আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
87 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (24 points)
আসসালামু আলাইকুম
প্রশ্ন ১- হায়েজ অবস্থাতে কদরের রাত গুলোতে কোরআন না ধরে মুখস্ত সূরা ইখলাস পড়া যাবে? কোরআন খতম এর নেকির জন্য ও জান্নাতে প্রাসাদ এর জন্য ৩ বার ও ১০ বার?
প্রশ্ন ২- সেজদাহ দিয়ে মোনাজাতের মত হাত তুলে দোয়া করতে পারবো কি? সেজদাহ মোনাজাত তো নামাজের অংশ তাহলে সেজদাহ দিলে ও মোনাজাত নিলে এতে কি গোনাহ হবে?

প্রশ্ন ৩- কদরের রাত গুলোতে তো নামাজ পড়তে পারবো না। যদি সেজদাহ দিলে ও মোনাজাত নিলে গুনাহ হয়ে না থাকে তবে তখন কি কিছুক্ষণ পরপর সেজদাহ দিয়ে ও মোনাজাতের মত হাত তুলে দোয়া করতে পারবো? যেমন- একবার সেজদাহ দিয়ে দোয়া করে উঠে গিয়ে আবার কিছুক্ষণ পর আবার সেজদাহ দিয়ে দোয়া করলাম এমন করে কয়েক বার করতে পারবো?মোনাজাতের বিষয়টাও একই। বারবার হাত তুলে দোয়া করতে পারবো?

প্রশ্ন ৪- একটা বইয়ে পেয়েছি হায়েজ অবস্থাতে প্রথম ১০ দিনের মধ্যে ও ওজু করা যায় জায়নামাজে বসা যায় এটা কি জায়েজ? ১০ দিনের আগের কথা বলা হয়েছে।
প্রশ্ন ৫- রোজা রাখতে না পারলেও কি ইফতার এর আগ মুহূর্তে  হাত তুলে দোয়া করতে পারবো? আশা করা যায় দোয়া কবুল  হবে তখন?

প্রশ্ন ৬- হায়েজ অবস্থাতে শুকরিয়া সেজদাহ দিতে পারবো কদরের রাত গুলো তে? আর তখন নামাজ তো পড়তে পারবো না মুখে ইস্তেগফার করতে পারবো কিন্তু তখন তাওবা কিভাবে করবো আল্লাহর কাছে?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
হায়েযা মহিলা জুনুবী মহিলার মতই।যেহেতু উভয়ই গোসলের মাধ্যমে পবিত্র হন।হযরত আলী রাযি থেকে বর্ণিত রয়েছে,
عن علي بن أبي طالب رضي الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم  كان يعلمهم القرآن وكان لا يحجزه عن القرآن إلا الجنابة "
রাসূলুল্লাহ সাঃ লোকদিগকে কুরআন শিক্ষা দিতেন।জানাবত তথা সহবাস ও স্বপ্নদোষ পরবর্তী অপবিত্রতা ব্যতীত অন্যকোনো জিনিষ কুরআন শিক্ষা থেকে বাধা দিত না।(সুনানু আবি-দাউদ-১/২৮১,সুনানু তিরমিযি-১৪৬,সুনানু নাসাঈ-১/১৪৪,সুনানু ইবনি মা'জা-১/২০৭মসনদে আহমদ-১/৮৪,সহীহ ইবনে খুযাইমাহ-১/১০৪)

হযরত ইবনে উমর রাযি থেকে বর্ণিত
عن ابن عمر رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم  قال : " لا تقرأ الحائض ولا الجنب شيئاً من القرآن
রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,হায়েযা এবং জুনবী ব্যক্তি কুরআন থেকে কিছুই পড়তে পারবে না।(সুনানু তিরমিযি-১৩১)বিস্তারিত জানুন- https://www.ifatwa.info/389

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন!
(১) হায়েয অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা নিষেধ। হ্যা, আমলের সূরা গুলোকে আমলের নিয়তে পড়া যাবে।

(২)হায়েয অবস্থায় সেজদাহ দিয়ে মোনাজাতের মত হাত তুলে দোয়া করা যাবে। সেজদাহ মোনাজাত নামাজের অংশ হলেও কোনো সমস্যা হবে না।

(৩) জ্বী, প্রশ্নের বিবরণমতে এগুলো করতে পারবেন।
(৪) হায়েয অবস্থায় অজু করা নিষেধ নয়। এবং জায়নামাজে বসাও নিষেধ নয়।তবে জায়নামাজ রক্তস্রাব যাতে না লাগে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
(৫) হায়েয অবস্থায় দোয়া করা যাবে।
(৬) হায়েজ অবস্থায় শুকরিয়া সেজদাহ দেয়া যাবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...