Assalamualikum,
আমার বোন ও তার স্বামী প্র্যাকটিসিং মুসলিম। ২০২১ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর তাদের একটি করে সন্তান হয়েছে। পঞ্চম সন্তানটি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে জন্মের ২০ দিনের মাথায় মারা যায়। তার নেফাস শেষ হয়েছে ১০ দিন আগে। এর মধ্যেই তার মনে হচ্ছে সে আবার গর্ভবতী হয়েছে, কারণ আগের অভিজ্ঞতা থেকে সে এমনটা অনুভব করছে।
এখানে কয়েকটি বিষয় উল্লেখযোগ্য:
১. তার কোমরের হাড়ে গুরুতর সমস্যা রয়েছে। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে গর্ভবতী থাকার কারণে সে কোনো চিকিৎসা নিতে পারেনি। গর্ভাবস্থায় অনেক ওষুধ খাওয়া নিষেধ এবং ব্যায়াম করাও সম্ভব হয়নি। পঞ্চম সন্তান গর্ভে থাকার সময় তার ওজন অনেক বেড়ে যায়। ডাক্তার তাকে ওষুধ দিতে পারেননি এবং বলেছেন বেশি চাপ পড়লে তার কোমরের হাড় ভেঙে যেতে পারে, অথচ গর্ভাবস্থায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও নেওয়া সম্ভব নয়।
পাশাপাশি তার হাঁপানি (অ্যাজমা) আছে, কিন্তু গর্ভাবস্থার কারণে সঠিকভাবে চিকিৎসা নিতে পারেনি।
২. শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে তার অনেক সমস্যা হয়েছে। ফলে সে ও তার স্বামী বাধ্য হয়ে সেখান থেকে বের হয়ে এসেছে। অন্যদিকে, আমাদের পরিবারের অধিকাংশ বড়রা সেক্যুলার মানসিকতার হওয়ায় আমাদের ইসলাম পালন তাদের পছন্দ নয়। এক কথায় বলতে গেলে, তার না শ্বশুরবাড়ি আছে, না বাবার বাড়ির সমর্থন আছে।
৩. গর্ভধারণের কারণে তার শারীরিক কষ্ট অনেক বেড়ে যায়। তার প্রতিটি সন্তানই কোলিক বেবি (অকারণে দীর্ঘ সময় কান্না করে, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকে)। তার কোনো সাহায্যকারী নেই। সন্তানদের দেখাশোনা এবং ঘরের সমস্ত কাজ একাই করতে হয়। অসুস্থ শরীর ও গর্ভাবস্থার মধ্যেও তাকে সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। ফলে সে সন্তানদের সঙ্গেও সবসময় ভালো আচরণ করতে পারে না। শারীরিক কষ্টের কারণে তার মেজাজও ভালো থাকে না, যার প্রভাব সন্তানদের তারবিয়াতের ওপর পড়ে। সন্তানরা খুব ছোট ও একেবারে পিঠাপিঠি হওয়ায় তারা সম্পূর্ণভাবে তার ওপর নির্ভরশীল।
৪. গত ফেব্রুয়ারি মাসে তার সর্বশেষ সন্তানটি মারা গেছে। এতে সে মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছে। কিছুদিন অস্বাভাবিক আচরণও করেছে। এখন কিছুটা স্বাভাবিক হলেও শারীরিকভাবে খুব অসুস্থ। এখন যদি আবার গর্ভবতী হয়, তাহলে সে আরও অসুস্থ হয়ে পড়বে এবং বাকি চার সন্তানের দেখাশোনা করারও কেউ থাকবে না।
৫. তার ওপর জাদুর প্রভাব আছে। সে বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতায় ভোগে, ওষুধ খেলে ভালো হয়, কিন্তু ডাক্তারদের পরীক্ষায় কিছু ধরা পড়ে না। সে নিয়মিত রুকইয়া না করলে তার সন্তানরা অস্বাভাবিক আচরণ করে এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও ভালো থাকে না। সম্প্রতি সে একজন রাকীর কাছে গেলে তিনি বলেন তার ওপর তালাকের জাদু করা হয়েছে।
সবকিছু বিবেচনা করে সে জানতে চায় —
বর্তমান অবস্থায় সে কি সন্তান জন্ম নিয়ন্ত্রণের কোনো পদ্ধতি গ্রহণ করতে পারবে? এটি কি তার জন্য শরীয়াহ অনুযায়ী জায়েজ হবে?
উল্লেখ্য, এই বিষয়ে তার স্বামীকে জানিয়ে ও তার সম্মতি নিয়েই সে এখানে প্রশ্ন করেছে। এ বিষয়ে তার স্বামীর কোনো দ্বিমত নেই।