আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
102 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (4 points)
closed by
আসসালামু আলাইকুম।

আমি তিন মাস পর পিরিয়ড হইছি ২২ জানুয়ারিতে। তারপর ১০ দিন ভালোভাবে ব্লাড গিয়েছে। এরপর ফরজ গোসল করে নামাজ পড়া শুরু করেছি। এভাবে দুইদিন ভালো ছিলাম। তারপর থেকে এখন পর্যন্ত প্রতিদিন একটু না একটু করে ব্লাড যাচ্ছে। আমার এই পিরিয়ডের সমস্যা প্রথম থেকেই।

১) এই অবস্থায় কি আমার নামাজ রোজা হচ্ছে?

২) কবে থেকে আমি নামাজ রোজা বন্ধ রাখবো? মাঝে মাঝে আমি বুঝি না কখন আমার সত্যি সত্যি পিরিয়ড হয়। তাই কোন দিন থেকে আমি আমার পিরিয়ড এর ডেট ধরে নামাজ রোজা থেকে বিরত থাকবো?
closed

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
selected by
 
Best answer
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তুহর তথা দুই হায়েজের মাঝে পবিত্রতার সর্বনিম্ন সীমা পনেরো দিন।
এই পনেরো দিনের মধ্যে কোনো রক্ত আসলে সেটি হায়েজ নয়,বরং সেটি ইস্তেহাজা তথা অসুস্থতা।
এই সময়ে নামাজ রোযা আদায় করতে হবে।    
হজরত হান্নাদ [রহ] আম্মাজান আয়েশা [রা]-এর হাদিস বর্ণনা করেছেন যে, ফাতিমা বিনতে হুবাইশ নামক এক নারী একবার রাসুল [সা]-এর সমীপে এসে বললো, হে আল্লাহর রাসুল, আমি একজন ইস্তেহাযাগ্রস্ত মেয়ে। আমি তো পাক হই না। তাই আমি কি নামাজ পড়া ছেড়ে দেবো? রাসুল [সা] বললেন, না, কারণ এ রক্ত হায়েযের নয়; বরং এ হলো শিরা থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত। সুতরাং যখন তোমার হায়েযের নির্ধারিত দিনগুলি আসে তখন সে দিনগুলি নামাজ ছেড়ে দেবে। আর হায়েযের দিন চলে গেলে তোমার রক্ত ধুয়ে নেবে এবং নামাজ আদায় করবে। [তিরমিজি, হাদিস-১২৫]
,
আরো জানুনঃ   

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা হলো ৩ তিন,আর সর্বোচ্ছ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হাদীস শরীফে এসেছে   
أقل الحیض للجاریۃ البکر والثیب ثلاثۃ أیام ولیالیہا وأکثرہ عشرۃ أیام
دار قطني، السنن، 1: 219، رقم: 61
রাসুল সাঃ বলেন  মহিলাদের হায়েজের সর্বনিম্ন সীমা হলো ৩ দিন ৩ রাত,সর্বোচ্চ সীমা হলো ১০ দিন ১০ রাত।

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)

আরো জানুনঃ- 

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
(১-২)
প্রশ্নের বিবরন মতে ৩১ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত আপনার হায়েজ হয়েছে।

১ +২ ফেব্রুয়ারী ভালো ছিলেন।
এরপর ৩ ই ফেব্রুয়ারী থেকে প্রতিদিন আপনার অল্প হলেও ব্লিডিং হচ্ছে।

সুতরাং এই ব্লিডিং অব্যাহত থাকলে আপনি পবিত্রতার ১৫ দিন পর অর্থাৎ  ১৬ ই ফেব্রুয়ারী থেকে হায়েজ ধরবেন। 
হায়েজ ১০ দিন অতিক্রম করলে পূর্বের মাসের অভ্যাস অনুপাতে ২৫ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত হায়েজ ধরবেন। 

২৬ শে ফেব্রুয়ারী হতে ইস্তেহাজা ধরে নামাজ রোযা চালিয়ে যাবেন।

★এক্ষেত্রে ১৬ ই ফেব্রুয়ারী থেকে ২৫ শে ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত যেহেতু হায়েজ ধরতে হবে,সুতরাং এই দিন গুলির নামাজ রোজা হবেনা।

পরবর্তীতে এই দিন গুলির রোযাগুলোর কাজা আদায় করে নিতে হবে।

আর যদি ব্লিডিং ১০ দিন অতিক্রম না করে,সেক্ষেত্রে যে কয়দিন ব্লিডিং হবে,সে কয়দিন হায়েজ ধরবেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (4 points)
edited by
আজকে থেকে আমার সারাদিনই ব্লিডিং হয়েছে (হায়েজের মত), যেখানে আমার প্রতিদিনই খুব অল্প পরিমানে ব্লিডিং হচ্ছিল। কিন্তু এখন অতিরিক্ত ব্লিডিং দেখে মনে হচ্ছে আমার আজকে হায়েজ হয়েছে। যেহেতু গতমাসে ২২ তারিখে আমার হায়েজের ডেট ছিল, তাই আজকে আমার হায়েজ হওয়াটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাহলে কি আমি আজকে থেকে আমার হায়েজ ধরবো? নাকি আপনি যেটা উত্তরে লিখেছেন (১৬-২৫ ফেব্রুয়ারী হায়েজ ধরতে হবে) সেই অনুসারেই হায়েজ ধরবো??
by (770,460 points)
জবাবটি পুনরায় পড়ার পরামর্শ থাকবে। 

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

0 votes
1 answer 175 views
...