জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
ভালো নাম রাখা পিতা-মাতার সর্বপ্রথম দায়িত্ব। আমরা এভাবেও বলতে পারি যে, পিতা-মাতার উপর সন্তানের সর্বপ্রথম হক হচ্ছে, তার জন্য সুন্দর নাম নির্বাচন করা।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. ও আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
من حق الولد على الوالد أن يحسن اسمه ويحسن أدبه.
অর্থ : সন্তানের সুন্দর নাম রাখা ও তার উত্তম তারবিয়াতের ব্যবস্থা করা বাবার উপর সন্তানের হক। -মুসনাদে বাযযার (আলবাহরুয যাখখার), হাদীস ৮৫৪০
হযরত আবুদ দারদা রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنّكُمْ تُدْعَوْنَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِأَسْمَائِكُمْ، وَأَسْمَاءِ آبَائِكُمْ، فَأَحْسِنُوا أَسْمَاءَكُمْ.
কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে ডাকা হবে তোমাদের ও তোমাদের বাবার নাম নিয়ে (অর্থাৎ এভাবে ডাকা হবে- অমুকের ছেলে অমুক)। তাই তোমরা নিজেদের জন্য সুন্দর নাম রাখ। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪৯৪৮
,
আরো জানুনঃ
★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
খেজুর দিয়ে তাহনিক করানো উত্তম। যদি খেজুর না থাকে তাহলে মধু দেওয়া যাবে।
তাহনিক করানো সুন্নাহ, অর্থাৎ নবজাতকের মুখে খেজুর চিবিয়ে নরম করে দেওয়া। খেজুর না থাকলে মিষ্টি দ্রব্যের মধ্যে মধু দেওয়া উত্তম। (সহিহ বুখারি, ২/৮২১)
হজরত আবু মুসা আশআরি রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমার একটি ছেলে জন্ম নিল, আমি তাকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নিয়ে এলাম, তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার নাম রাখেন ইবরাহীম এবং তাকে তাহনীক করান খেজুর দিয়ে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস, ৫৭৩৯, মুসন্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস, -২৩৯৪৮)
আপনি নিজে যদি তাহনিক করান,সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেনঃ-
প্রথমে খেজুর প্রস্তুত করা:
পাকা ও নরম খেজুর নিতে হবে।
যদি শক্ত হয়, তবে ভালোভাবে চিবিয়ে বা মিহি করে নরম করতে হবে।
খেজুর না থাকলে মধু বা অন্য মিষ্টি খাবার ব্যবহার করা যেতে পারে (তবে খেজুরই উত্তম)।
★নরম করা খেজুর আঙুলের ডগায় নিয়ে শিশুর মুখের তালুতে (উপরের ভেতরের অংশে) হালকাভাবে ঘষে দেওয়া হবে।
খুব অল্প পরিমাণ দেওয়া হবে যাতে শিশু সহজে গিলতে পারে।
শিশুর জন্মের পর যত দ্রুত সম্ভব করা ভালো।
অনেক সময় এটি আযানের আগে বা পরে করা হয়, তবে তাহনিকের জন্য আযান দেওয়া শর্ত নয়।
তাহনিকের পর শিশুর জন্য কল্যাণ, ঈমান, দীর্ঘ জীবন ও নেককার হওয়ার দোয়া করা সুন্নাহ।
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
আসবা বিনতে আবি বকর (রাঃ) বলেন:
"আমি আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রাঃ)-কে জন্ম দেওয়ার পর তাকে নবী ﷺ-এর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি খেজুর চাইলেন, চিবিয়ে তার মুখে দিলেন এবং শিশুর জন্য দোয়া করলেন।"
(সহীহ বুখারী: ৫৪৬৭)