আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
134 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (9 points)
recategorized by
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ উস্তায।

১। উস্তায, কেউ যদি বিয়ের পূর্বে যিনা করে, অর্থাৎ হারাম রিলেশনশিপে জড়ায় দীর্ঘদিন। এরপর পরবর্তীতে সে যদি তওবা করে হারাম থেকে সরে আসে অনুতপ্ত হয়। আল্লাহর নিকট তওবা করে। তবুও কি সে এর শাস্তি পাবে?

এক ভিডিওতে শুনেছিলাম এক শায়েখ বলছিলেন যে, ❝বিয়ের পূর্বে যারা গাইরে মাহরামের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করবে, তোমাদের বিবাহিত জীবন ব্যর্থ হবে নিশ্চিতভাবে। সারাজীবন কান্না করবে! সুখী দাম্পত্য জীবন কেবল তারাই যাপন করতে পারে, বিয়ের পূর্বে যারা অবৈধ সম্পর্ক থেকে পবিত্র ছিল।❞

এখন প্রশ্ন হলো যদি কেউ বিয়ের পূর্বে হারাম সম্পর্কে জড়িয়ে থাকে, যিনা করে থাকে, এবং পরবর্তীতে সে যদি তওবা করে ফিরে আসে, তাহলেও কি তার পরবর্তীতে যার সাথে বিয়ে হবে, তার সাথে নিশ্চিত ভাবে বিবাহিত জীবন ব্যর্থ হবে? বা তাকে সারাজীবন কান্না করে যেতে হবে? সুখি দাম্পত্য জীবন কি সে পেতে পারবেনা? তওবা করলেও কি সে নিশ্চিত ভাবে শাস্তি পাবেই?
এই শাস্তি গুলো থেকে বাঁচার কি কোনো রাস্তা নেই যেটাতে করে সে উক্ত শাস্তি গুলো পাবেনা?

২। আরেকবার শুনেছিলাম, যে যিনা করবে সে দুনিয়াতেই শাস্তি পাবেই পাবে। আখিরাতে তো পাবেই।
প্রশ্ন হলো তওবা করলেও কি দুনিয়া ও আখিরাতে শাস্তি পাবেই? শাস্তি না পাওয়ার কি কোনোই উপায় নেই যাতে করে দুনিয়ায়ও শাস্তি পাবেনা এবং আখিরাতেও পাবেনা?

আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। তার বান্দা ক্ষমা চাইলেতো তিনি ক্ষমা করে দেন। এমনকি শুনেছি তওবা করলে আল্লাহ পূর্বের গুনাহকেও সওয়াবে রূপান্তরিত করে দেন। তাহলে এমনটা কেনো বলা হয় যে বিয়ের পরের জীবন সুখের হবেনা? তওবা করলেও কি এই শাস্তি থেকে মুক্তি পাওয়া যাবেনা? দুনিয়াতে এর শাস্তি পেতেই হবে তওবা করলেও?

৩৷ এমন কি কোনো উপায় আছে যেটায় আল্লাহ বান্দাকে এমন ভাবে ক্ষমা করবেন যেটায় শাস্তি দুনিয়া ও আখিরাত কোনোটাতেই পাবেনা এবং এমন ভাবে ক্ষমা করা হবে যেনো বান্দা সেই ভুলটি করেই নাই।

৪। কি করলে বিয়ের পূর্বে যিনাকারী ব্যক্তির, বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে এর শাস্তি পাবেনা? এবং সফল দাম্পত্য জীবন কি তাদের দ্বারা সম্ভব না?

৫। এমন কোনো উপায় আছে যেটায় জীবনের সমস্ত গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন এমন ভাবে যেমন একটি সদ্যজাত নিস্পাপ শিশু। যার কোনো গুনাহ নেই।

এতো বড় লেখার জন্য ক্ষমা চাই উস্তায। জাযাকাল্লহু খইরন।

1 Answer

0 votes
by (807,120 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
তাওবাহর দ্বারা আল্লাহ পাক সকল প্রকার গোনাহকে ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
قُلْ يَا عِبَادِيَ الَّذِينَ أَسْرَفُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوا مِن رَّحْمَةِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يَغْفِرُ الذُّنُوبَ جَمِيعًا ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
বলুন, হে আমার বান্দাগণ যারা নিজেদের উপর যুলুম করেছ তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত গোনাহ মাফ করেন। তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।(সূরা যুমার-৫৩) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/1048

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১) যিনা ব্যভিচারের গোনাহ তাওবাহ দ্বারা অবশ্যই মাফ হবে। যদি তাওবাহর মত তাওবাহ করা হয়, তাহলে অবশ্যই যিনার গোনাহকে মাফ করে দেয়া হবে।

(২) যে যিনা করবে সে দুনিয়াতেই শাস্তি পাবেই পাবে। আখিরাতে তো পাবেই।তবে দুনিয়ার শাস্তি পাওয়ার পর তাওবাহ করে নিলে,বা শাস্তিভোগর প্রথমে তাওবাহ করে নিলে সে আখেরাতে আর শাস্তি পাবে না।

(৩) গোনাহ করার পর তাওবাহ করে নিলে আখেরাতের শাস্তি মাফ হয়ে যাবে। তবে দুনিয়ার শাস্তি থেকে রেহাই পাবে না। তাওবাহ দ্বারা দুনিয়ার শাস্তি মাফ হবে না।

(৪) যিনাকারী ব্যক্তি তাওবাহ করে নিলে বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনের অশান্তি থেকে রেহাই পাবে। তবে হদ থেকে রেহাই পাবে না।

(৫) গোনাহ করার পর তাওবাহ করে নিলে সদ্যজাত নিস্পাপ শিশুর মত হয়ে যাবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
উস্তায দুনিয়ার শাস্তি থেকে রেহাই পাবেনা মানে বুঝিনাই। অর্থ্যাৎ বিয়ের পর দাম্পত্য জীবনে সমস্যা বা অশান্তি হবে এমন কিছু?
by (807,120 points)
দুনিয়ার শাস্তি বলতে শরয়ী কোর্টের শাস্তি।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...