আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
62 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (8 points)
Assalamualikum,
আমার বোন ও তার স্বামী প্র্যাকটিসিং মুসলিম। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর তাদের একটি করে সন্তান হয়েছে। পঞ্চম সন্তানটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জন্মের ২০ দিনের মাথায় মারা যায়। তার নেফাস শেষ হয়েছে ১০ দিন আগে। এর মধ্যেই তার মনে হচ্ছে সে আবার গর্ভবতী হয়েছে, কারণ আগের অভিজ্ঞতা থেকে সে এমনটা অনুভব করছে।

এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য:

১. তার কোমরের হাড়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে গর্ভবতী থাকার কারণে সে কোনো চিকিৎসা নিতে পারেনি। গর্ভাবস্থায় অনেক ওষুধ খাওয়া নিষেধ এবং ব্যায়াম করাও সম্ভব হয়নি। পঞ্চম সন্তান গর্ভে থাকার সময় তার ওজন অনেক বেড়ে যায়। ডাক্তার তাকে ওষুধ দিতে পারেননি এবং বলেছেন বেশি চাপ পড়লে তার কোমরের হাড় ভেঙে যেতে পারে, অথচ গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নেওয়া সম্ভব নয়।

পাশাপাশি তার হাঁপানি (অ্যাজমা) আছে, কিন্তু গর্ভাবস্থার কারণে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারেনি।

২. শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার অনেক সমস্যা হয়েছে। ফলে সে ও তার স্বামী বাধ্য হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে এসেছে। অন্যদিকে, আমাদের পরিবারের অধিকাংশ বড়রা সেক্যুলার মানসিকতার হওয়ায় আমাদের ইসলাম পালন তাদের পছন্দ নয়। এক কথায় বলতে গেলে, তার না শ্বশুরবাড়ি আছে, না বাবার বাড়ির সমর্থন আছে।

৩. গর্ভধারণের কারণে তার শারীরিক কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। তার প্রতিটি সন্তানই কোলিক বেবি (অকারণে দীর্ঘ সময় কান্না করে, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকে)। তার কোনো সাহায্যকারী নেই। সন্তানদের দেখাশোনা এবং ঘরের সমস্ত কাজ একাই করতে হয়। অসুস্থ শরীর ও গর্ভাবস্থার মধ্যেও তাকে সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে সে সন্তানদের সঙ্গেও সবসময় ভালো আচরণ করতে পারে না। শারীরিক কষ্টের কারণে তার মেজাজও ভালো থাকে না, যার প্রভাব সন্তানদের তারবিয়াতের ওপর পড়ে। সন্তানরা খুব ছোট ও একেবারে পিঠাপিঠি হওয়ায় তারা সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল।

৪. গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার সর্বশেষ সন্তানটি মারা গেছে। এতে সে মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন অস্বাভাবিক আচরণও করেছে। এখন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ। এখন যদি আবার গর্ভবতী হয়, তাহলে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং বাকি চার সন্তানের দেখাশোনা করারও কেউ থাকবে না।

৫.  তার ওপর জাদুর প্রভাব আছে। সে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভোগে, ওষুধ খেলে ভালো হয়, কিন্তু ডাক্তারদের পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়ে না। সে নিয়মিত রুকইয়া না করলে তার সন্তানরা অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ভালো থাকে না। সম্প্রতি সে একজন রাকীর কাছে গেলে তিনি বলেন তার ওপর তালাকের জাদু করা হয়েছে।

সবকিছু বিবেচনা করে সে জানতে চায় —

বর্তমান অবস্থায় সে কি সন্তান জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে? এটি কি তার জন্য শরীয়াহ অনুযায়ী জায়েজ হবে?

উল্লেখ্য, এই বিষয়ে তার স্বামীকে জানিয়ে ও তার সম্মতি নিয়েই সে এখানে প্রশ্ন করেছে। এ বিষয়ে তার স্বামীর কোনো দ্বিমত নেই।

1 Answer

0 votes
by (805,980 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১)
দ্বিতীয় প্রকার তথা 'অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ' শরীয়ত সম্মত প্রয়োজন ব্যতীত মাকরুহে তানযিহি।তবে শরীয়ত সম্মত নিম্নোক্ত প্রয়োজনে বৈধ রয়েছে।
(ক)মহিলা এত দুর্বল যে, গর্ভধারণের বর্তমানে যোগ্যতা নেই।
(খ)মহিলা নিজ বাসস্থান থেকে এত দূর সফরে যেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের আপতত কোনো মনোবাসনা নেই।আবার নিজ বাসস্থানে আসতেও কয়েক মাস লেগে যাবে বা কয়েক মাসের প্রয়োজন।
(গ)স্বামী-স্ত্রীর পারস্পারিক সম্পর্ক চূড়ান্ত নিম্ন পর্যায়ের,এমনকি উভয়ের অন্তরে বিচ্ছেদের চিন্তাভাবনা চলছে। 
(ঘ)পূর্বের বাচ্চার সু-সাস্থ্যর ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে।
(ঙ)স্থান-কালের ফাসাদ অর্থাৎ দ্বীনী পরিবেশের চূড়ান্ত পর্যায়ের অবনতির ধরুন বাচ্চা বদ-আখলাক বা অসচ্চরিত্র এবং মাতাপিতার বে-ইজ্জতির কারণ হবে বলে আশঙ্কা করলে।

বিঃদ্রঃ
সম্পদ কমে যাবে বা মেয়ে সন্তান জন্ম নিলে সমাজে লজ্জিত হতে হবে মনেকরে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ কখনো বৈধ হবে না। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/446

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রশ্নের বিবরণমতে অবশ্যই আপনার বোন অস্থায়ী জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...