বাহিরে যেতে আর না হয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 107 views
...