আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ উস্তায।
১। উস্তায, কেউ যদি বিয়ের পূর্বে যিনা করে, অর্থাৎ হারাম রিলেশনশিপে জড়ায় দীর্ঘদিন। এরপর পরবর্তীতে সে যদি তওবা করে হারাম থেকে সরে আসে অনুতপ্ত হয়। আল্লাহর নিকট তওবা করে। তবুও কি সে এর শাস্তি পাবে?
এক ভিডিওতে শুনেছিলাম এক শায়েখ বলছিলেন যে, ❝বিয়ের পূর্বে যারা গাইরে মাহরামের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করবে, তোমাদের বিবাহিত জীবন ব্যর্থ হবে নিশ্চিতভাবে। সারাজীবন কান্না করবে! সুখী দাম্পত্য জীবন কেবল তারাই যাপন করতে পারে, বিয়ের পূর্বে যারা অবৈধ সম্পর্ক থেকে পবিত্র ছিল।❞
এখন প্রশ্ন হলো যদি কেউ বিয়ের পূর্বে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে, যিনা করে থাকে, এবং পরবর্তীতে সে যদি তওবা করে ফিরে আসে, তাহলেও কি তার পরবর্তীতে যার সাথে বিয়ে হবে, তার সাথে নিশ্চিত ভাবে বিবাহিত জীবন ব্যর্থ হবে? বা তাকে সারাজীবন কান্না করে যেতে হবে? সুখি দাম্পত্য জীবন কি সে পেতে পারবেনা? তওবা করলেও কি সে নিশ্চিত ভাবে শাস্তি পাবেই?
এই শাস্তি গুলো থেকে বাঁচার কি কোনো রাস্তা নেই যেটাতে করে সে উক্ত শাস্তি গুলো পাবেনা?
২। আরেকবার শুনেছিলাম, যে যিনা করবে সে দুনিয়াতেই শাস্তি পাবেই পাবে। আখিরাতে তো পাবেই।
প্রশ্ন হলো তওবা করলেও কি দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি পাবেই? শাস্তি না পাওয়ার কি কোনোই উপায় নেই যাতে করে দুনিয়ায়ও শাস্তি পাবেনা এবং আখিরাতেও পাবেনা?
আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তার বান্দা ক্ষমা চাইলেতো তিনি ক্ষমা করে দেন। এমনকি শুনেছি তওবা করলে আল্লাহ পূর্বের গুনাহকেও সওয়াবে রূপান্তরিত করে দেন। তাহলে এমনটা কেনো বলা হয় যে বিয়ের পরের জীবন সুখের হবেনা? তওবা করলেও কি এই শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবেনা? দুনিয়াতে এর শাস্তি পেতেই হবে তওবা করলেও?
৩৷ এমন কি কোনো উপায় আছে যেটায় আল্লাহ বান্দাকে এমন ভাবে ক্ষমা করবেন যেটায় শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত কোনোটাতেই পাবেনা এবং এমন ভাবে ক্ষমা করা হবে যেনো বান্দা সেই ভুলটি করেই নাই।
৪। কি করলে বিয়ের পূর্বে যিনাকারী ব্যক্তির, বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে এর শাস্তি পাবেনা? এবং সফল দাম্পত্য জীবন কি তাদের দ্বারা সম্ভব না?
৫। এমন কোনো উপায় আছে যেটায় জীবনের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন এমন ভাবে যেমন একটি সদ্যজাত নিস্পাপ শিশু। যার কোনো গুনাহ নেই।
এতো বড় লেখার জন্য ক্ষমা চাই উস্তায। জাযাকাল্লহু খইরন।