আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
64 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (17 points)
২ রাকাত নামাজ পড়ে আমি নিয়মমতো ইস্তেখারার দোয়া পড়েছি এবং নিয়ত করেছিলাম এই জবটা ওই মানুষটার জন্য ভালো হয় কি না। (নিয়ত করার সময় বিয়ে নিয়ে আলাদা কোনো চিন্তা/নিয়ত করিনি, কিন্তু এই জবের আসল উদ্দেশ্য ছিল বিয়েই।)
আমার স্বপ্নটা অনেক বড় ছিল, তবে নির্দিষ্ট এই অংশটাই মনে আছে। দেখেছি, আমি আমার বাড়িতে (বর্তমানে আমি USA তে আছি)। সবাই বলছিল, “বৃহস্পতি গ্রহণ” বলে কিছু একটা হবে—সূর্য গ্রহণ বা চন্দ্র গ্রহণের মতো, কিন্তু বৃহস্পতি গ্রহণ। অর্থাৎ বৃহস্পতি গ্রহ এসে পুরো একদিন চাঁদ ও সূর্যকে ঢেকে রাখবে।
রাতে গ্রহণ শুরু হয়, আর চারপাশ ভীষণ অন্ধকার হয়ে যায়। আমাদের সবার একটু ভয় লাগছিল। কিন্তু সকালে যখন সূর্য ঢাকা পড়ে, তখন সবার মাঝে এক ধরনের প্রশান্তি কাজ করছিল। তীব্র রোদ ছিল না—মেঘলা আবহাওয়া, ঠান্ডা বাতাস। খুব ভালো লাগছিল। আমি কাউকে বলছিলাম, গরমের সময় এমন হলে ভালো হতো গরম কম লাগত। এখনো খুব ভালো লাগছে।
এতটুকুই ছিল স্বপ্ন। এর পরই আমার ঘুম ভেঙে যায়। তখন সময় ছিল প্রায় ৪:২০—আমার অ্যালার্ম বাজার একটু আগেই।

এর অর্থ কি?

২) অধিক হাসাহাসির কারনে কি বিপদ আসে? বা আসতে পারে? আর অধিক হাসির কারনে বিপদ এসেছে এরকম বিশ্বাস কি ঠিক?

৩) কোনো জীবিত অসুস্থ ব্যক্তির জন্য কি অন্য কেউ উমরাহ করা যাবে যেন আল্লাহ অসুস্থতা থেকে মুক্তি দেন?

1 Answer

0 votes
by (763,260 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
প্রশ্নে উল্লেখিত স্বপ্নের সাথে আপনার ইস্তেখারার কোন সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।

উক্ত স্বপ্নটি আপনার মনের কল্পনা প্রসূত বলে মনে হচ্ছে।

(০২)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ هِلاَلٍ الصَّوَّافُ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي طَارِقٍ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " مَنْ يَأْخُذُ عَنِّي هَؤُلاَءِ الْكَلِمَاتِ فَيَعْمَلُ بِهِنَّ أَوْ يُعَلِّمُ مَنْ يَعْمَلُ بِهِنَّ " . فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ فَقُلْتُ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ فَأَخَذَ بِيَدِي فَعَدَّ خَمْسًا وَقَالَ " اتَّقِ الْمَحَارِمَ تَكُنْ أَعْبَدَ النَّاسِ وَارْضَ بِمَا قَسَمَ اللَّهُ لَكَ تَكُنْ أَغْنَى النَّاسِ وَأَحْسِنْ إِلَى جَارِكَ تَكُنْ مُؤْمِنًا وَأَحِبَّ لِلنَّاسِ مَا تُحِبُّ لِنَفْسِكَ تَكُنْ مُسْلِمًا وَلاَ تُكْثِرِ الضَّحِكَ فَإِنَّ كَثْرَةَ الضَّحِكِ تُمِيتُ الْقَلْبَ "
আবূ হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ  এমন কে আছে যে আমার নিকট হতে এ কথাগুলো গ্রহণ করবে এবং সে মুতাবিক নিজেও আমল করবে অথবা এমন কাউকে শিক্ষা দিবে যে অনুরূপ আমল করবে? আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। আমি আছি। অতঃপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং গুনে গুনে এ পাঁচটি কথা বললেনঃ 

তুমি হারাম সমুহ হতে বিরত থাকলে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় আবিদ বলে গণ্য হবে; তোমার ভাগ্যে আল্লাহ তা'আলা যা নির্ধারিত করে রেখেছেন তাতে খুশি থাকলে লোকদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা স্বনির্ভর বলে গণ্য হবে; প্রতিবেশীর সাথে ভদ্র আচরণ করলে প্রকৃত মুমিন হতে পারবে; যা নিজের জন্য পছন্দ কর তা-ই অন্যের জন্যও পছন্দ করতে পারলে প্রকৃত মুসলমান হতে পারবে এবং অধিক হাসা থেকে বিরত থাক। কেননা অতিরিক্ত হাস্য-কৌতুক হৃদয়কে মৃতবৎ করে দেয়।
(তিরমিজি ২৩০৫)
,
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন,
অধিক হাসির কারনে বিপদ এসেছে এরকম বিশ্বাস ঠিক নয়।

তবে অধিক হাসি অন্তরকে মৃত বানিয়ে ফেলে।

(০৩)
হ্যাঁ, করা যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...