আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
73 views
in সালাত(Prayer) by (18 points)

সম্মানিত হুজুর, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
নামাজ সংক্রান্ত কয়েকটি বিষয়ে আমার কিছু জিজ্ঞাসা আছে। দয়া করে শরিয়তের আলোকে দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হবো।

১. ফরজ বা তারাবিহ সালাতে অনেক সময় ইমাম সাহেব খুব দ্রুত সালাম ফিরান। আমি স্বাভাবিক গতিতে দরুদ শরিফ পড়তে পড়তেই তিনি সালাম শেষ করে ফেলেন। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে ধীরে পড়ি না। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

২. যদি ফজরের সালাতে জামাতে শরিক হতে গিয়ে দ্বিতীয় রাকাত পাই, তাহলে ফজরের সুন্নত সালাত কখন আদায় করব?
আর যদি জামাত শুরু হয়ে যায়, তখন কি আগে সুন্নত পড়ব, নাকি সরাসরি ফরজে শরিক হব? একইভাবে

  • ফজরের ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নত,

  • যোহরের ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত,

  • এশার ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত
    জামাত শুরু হয়ে গেলে এগুলোর হুকুম কী?

৩. জুমার নামাজ মোট কত রাকাত? ফরজের আগে ও পরে কত রাকাত সুন্নত রয়েছে? এছাড়া, জুমার নামাজ শেষে অন্যান্য ফরজ নামাজের মতো ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার আমল কি করতে হবে?

৪. ইমাম সাহেব যখন তাকবির (আল্লাহু আকবার) বলেন, তখন কি মুক্তাদিদেরও মনে মনে তাকবির বলা জরুরি? রুকু ও সিজদায় যাওয়ার সময়ও কি তাকবির বলতে হবে?

৫. জামাতে এসে যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় পাই, তাহলে কি শুধু “আল্লাহু আকবার” বলে সরাসরি রুকুতে চলে যাবো, নাকি আগে সানা পড়ব? যদি সানা পড়তে পড়তে ইমাম রুকু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে যান, তখন কী করণীয়?

৬. ফজরের নামাজ যদি কাজা হয়ে যায়, পরে আদায় করার সময় কি ২ রাকাত সুন্নতসহ ২ রাকাত ফরজ কাজা পড়তে হবে? অন্য নামাজগুলোর (যোহর, মাগরিব, এশা) কাজার ক্ষেত্রে কি শুধু ফরজ আদায় করলেই যথেষ্ট হবে, নাকি সুন্নতও আদায় করতে হবে?


আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দিন। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (770,460 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

(০১)
হাদীস শরীফে এসেছেঃ 

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، - الْمَعْنَى - عَنْ وُهَيْبٍ، عَنْ مُصْعَبِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم " إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا وَلَا تُكَبِّرُوا حَتَّى يُكَبِّرَ وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا وَلَا تَرْكَعُوا حَتَّى يَرْكَعَ وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ فَقُولُوا اللهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ " . قَالَ مُسْلِمٌ " وَلَكَ الْحَمْدُ " . " وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَلَا تَسْجُدُوا حَتَّى يَسْجُدَ وَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا وَإِذَا صَلَّى قَاعِدًا فَصَلُّوا قُعُودًا أَجْمَعُونَ " . - صحيح
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ ইমাম এজন্যই নিয়োগ করা হয়, যেন তার অনুসরণ করা হয়। কাজেই ইমাম তাকবীর বললে তখন তোমরাও তাকবীর বলবে। ইমাম তাকবীর না বলা পর্যন্ত তোমরা তাকবীর বলবে না। ইমাম রুকু' করলে তোমরাও রুকু' করবে। ইমাম রুকু' না করা পর্যন্ত তোমরা রুকু‘ করবে না। ইমাম ‘‘সামিআলাহু লিমান হামিদাহ্’’ বললে তোমরা বলবে, ‘‘আল্লাহুম্মা রব্বানা লাকাল হামদ’’। মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছেঃ ‘‘ওয়া লাকাল হামদ’’। ইমাম সাজদাহ্ করলে তোমরাও সাজদাহ্ করবে। ইমাম সাজদাহ্ না করা পর্যন্ততোমরা সিজদাহ্ করবে না। ইমাম দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে। আর বসে আদায় করলে তোমরাও বসে আদায় করবে। 
(আবু দাউদ ৬০৩,মুসনাদে আহমাদ (২/৩৪০)

عَنْ أَنَسٍ قَالَ: صَلّى بِنَا رَسُولُ اللّهِ ﷺ ذَاتَ يَوْمٍ فَلَمَّا قَضى صَلَاتَه أَقْبَلَ عَلَيْنَا بِوَجْهِه فَقَالَ: أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي إِمَامُكُمْ فَلَا تَسْبِقُونِىْ بِالرُّكُوعِ وَلَا بِالسُّجُودِ وَلَا بِالْقِيَامِ وَلَا بِالِانْصِرَافِ: فَإِنِّىْ أَرَاكُمْ أَمَامِىْ وَمِنْ خَلْفِىْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ

আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায় করালেন। সলাত শেষে তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসলেন এবং বললেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদের ইমাম। তাই তোমরা রুকূ‘ করার সময়, সাজদাহ্ (সিজদা/সেজদা) করার সময়, দাঁড়াবার সময় সালাম ফিরাবার সময় আমার আগে যাবে না, আমি নিশ্চয়ই তোমাদেরকে আমার সম্মুখ দিয়ে পেছন দিক দিয়ে দেখে থাকি।
(মুসলিম ৪২৬.মিশকাত ১১৩৭)

حِبَّانُ بْنُ مُوسَى قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ قَالَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عِتْبَانَ بْنِ مَالِكٍ قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَسَلَّمْنَا حِينَ سَلَّمَ.

ইতবান ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর সঙ্গে সালাত আদায় করেছি। তিনি যখন সালাম ফিরান তখন আমরাও সালাম ফিরাই। (বুখারী শরীফ ৮৩৮.আধুনিক প্রকাশনীঃ৭৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৯৯)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই,
প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনি যেহেতু তাশাহুদ পড়া শেষ করেছেন এবং দুরুদ শরীফ পড়া শুরু করেছেন, সুতরাং এমতাবস্থায় ইমামের সাথে সালাম ফেরানো আপনার জন্য আবশ্যক।

وفی الھندیۃ (۹۰/۱): ولو سلم الامام قبل ان یفرغ المقتدی من الدعاء الذی یکون بعد التشھد أو قبل أن یصلی علی النبی ﷺ فانہ یسلم مع الامام۔

মর্মার্থঃ-
যদি ইমাম মুক্তাদির দোয়ায়ে মাসুরা বা দরূদ শরীফ পড়া শেষ হওয়ার পূর্বেই সালাম ফিরায়, সেক্ষেত্রে মুক্তাদী ইমামের সাথেই সালাম ফিরাবে।

(০২)
এক্ষেত্রে মসজিদে গিয়ে যদি দেখা যায় জামা'আত দাড়িয়ে গিয়েছে ,তাহলে দেখতে হবে যে যদি ইমামের সাথে শেষ বৈঠকে শরীক হওয়ার আশা থাকে,তাহলে এক্ষেত্রে আগে সুন্নাত পড়বে,তারপর জামা'আতে শরিক হবেন।

যদি শেষ বৈঠকে শরীক হওয়ার আশা না থাকে,বরং জামা'আত শেষ হওয়ার আশংকা থাকে,তাহলে আগে সুন্নাত পড়বেননা।  

আরো জানুনঃ- 

এক্ষেত্রে ফজরের ফরজের আগে ২ রাকাত সুন্নত করতে না পারলে সেক্ষেত্রে সূর্য উদয়ের পর ইশরাকের ওয়াক্তে হতে সেদিন জোহরের ওয়াক্ত আসার আগ পর্যন্ত যেকোনো সময় সেদিনের ফজরের দুই রাকাত সুন্নাতের কাজা আদায় করে নিতে পারবেন।

যোহরের ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত আদায় করতে না পারলে, সেক্ষেত্রে যোহরের ফরজের পর দুই রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করে যোহরের পূর্বের সেই চার রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করবেন।

এশার ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নত
জামাত শুরু হয়ে গেলে সেটি আদায় করতে হবেনা।

(০৩)
জুম'আর ফরজ নামাজ দুই রাকাত।

★কাবলাল জুম'আ তথা জুম'আর নামাজের আগে চার রাকাত সুন্নাত।

হযরত ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন,

كان النبي صلى الله عليه و سلم يركع قبل الجمعة أربعا . لا يفصل في شيء منهن

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর পূর্বে চার রাকাত পড়তেন। মাঝে সালাম ফেরাতেন না। ইবনে মাজাহ, হাদীস নং ১১২৯, তাবারানী, আল মুজামুল কাবীর, হাদীস নং ১৬৪০। 

★বা'দাল জুম'আ তথা জুম'আর নামাজের পরেও চার রাকাত সুন্নাত। 
তবে এই ব্যাপারে বিভিন্ন হাদীস থাকায় ফুকাহায়ে কেরামগন দের মাঝে মতবিরোধ রয়েছে। 
ইমাম আবু ইউসুফ রহঃ এর মতে  জুম'আর নামাজের পরেও চার রাকাত + দুই রাকাত মোট ৬ রাকাত সুন্নাত। এই মতকেই ফুকাহায়ে কেরামগন প্রাধান্য দিয়েছেন।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ  

حدثنا علي بن سعيد الرازي قال نا سليمان بن عمر بن خالد الرقي قال نا عتاب بن بشير عن خصيف عن ابي عبيدة عن عبد الله عن النبي صلى الله عليه و سلم أنه كان يصلي قبل الجمعة اربعا وبعدها أربعا

অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমআর পূর্বে চার রাকাত ও পরে চার রাকাত পড়তেন। (মু'জামুল আওসাত,হাদীস নং ৩৯৫৯)

আবূ আব্দুর রহমান সুলামী র. বলেন,

كان عبد الله يأمرنا أن نصلي قبل الجمعة أربعا ، وبعدها أربعا ، حتى جاءنا عليّ فأمرنا أن نصلي بعدها ركعتين ثم أربعا . أخرجه عبد الرزاق (٥٥٢٥) وإسناده صحيح.

অর্থ : আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আমাদেরকে কাবলাল জুমআ চার রাকাত, বা’দাল জুমআ চার রাকাত পড়ার নির্দেশ দিতেন। অবশেষে হযরত আলী রা. যখন আমাদের এখানে (কূফায়) আসলেন, তখন তিনি আমাদেরকে বা’দাল জুমআ দুই রাকাত তারপর চার রাকাত (মোট ছয় রাকাত) পড়ার আদেশ দিয়েছেন। মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, হাদীস নং ৫৫২৫। এর সনদ সহীহ।

বিস্তারিত জানুনঃ

জুমার নামাজ শেষে অন্যান্য ফরজ নামাজের মতো ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ ও ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পড়ার আমল করতে হবে।

(০৪)
এক্ষেত্রে মুক্তাদীদের উপর সেই তাকবীর বলা আবশ্যক নয় বরং সুন্নত।

এক্ষেত্রে তারা এমন আওয়াজে তাকবির বলবে, যাতে করে নিজের আওয়াজ পর্যন্ত আওয়াজ আসে।

উল্লেখ্য যদি তারা এভাবে তাকবির নাও বলে, তবুও তাদের নামাজ হয়ে যাবে।

(০৫)
জামাতে এসে যদি ইমামকে রুকু অবস্থায় পান, সেক্ষেত্রে আল্লাহু আকবার বলে তাকবীরে তাহরীমা বেঁধে তারপর রুকুর তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাবেন। 

(০৬)
ফজরের নামাজ যদি কাজা হয়ে যায়, পরে আপনি যদি সেদিন যোহরের ওয়াক্ত আসার আগেই সেদিনের ফজরের নামাজের কাজা আদায় করেন সেক্ষেত্রে সেদিনের ফজরের ফরজ নামাজের কাজা আদায় করার সময় ২ রাকাত সুন্নতসহ ২ রাকাত ফরজ কাজা পড়বেন।

তবে অন্য কোন ওয়াক্তে বা অন্য কোন দিনে সেই ফজরের নামাজের কাজা আদায় করলে সেক্ষেত্রে শুধুমাত্র ফরজ দুই রাকাত আদায় করে নিতে হবে।

অন্য নামাজগুলোর (যোহর, মাগরিব, এশা) কাজার ক্ষেত্রে শুধু ফরজ আদায় করতে হবে। সুন্নত আদায় করতে হবেনা।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...