আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
74 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (3 points)
আসসালামু আলাইকুম,
আমি ২৯ বছর বয়সী একজন অবিবাহিত নারী। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমার বিয়ের বিষয়টি পাকাপাকি হওয়ার পরেই সেই বছরের সেপ্টেম্বরে আমি বাসার অপর একটি কোরআন শরিফের মধ্যে আমার এবং ঔ লোকটির (যার সাথে বিয়ের কথা চলছিল) এর নাম সম্বলিত সিহরের কিছু জিনিসপত্র পাওয়া যায়। তার কয়েকমাস পরে পর্দার মধ্যে থেকে আরো একটি তাবিজ পাওয়া যায় যার ভেতরে সিঁদুর ছিলো। এছাড়াও বছরের পর বছর ধরে আমার মাকে মানা করে, বোঝানো সত্ত্বেও তিনি এগুলো এখনো চালু রেখেছেন। তিনি প্রায় সময় আমাদের জোর করে পানি পড়া খাওয়ান। বাসায় বিভিন্ন কোণায় এখনো ছোট ছোট পানির বোতল রেখেছেন। আমার জন্য আয়না, চিরুনি পড়াও এনেছেন যা আমি ব্যবহার করতে চাইনি যদিও আমাকে বাধ্য করা হয়েছে। এসব কিছুর পরেও আমাদের পারস্পরিক সম্পর্ক ভালোই চলছিল। কিন্তু, গত ১ম রমজানে তাহাজ্জুদ নামাজের জন্য ওঠার আগে আমি একটি স্বপ্ন দেখি যেখানে আমার ছোট খালা আমার গলা টিপে ধরেছে এবং আমার মা পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে হাসছিলেন।
বি:দ্র: আমার মা সহিহভাবে সুরা এবং নামাজ পড়তে পারেন না এবং তাকে শেখাতে গেলে তিনি আগ্রাসী হয়ে উঠেন। তিনি নামাজ পড়েন না। আমাদের পরিবারে কেউই নিয়মিত নামাজ পড়েন না। এমনকি এই রামাদানেও কেউ নামাজ পড়েন না। আমার ছোট খালার স্বামী কুফরি জাদু করেন এমন কথা প্রচলিত আছে এবং গত কোরবানির ইদ এ তিনি বলেছেন তিনি আমাকে আরো ৮ বছর এরকম অবিবাহিত রাখবেন। আমার মায়ের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক কেননা আমার বিয়ে হয়ে গেলে সংসার চালাবে কে? যদিও আমার ২৪ বছর ও ১৮ বছর বয়সী ভাইদের ওপর তিনি এই চাপ দিতে চান না। আমি পিতা মাতার হক আদায়ে সচেতন। আর ওনারা ওনাদের দায়িত্বের ব্যাপারে গাফিল।


এখন আমার করণীয় কি?

1 Answer

0 votes
by (814,710 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
আল্লাহ তা'আলা বলেন,
وَإِن جَاهَدَاكَ عَلَىٰ أَن تُشْرِكَ بِي مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ فَلَا تُطِعْهُمَا ۖ وَصَاحِبْهُمَا فِي الدُّنْيَا مَعْرُوفًا ۖ وَاتَّبِعْ سَبِيلَ مَنْ أَنَابَ إِلَيَّ ۚ ثُمَّ إِلَيَّ مَرْجِعُكُمْ فَأُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
পিতা-মাতা যদি তোমাকে আমার সাথে এমন বিষয়কে শরীক স্থির করতে পীড়াপীড়ি করে, যার জ্ঞান তোমার নেই; তবে তুমি তাদের কথা মানবে না এবং দুনিয়াতে তাদের সাথে সদ্ভাবে সহঅবস্থান করবে। যে আমার অভিমুখী হয়, তার পথ অনুসরণ করবে। অতঃপর তোমাদের প্রত্যাবর্তন আমারই দিকে এবং তোমরা যা করতে, আমি সে বিষয়ে তোমাদেরকে জ্ঞাত করবো।(সূরা লুকমান-১৪/১৫)

وَقَضَىٰ رَبُّكَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ وَبِالْوَالِدَيْنِ إِحْسَانًا ۚ إِمَّا يَبْلُغَنَّ عِندَكَ الْكِبَرَ أَحَدُهُمَا أَوْ كِلَاهُمَا فَلَا تَقُل لَّهُمَا أُفٍّ وَلَا تَنْهَرْهُمَا وَقُل لَّهُمَا قَوْلًا كَرِيمًا
তোমার পালনকর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারও এবাদত করো না এবং পিতা-মাতার সাথে সদ্ব-ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হয়; তবে তাদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং বল তাদেরকে শিষ্ঠাচারপূর্ণ কথা।(সূরা বনি ইসরাঈল-২৩)


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
মাতাপিতার সাথে সর্বদা উত্তম আচরণ করবেন। তাদের সাথে কখনই দুর্ব্যবহার বা রাগ করবেন না। 
মাতাপিতা আপনাকে শত বিপদগ্রস্ত করলেও আপনি তাদের সাথে উত্তম ও সর্বোত্তম আচরণ করবেন। প্রশ্নের বিবরণমতে আপনি আপনার মায়ের সাথে এরপরও উত্তম আচরণ করবেন। মায়ের হেদায়েতের জন্য দু'আ করবেন। আপনি রুকইয়াহ করবেন, তাহলে সেহের আপনার কোনো ক্ষতিই করতে পারবেন না ইনশাআল্লাহ। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...