ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সোনা, রূপা,টাকা,এবং ব্যবসায়িক মালে যাকাত আসে, যদি তা নেসাব পরিমাণ হয়।
স্বর্ণের নেসাবঃ৭.৫ ভড়ি।
রূপার নেসাবঃ৫২.৫ ভড়ি।
এখানে একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, কারো কাছে শুধুমাত্র স্বর্ণ বা শুধুমাত্র রূপা থাকলে সেটার নেসাব পূর্ণ হলেই যাকাত আসবে, অন্যথায় যাকাত আসবে না। তবে হ্যাঁ, যদি কারো নিকট স্বর্ণ এবং রূপা অথবা টাকা এভাবে থাকে যে, কোনোটিরই নেসাব পূর্ণ হয়নি, তাহলে এক্ষেত্রে রূপার নেসাবকেই মানদন্ড ধরে নেয়া হবে।
একজন মানুষ দৈনিক যত টাকাই উপার্জন করুক না কেন বৎসর শেষে যদি যাকাতের নিসাব পরিমান সম্পদ তার নিকট না থাকে তাহলে তার উপর যাকাত ফরয হবে না।
عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُول اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا زَكَاةَ فِي مَالٍ حَتَّى يَحُولَ عَلَيْهِ الْحَوْلُ»
হযরত আয়েশা রা থেকে বর্ণিতঃনবী কারীম সাঃ বলেনঃ-সম্পত্তিতে কোনো যাকাত নেই যতক্ষণ না এক বৎসর পূর্ণ হবে।(সুনানে ইবনে মাজা-১৭৯২)
যাকাত ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হল, বৎসরের শুরু থেকে নিয়ে বৎসরের শেষ পর্যন্ত নেসাব পরিমাণ মালোর মালিক থাকা। এবং বৎসরের মধ্যখানে উক্ত মাল সম্পূর্ণভাবে নিঃশেষ না হয়ে যাবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন-
https://www.ifatwa.info/70964
বৎসর শেষে উনার নিকট যদি নেসাব পরিমাণ মাল না থাকে, তথা ৫২ ভড়ি রূপা সমপরিমাণ টাকা না থাকে, তাহলে উনার উপর যাকাত ফরয হবে না।
সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
যেই স্বর্ণ আপনার হাতে রয়েছে, তার সাথে রূপার উপস্থিতি যদি এক বৎসর বাবৎ আপনার হাতে থাকে, এবং এইসব মিলে রূপার নেসাব পূর্ণ হয়, তাহলে আপনার উপর যাকাত ফরয হবে। তবে যদি রূপার নেসাব পূর্ণ না হয়, তাহলে আপনার উপর যাকাত ফরয হবে না। অবশিষ্ট স্বর্ণ মিলিয়ে যখন নেসাব পরিমাণ হবে, তখন থাকে এক বৎসর অতিবাহিত হওয়ার পর আপনার উপর যাকাত ফরয হবে।